ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কলাপাড়ায় স্লুইসগেট র্নিমাণের ফলে সবুজ বিপ্লবের প্রত্যাশা কৃষকের

কলাপাড়া (পটুয়াখালী): নবনির্মিত স্লুইজগেট।

এইচ,এম,হুমায়ুন কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী): সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় মানুষের কেটে গেছে জলোচ্ছ্বাসসহ সাগরের অব্যাহত ভাঙ্গন আতঙ্ক। কুয়াকাটার ভাঙ্গনরোধসহ পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে আকর্ষণীয় করতে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লতাচাপলী, ধুলাসার, কুয়াকাটায় ৩৯কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণের এ কাজ শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে। বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ করছে চায়নার চংচিং ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন (সিকো)। সাড়ে ২৪ ফুট উচ্চতায় হচ্ছে ২২ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ। যেখানে সিসি ব্লক প্লেসিং করে পর্যটকের বসার জন্য বেঞ্চি করা হবে। এসব কাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ভাঙ্গন থেকে বেড়িবাঁধ রক্ষাসহ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার এমন কাজে ঝুঁকির মুখে থাকা মানুষ রক্ষা পাবে।     
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, এ অঞ্চলের মানুষের কৃষিকাজের সুবিধার্থে নতুন নির্মিত হচ্ছে আটটি স্লুইস গেট। তিনটি স্লুইস করা হচ্ছে মেরামত। যার কাজও চলমান রয়েছে। আশাখালী ও ফাঁসিপাড়া স্লূইসের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর ফলে কৃষিকাজে আসবে অভাবনীয় অগ্রগতি এমন ধারনা রয়েছে কৃষকদের।
সুবিধাভোগী কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা জায়, সত্তরের দশকে র্নিমিত উপকূলীয় এলাকার এসব স্লুইসগেট সবই প্রায় অকেজে হয়ে পড়েছিল। জলকপাট ভেংগে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে আবাদি জমি প্লাবিত হত। শুকনা মৌসুমে লবন পানি প্রবেশ করে ক্ষেতের কস্টার্জিত ফসল নষ্ট হয়ে যেত। আবার শুকনো মৌসুমে মিস্টি পানি সংরক্ষন করে রাখতে পারতনা। নিজেদের প্রয়োজনেই কৃষকরা নিজেদের খরচে এসব জলকপাট মেরামত করত। কিন্তু অস্থায়ী এসব মেরামত ভেংগে কিংবা নস্ট হয়ে আবাদি ফসল নস্ট হত। দীর্ঘ দুই দশক ধরে কৃষকরা এমন ভোগান্তি নিয়ে কৃষিকাজ করলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিল। 
ধুলাসার ইউনিয়নে আশাখালী গ্রামের কৃষক আব্বাস হাওলাদার জানান, বর্ষায় জমিতে পানি জমে যেত। মিস্টি পানির অভাবে শুকনো মৌসুমে ক্ষেত চাষ কাজ ব্যাহত হত। এখন আশার আলো দেখছি। সরকারের এমন মহতী উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
লতাচাপলী ইউনিয়নে ফাসিপাড়া গ্রামের কৃষক আফজাল জানান, প্রতি বছর লবন পানি প্রবেশ করে রবিশষ্য ক্ষেত নষ্ট হয়ে যেত। সে চিন্তা এখন দুর হচ্ছে। একই এলাকার গৃহবধু সালেহা বেগম জানান, বর্ষা মৌসুমে ভাংগা জল কপাট দিয়ে পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর প্লাবিত হত। দুই দফা জোয়ারের পানিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হত।
কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব তালুকদার জানান, দখিনের এ জনপদের কৃষি উন্নয়নে জলকপাট বা স্লুইজগেট অপরিসীম সুবিধা দিবে। এর ফলে কৃষকদের ফসলের উৎপাদন বাড়বে। মিষ্টি পানির অভাবসহ বর্ষার জলাবদ্ধতার ক্ষতি কমে আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ