ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর উত্তরখানে মা-মেয়ে-ছেলের মৃত্যু রহস্য নিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকার এক বাসা থেকে মা-মেয়ে ও ছেলের মৃত্যুর কারণ বিষয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ।
এর আগে ১৩ মে তিনজনের ময়নাতদন্ত শেষে সোহেল মাহমুদ জানান, ওই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। দুইজনকে শ্বাসরোধে ও একজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে তাদের মৃত্যু হয়।
উত্তরখানের ওই বাসা পরিদর্শন শেষে ফরেনসিক মেডিসিনের এই চিকিৎসক জানান, ওই তিনজনের মধ্যে দুইজনকে হত্যার পর একজন আত্মহত্যা করেছেন। ওই চিকিৎসকের ধারণা, মা হয়ত দুই সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন অথবা ছেলে তার মা ও বোনকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার উত্তরখানের ওই বাসা পরিদর্শন করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। এর পরদিন গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল এবং পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী দেখা যায়, দরজা লক ছিল ও ভেতর থেকে ছিটকানি মারা ছিল। শাবল দিয়ে তা ভাঙা হয়েছে। দুইটি কক্ষের বিছানায় রক্ত ও বমি পাওয়া গেছে। সেগুলো সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিআইডিতে দেওয়া হয়েছে।’
ঢামেকের এই চিকিৎসক বলেন, ‘ডাইনিং টেবিলে কীটনাশকের বোতল ও ঘুমের ওষুধের প্যাকেটে দুটো ওষুধ পাওয়া গেছে। ওই প্যাকেটে দশটি ট্যাবলেট থাকার কথা ছিল। আটটি নেই। পুলিশ দুটি ছুরি ও একটি বটি জব্দ করেছে। তা থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘তিনদিন পর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার কারণে আঘাতের আলামত অনেক বদলে গেছে। কিন্তু দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা, ভেতরে চিরকুট পাওয়া এসব দেখে আত্মহত্যা ধারণা হচ্ছে। কিন্তু ছেলের গলাকাটার ধরন দেখে আমাদের সন্দেহ আছে। এটি আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না। সব মিলিয়ে বলা যায়, কেউ একজন দুইজনকে মেরে আত্মহত্যা করেছে। রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্তারিত বলা যাবে।’
রোববার রাতে (১২ মে) উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকার একটি বাসা থেকে জাহানার বেগম মুক্তা (৫০), তার মেয়ে তাসফিয়া সুলতানা মীম (২০) ও ছেলে মুহিব হাসানের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ