ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভূঞাপুরে ধানের ব্লাস্ট রোগ ও দাম কম থাকায় কপাল পুড়ছে কৃষকের

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: একদিকে ধানের ব্লাস্ট আর অন্যদিকে ধানের সঠিক দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ভূঞাপুরের চাষীদের। উপজেলার গোবিন্দাসী, নিকরাইল, ফলদা, অর্জুনা, অলোয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ মরা বা ব্লাস্ট রোগের কারণে ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ধান চাষে আগ্রহ হারাবে কৃষক।
ভূঞাপুর উপজেলায় এবার ১৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে সব ধরনের কৃষি উপকরণের দাম বাড়ার কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এবার প্রতি বিঘা বোরো চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি জমিতে সাধারণত ১৮ থেকে ২০ মন ধান হয়ে থাকে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু শীলা-বৃষ্টি ও ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণে কাঙ্খিত ফলন হয়নি। আর ধানের দাম কম থাকায় কৃষকদের অর্ধেকেরও বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে বোরো চায়না ধান বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০, ব্রি ধান-৫৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০, ব্রি -২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা দরে। তবে সবচেয়ে বেশি লোকসানে পড়েছে বর্গা চাষিরা। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক জমির মালিককে দেয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে তারা। তবে ধানের ব্লাস্ট রোগের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসকে দায়ী করেছেন কৃষকরা।
ব্লাস্ট রোগের পরেও ফসল মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু খরচ তোলা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট তো রয়েছেই। গ্রামের শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত মজুরি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন ব্লাস্ট রোগের ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে ধান চাষে কৃষকদের আস্থা ও উৎসাহ যোগাতে ধানের ন্যয্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি দেয়া সময়ের দাবি বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ