ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবং রোমাঞ্চ

মোহাম্মদ সুমন বাকী : ১৯৭৫ সালটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তা ব্যাট বলের খেলা ক্রিকেটের (গাংগুটি) জন্য। এই ধারায় সেই ১৯৭৫ সাল খেলা পাগল ভক্তদের কাছে খুশিময়। বলা যায়, দারুণ মহাউৎসব। এ অবস্থায় বিশ্বকাপ আযোজনের মধ্যে দিয়ে ক্রিকেট (গাংগুটি) ভুবনে মহামিলনমেলা ঘটে। এখন পর্যন্ত যা বজায় রয়েছে। অবশ্য সেটা আয়োজন করার ধারাতে। তা বলাবাহুল্য। যা সবার বোধগম্য। ক্রিকেটের বিশ্বকাপ আয়োজন চার বছর পর পর। আকর্ষণীয় ওয়ানডে লড়াইকে ঘিরে আইসিসির র্ফমূলাটা এমন । বিন্দু পরিমাণ নড়চড় নেই। এখনো বজায় রয়েছে সেটা। এর ভালোবাসার জোয়ার ধরে রাখতে ক্রীড়া পাগল প্রেমীরা একমাত্র ভরসা। গ্যালারীর আসনের চিত্র তা বার বার আভাস দিয়েছে। যুগের যুগ ধরে। ইতিহাসকে সাক্ষী বানিয়ে। ১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়। এর প্রথম আয়োজন করে ইংল্যান্ড। সাদা শার্ট ও ডোলা প্যান্ট ছিলো প্লেয়ারদের পোশাক। যা স্বপ্ন পূরণের কঠিন লড়াইয়ের মঞ্চ। সেটা শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার জন্য। প্রথম আয়োজক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় ইংল্যান্ড। তা জানা আছে সবার। ওয়ানডে ঘরনার ১৯৭৫ বিশ্বকাপ জিতে সোনালী ইতিহাস বনে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যারা কয়েকটি রাষ্ট্র মিলে ক্রিকেট (গাংগুটি) দল। এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া রানার্স-আপ ট্রফি পায়। এই হলো ব্যাট-বলের ওয়ানডে লড়াইয়ের সূচনার বিশ্বকাপের ইতিহাস। যা আর থেমে থাকেনি। সেটা চলেছে আপন মনে। ট্রেনের বগির মতো আকারে এর আয়োজনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তা এসে পৌঁছায় এক শতাব্দী হতে আরেক শতাব্দীতে। যা কলমের লেখনীতে খেলার জগৎ এর পুরো পাতা শেষ করা যাবে না। আইসিসি এবং বিসিবি কর্মকর্তাদের অভিমত কি এ বিষয়ে? বিশ্বেকাপের ইতিহাস সংরক্ষণ করাটা অনেক কঠিন কাজ। সেটা একের পর এক রেকর্ডকে ঘিরে রেখে। চার ছক্কা, রান আউট, আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অন্য ভূষণের তারকাসহ লেখার বিষয় শেষ নেই ক্রীড়ার এই রাজ্যে। তা ট্রেনের সেই লম্বা বগির মতো। অক্ষরে লেখার পরিমাণ শুধু বৃদ্ধি পাবে। এর বিপরীত চিত্রে বিন্দু পরিমান কমবে না। খেলা পাগল ভক্তরা কি বলেন? এমন আলোকিত ধারার আলোকে ২০১৯ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ওয়ানডে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ কোথায়? কলমের লেখনীতে প্রশ্নটি বার বার জাগে! চলতি মে মাসের শেষ দিকে ওয়ানডে ক্রিকেটের বৃহৎ আসরটি সবুজ ঘাসের মাঠের ছোঁয়া পাবে। অথচ রোমাঞ্চ নেই ! যা কি ভাবা যায়? প্রশ্নের উত্তরে সংগীতে শিল্পী পৌষী বলেন, রোমাঞ্চ থাকবে কী করে! ক্রীড়া ম্যাগাজিনগুলো নিয়মিত বের হয় না। বলতে গেলে সেটা এক প্রকার বন্ধ। আমাদের কাছে ক্রীড়া বিষয়ক পত্রিকা ছিলো রোমাঞ্চ পাবার রসদ। অবশ্য সেটা দেখা গেছে বছর বছর নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশ করার বেলায়। স্পোর্টস ম্যাগাজিনগুলো নিয়মিত বের হচ্ছে না। এর ফলে বিশ্বকাপের নানা ইতিহাস অজানা থেকে যাচ্ছে এই সময়ে। কি বলেন? আমি মনে করি দেশের শীর্ষ দৈনিক পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশ্বকাপের ম্যাচ নিউজ এবং কারেন্ট রেকর্ড তুলে ধরে। সে তুলনায় ম্যাগাজিনগুলো এক ধাপ এগিয়ে থাকে। সব রেকর্ড বিস্তারিত ভাবে লেখনীর পাতায় স্থান দিয়ে। কথাটি অপ্রিয় সত্য। তা আমাদের বোধগম্য। তবে দৈনিক পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারেন্ট প্রচার দিচ্ছে। সংগীত শিল্পী  পৌষীরসঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সুরে কথা বলেছেন, আফরিন, সায়কা, নজরুল, তোহা, ফারুক, ইমন বড়ুয়া নিশান মোবারক, আজিজরা। তাদের হৃদয়ের আহবান দেশের স্পোর্টস ম্যাগাজিন গুলো নিয়মিত প্রকাশ করা হোক। সেটা প্রজন্ম হতে প্রজন্মে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের রোমাঞ্চ বজায় রাখবে। যা ধারাবাহিক ভাবে। তা মনে করেন তারা। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক ছিলো ইংল্যান্ড। তখন ক্রিকেটের তুলনায় ইংলিশ মিডিয়ায় ঘরোয়া ফুটবল লীগের প্রচারটা ছিলো চোখে পড়ার মতো। যা বিশ্বকে অবাক করে! সেটা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা সমান তালে দু’টো চলে। অবশ্য বৃটিশ মিডিয়া এমন পদক্ষেপ নেয় ক্রিকেট বিশ্বকাপ হতে ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর! এ বিষয়ে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠন এবং ব্যাংকার ফৌজিয়া বাকী লিমার মন্তব্য, বৃটিশ মিডিয়ার এমন কৌশল নেয়াটা স্বাভাবিক। কারন ফুটবলের জনক ইংল্যান্ড। সেই সুবাধে তারা বিশ্বের জনপ্রিয় এই খেলাকে প্রাধান্য দিবেই। আর ক্রিকেটের জোয়ারটা বেশি পাক-ভারত ইপমহাদেশে। আমার মতে এ অঞ্চলের মিডিয়া যথেষ্ট ক্রিকেটকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে। আফসানা ইসলাম সিমলা। তিনি ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের  সাবেক ছাত্রী। অনার্স সহ মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন সেখানে। সিমলা ভাবছেন অন্য কথা। আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সাফল্য ও ইনজুরি নিয়ে। তার প্রশ্ন বিসিবির সেদিকে খেয়াল আছে কি? এমন ধারায় দেশের অন্য ভুবনের তারকা প্লেয়াররা খুবই আশাবাদী। তাদের প্রত্যাশা ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট লড়াইয়ে সেরা চমক দেখাবে বাংলাদেশ টিম। ওয়ালী ফয়সাল, আব্দুল্লাহ আল পারভেজ, মামুনুল ইসল, জাহিদ পারভেজ, মিলন, সেন্টু, বিপ্লব, মিথিলা, বিদ্যুৎ সবুজ জামালরা লাল-সবুজ পতাকা দেশের ফুটবল ভুবনের তারকা। মাশরাফির দল সেরা সাফল্য ছিনিয়ে আনবে এবা। বুক ভরা বেঁধে রাখা স্বপ্নের বাস্তবতা পূরণে এমন আশা তাদের। এ অবস্থায আবেগের স্রোতে গা ভাসিয়ে দর্শক খোকন, আরিফ হাসান, পিংকি, মিলি, জুয়েল ভুঁইয়া, জায়েদ, দিপু, সিহাবরা বলেছেন, মাশরাফির হাতে বিশ্বকাপ। সেটা দেখতে চাই এবার। খোদার দরবারে এই প্রার্থনা আমাদের। সবাই দোয়া করবেন। মনে হয়, এমন অবস্থা থেকে বিশ্বকাপ রোমাঞ্চের যাত্রা শুরু। তা ঘিরে রাখবে ব্যাট বলের লড়াইকে। এ প্রত্যাশা সকলের। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ