ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত -কর্নেল (অব.) অলি

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি আয়োজিত মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম -সংগ্রাম

* বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বর্তমানে ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হয়েছে-মিয়া গোলাম পরওয়ার
* খালেদা জিয়াকে আটক রেখে প্রধানমন্ত্রী ভুল করছেন- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
* নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন চাই-সৈয়দ ইব্রাহীম
* ভোট ডাকাতির এই সংসদ একদিনের জন্যও মানি না-মান্না
* হাসিনার বেয়াই রাজাকার আর জামায়াত সঙ্গে থাকলেই বলে জঙ্গি-আলাল
স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি জোটকে শক্তিশালী করতে নিজের প্রস্তুতির কথা জানালেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। অলি আহমদ বলেন, বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জেলে থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া সম্ভব নয়। তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডন থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকাও সম্ভব নয়। সুতরাং আমাদেরই সেই দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমি সেই দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রস্তুত। আমি মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিতে গিয়েও পারি নাই, এবার স্বৈরশাসকের হাতে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। বিএনপির যারা আছেন, আপনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। কারা কারা আসবেন, আমাদের সাথে আসেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এলডিপি আয়োজিত মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এইসব কথা বলেন।
গোলটেবিল আলোচনায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া মোহাম্মাদ গোলাম পারোয়ার, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, নিলুফার চৌধুরী মনি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, বিএনপিকে অনুরোধ করব, বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করব; আপনারা নেতৃত্ব দেন, তা না হলে আমাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না।
অলি বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক জায়গায় একত্রিত হোন। আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন। তা না হলে আপনাদের হাত শক্তিশালী করার জন্য আমাদের বলেন, আমরা সেটা করতে রাজি।
অলি বলেন, এলডিপিকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। আপনারা নতুনভাবে এটার নামকরণ করেন। আমার নেতৃত্বে আসতে হবে, এটাও নয়। আপনাদের মধ্যে যদি কেউ নেতৃত্ব দিতে পারে, তার নেতৃত্বেও আমরা কাজ করতে প্রস্তুত; যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে জাতির কাছে। যে জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেনি, যার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যে কারও সাথে আপস করবে না, দুর্নীতির কাছে মাথা নত করবে না। তাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে আমার কোনো আপত্তি নেই।
বিএনপি সংসদে গিয়ে সরকারকে বৈধতা দিয়েছে’ মন্তব্য করে দলটির সাবেক এ নেতা বলেন, আজ এখানে ২০ দলীয় জোটের অনেকে আছেন। আপনাদের অনুরোধ করব, অন্যদিকে তাকানোর সুযোগ নেই। আপনারা এখানে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে বিভিন্নভাবে ব্যাখা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আসলে আপনাদের এটার মূল স্পিরিটটা দেখতে হবে। বিএনপি সংসদে গেছে, এটাই হলো বাস্তবতা। বিএনপি এ সরকারকে বৈধতা দিয়েছে- এটাই হলো বাস্তবতা।
তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন মানে এটা নয় যে, আড়াই বছর পরে নির্বাচন হবে। এটা কালও হতে পারে, পরশুও হতে পারে। আপনাদের কে বলেছে আগামী নির্বাচনও এ সরকারের অধীনে হবে? এ সরকারের অধীনে তো আমরা নির্বাচন করে দেখলাম। এরা তো দিনের বেলা নির্বাচন করে না। কারণ তারা দিনের আলোতে ভয় পায়, রাতের বেলা অন্ধকারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তারা নিশাচর, তাই আমাদেরও মশাল হাতে নিয়ে বের হতে হবে। নিশাচরদের তালাশ করে বের করতে হবে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোটকে জনগণের সেনটিমেন্ট (অনুভূতি) বুঝে নিজেদের কৌশল স্পষ্ট করার তাগিদ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরওয়ার। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পারোয়ার বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলনে জামায়াত ইসলামী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সঙ্গে ছিল এবং থাকবে।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন এই ইস্যুতে যে গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে আমি মনে করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এটা কোন আদালতের বিষয় নয় এটি একটি ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ঐক্যফ্রন্ট বলি আর ২০ দল বলি, আমাদের সবাইকেই কৌশলের বিষয়ে স্পষ্ট হতে হবে। জনগণের সঙ্গে আমরা রাজনীতি করি, কিন্তু তাদের সেন্টিমেন্ট যদি না বুঝি সেটাকে মানুষ কোনো ভাবেই কৌশল হিসেবে নেয় না।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনার টেলিফোন আলাপ যেটা মিডিয়ায় এসেছে সেটা প্রমাণ করে সাবেক প্রধান বিচারপতির বিদায় এবং বাংলাদেশের আদালত অঙ্গনে যা কিছু ঘটে যাচ্ছে এতে প্রমাণিত হয়, বেগম জিয়া আদালতের কাছে আটকে যাননি, তিনি মূলত ফ্যাসিবাদের জিঞ্জিরায় আবদ্ধ হয়ে আছেন। পরওয়ার আরও বলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলন একই সংগ্রাম। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বর্তমানে ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হয়েছে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারপাশে ‘‘র’’ পরিবেষ্টিত। তাদের চিন্তা চেতনার কারণেই খালেদা জিয়া আজ জেলে। আর খালেদা জিয়াকে বের করে আনতে সামগ্রিক আন্দোলনের প্রয়োজন। সেই আন্দোলনের মূল ভূমিকা বিএনপিকেই রাখতে হবে। বিএনপিকে সব প্রকার ভুল ত্রুটি ভুলে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কাজ করতে হবে।
খালেদা জিয়াকে আটক রেখে প্রধানমন্ত্রী ভুল করছেন-এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) মহাভুল করছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন। তারপর তিনি যখন গ্রেফতার হন তখন সেনানিবাসে আবদ্ধ ছিলেন। এরপর ধানমন্ডির বাড়িতে দু’জনেই একসঙ্গে ছিলেন। কিন্তু আজ একজন বন্দি আর একজন বাহিরে। আপনি আত্মরক্ষা করতে চান তাহলে আর দেরি না করে খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যবস্থা করে দিন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আজ আপনি যে স্বপ্ন দেখছেন সেসব স্বপ্ন বিভিন্নভাবে ভুল হয়ে যাচ্ছে। একদিন আপনি বলেছেন দেশে চিকিৎসা নেবেন, কিন্তু আপনি দেশে চিকিৎসা নিতে পারেননি। কেন পারেননি? আজ আপনি উন্নয়নের কথা বলছেন, এদিকে কৃষক নিজেই ধান পুড়িয়ে ফেলছে। ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখে হওয়াটা ঐক্যফ্রন্টের ব্যর্থতা। আর কোনো সুযোগ নেই, তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সেই আন্দোলনের মূল ভূমিকা বিএনপিকেই রাখতে হবে। বিএনপিকে সব ধরনের ভুল ত্রুটি ভুলে গিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কাজ করতে হবে। সরকারের প্রতি উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, দেশে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। কৃষক নিজেই ধান পুড়িয়ে ফেলছে।
দেশে লুটপাটের উন্নয়ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যর আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ৬ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতুর ব্যয় এখন ৪০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। আমরা কিছু তৈরি করতে পারছি না, দেশটা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। তারপরও তারা উন্নয়ন উন্নয়ন করছে। এ উন্নয়ন হচ্ছে লুটপাটের উন্নয়ন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা বলেন, সরকারদলীয় লোক উন্নয়ন উন্নয়ন করে। এ উন্নয়ন হচ্ছে লুটপাটের উন্নয়ন। খুন ধর্ষণ গুমের উন্নয়ন। পদ্মা সেতুর এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হতে ৫০/৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ হবে। অথচ ভারতের আসাম অরুণাচলের ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুতে তাদের খরচ হয়েছে ১১২৮ কোটি টাকা। আর আমাদের এখানে পদ্মা সেতু ৬ কিলোমিটার খরচ হচ্ছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। বাকিটা চুরি হচ্ছে।
মান্না বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট চুরি নতুন কিছু নয় এরা ৭৩ সালের নির্বাচনেও ভোট চুরি করেছে। আওয়ামী লীগ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ভোট ২৯ তারিখ রাতেই ডাকাতি করেছে। এই নির্বাচন মানি না, ভোট ডাকাতির এই সংসদ একদিনের জন্যও মানি না। এক লাখ দুই লাখ টাকা বেতনের জন্য ৪ জন বিএনপির এমপি শপথ না নিলে কি হতো? সরকার পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেনে নিচ্ছে না। দীর্ঘ ৯ মাস যাবৎ বেতন দিচ্ছে না এটা অন্যায়। পাটকল শ্রমিকদের দাবির সাথে একমত।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, আমার দৃষ্টিতে ২০ দলের প্রধান সমন্বয়কারী কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম। এটা আমি নির্বাচনের আগে বলেছি, কিন্তু এটা লিখিত, পঠিতভাবে বলা হচ্ছে না।  তিনি বলেন, ‘২০ দলীয় জোট এই মুহূর্তে কার্যকারিতার লেভেল থেকে নিচে আছে। এটাকে অ্যাফেক্টিভ করা হবে কি হবে না, জানি না। কবে হবে বা হবে না তার জন্য আমি বসে থাকতে পারব না।
বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য কার্যকর আন্দোলন দাবি করে বিএনপি জোটের এই শরিক নেতা বলেন, গণতন্ত্রের মুক্তি এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সমান্তরাল হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের মুক্তি হলে বেগম জিয়ার মুক্তি হবে। তবে ইলেকশনের জন্য বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি অপেক্ষা করতে হবে না। কারণ বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি অগ্রাধিকার। এ জন্য আমাদের যা যা করণীয় তা করা দরকার। মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন মানে পাঁচ বছরের মাঝামাঝি হবে- এমন কোনো কথা নেই। এটা একটি রাজনৈতিক শব্দ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, যেদিনই আমরা আদায় করতে পারি সেদিনই আমরা নির্বাচন চাই। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন চাই।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই হচ্ছেন একজন রাজাকার, শেখ সেলিমের বিয়াই হচ্ছেন রাজাকার। অথচ এগুলো নিয়ে কোথাও কোনও কথা নেই। আর জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে থাকলেই বলা হয় ওরা ‘জঙ্গি। 
তিনি বলেন, আসলে ব্যাপার হচ্ছে- আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলে সব মাপ, আর বিএনপির সঙ্গে থাকলেই আখ্যা দেয়া হয় জঙ্গি। আলাল বলেন, শেখ হাসিনা তো বিভীষণের সঙ্গে সংসার করেন। উনার তো রাজনীতিতে কোনও ব্যাকরণ নেই। আর আমরা রাজনীতির ব্যাকরণ নিয়ে থাকি। নিজেদের মধ্যে সমালোচনা করি। এইচটি ইমাম হচ্ছেন শেখ হাসিনার ইমাম, বিয়াই হচ্ছেন রাজাকার। এগুলো কেউ বলে না।
এ সময় তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন সকালে আমাদেরই এক নেতা কিভাবে বললেন নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে? কিভাবে বললেন সংসদে অংশগ্রহণ না করা আমাদের ভুল ছিল? এগুলো আমাদেরকে আগে না বলে মাইকে কেন বললেন? আগে আমাদেরকে বলবেন, পরে মাইকে বলবেন।
ছাত্রলীগ অন্যায় করলে সেটা কোনও দোষের হয় না- আওয়ামী লীগের এই অঙ্গ সংগঠনটির প্রতি ক্ষমতাসীনদের এমন মনোভাবের সমালোচনা করে যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী বদরুল প্রেমে ব্যর্থ হয়ে খাদিজাকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা ১০১টি ধর্ষণ করার পরও মিষ্টি বিলি করলে কোনও দোষ হয় না।
নুসরাতের মত মেয়েদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগের সমাবেশে ছাত্রলীগ দ্বারা স্কুলছাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। তাদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীকালে কোনও বিচার করা হয় না। এ সবকিছুর মূলে একটাই কারণ, আর তা হচ্ছে ওরা ছাত্রলীগ করে। আসলে আজকে দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে একই জায়গায় আনা হয়েছে, যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভবনাটুকুও অবশিষ্ট নেই।
এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলির কাছে প্রশ্ন রেখে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে দেশের জন্য দেশের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলেন। সেই গণতন্ত্র ৭১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীকালে আমাদের সময় এবং এখনেও হচ্ছে। আপনি যদি আপনার সঠিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন তাহলে অপরাধের ভাগিদার আপনি কখনোই হবেন না। আর যদি সঠিক দায়িত্ব পালন না করে থাকেন তাহলে সমস্ত অপরাধের ভাগিদার আপনিও।
সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি বলেন, বর্তমান স্বৈরাচারি সরকার আজকের জাতীয় জীবনের সমস্যা। আজকে সরকারি দলের লোকজন বেগম খালেদা জিয়ার চেয়ে বেশি অপরাধ করেও বাহিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ বেগম জিয়া জামিনই পাচ্ছে না। খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ