ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে ঈদকে সামনে রেখে এখনো জমে ওঠেনি তাঁত কাপড়ের হাট

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : কাপড়ের হাটে কাপড় বিক্রির জন্য বসে আছে তাঁতীরা।

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : ভোরের পূর্ব আকাশে তখনও সূর্য উঠেনি। কাক ডাকা ভোরে ছুটে চলছে গামছা কাঁধে নিয়ে শতশত তাঁত শ্রমিক। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের তাঁতীপাড়া থেকে তাঁতের খটখট মাকুর শব্দ ভেসে আসছে। এ চিত্রটি এখন শাহজাদপুরেই নয় বেলকুচি, চৌহালীসহ দেশের  সকল তাঁতী পাড়ায় । শাহজাদপুরের তাঁতীরা প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে তাঁতের কাপড়ে নিয়ে আসছে নানা বৈচিত্র। নকশার ধরন রংয়ের বৈচিত্র বাঙালী ললনাদের শাহজাদপুরের শাড়ী সবসময় আকৃষ্ট করে থাকে। সেই বৃটিশ যুগ থেকেই শাহজাদপুরের সুতি কাপড়ের শাড়ী ‘পাবনা শাড়ী’ নামে অধিক পরিচিত। ঈদকে সামনে রেখে প্রান্তিক তাঁতীরা নানা রঙের শাড়ীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটে। শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে ঈদকে সামনে রেখে হাজারও মানুষের সমাগম, আর কোটি কোটি টাকা লেনদেন হলেও। এ বছর তার ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে। ব্যবসায়িরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে শাহজাদপুরের সাপ্তাহিক কেনা-বেচা ১’শ কোটি টাকা হলেও ঈদকে ঘিরে ব্যবসা ৫ গুণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাপড়ের হাট আশানুরূপ জমে না উঠায় অনেকটা হতাশাই লক্ষ্য করা গেছে তাঁতীদের মধ্যে। ভারতীয় সিল্ক আর পাকিস্তানী জরজেট শাড়ীকে পিছনে ফেলে শাহজাদপুরের তাঁতের শাড়ী বাঙালী নারীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। শাহজাদপুরের মুকুল কটেজ ইন্ডাসট্রিজের মালিক হাজী আব্দুর রউফ বুলবুল জানান, সপ্তাহে তিনি ২'শ পিছ শাড়ী উৎপাদন করছেন। একটি শাড়ী তৈরী করতে একজন দক্ষ শ্রমিককের ৪ দিন সময় লাগে। তিনি আরও জানান, নতুন নতুন ডিজাইনের এ শাড়ীর নাম রাখা হয়েছে ফুলকলী, রোজভেলি, রেডরোজ, রানীমা, রজনী, রাজবধু, পিউরি, উপমা, ঝলক, শিবনি, মৌনতা, পূর্ণতা, কোহেলী, উলফা, ঝিলিক, পাখি সহ আরো অনেক নাম। এ সকল উৎপাদিত শাড়ী সারা বছর ধরেই মজুদ রাখা হয় ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে। হাজী আব্দুর রউফ বুলবুল আরো জানান, তার মত অনেক তাঁত মালিক সারা বছর শাড়ী তৈরি করে ঈদের বাজার ধরতে বসে থাকতে হয়। পৌর এলাকার দাবাড়িয়া গ্রামের  তাঁত ফ্যাক্টরীর মালিক সাকোয়াত হোসেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে উপকরনের মূল্য বৃদ্ধি ও উৎপাদন কম হওয়ায় গত বছরের তুলনায় কাপড়ের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর পাবনা জেলার শাহজাদপুর, বেলকুচি, চৌহালী, কামাড়খন্দ, উল্লাপাড়া,বেড়া, সাথিয়া, পাবনা সদর দোগাছি সহ বিভিন্ন স্থানে সহস্রাধিক হ্যান্ডলুম, পাওয়ারলুম, স্ক্রীনপ্রিন্ট, ডাইং, এম্ব্রোডারিসহ বিভিন্ন সহায়ক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পকারখানায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় কয়েক লক্ষ শ্রমিক জড়িত রয়েছে। তিনি জানান, ভারতীয় শাড়ীর দাপটের কারণে শাহজাদপুর সহ বৃহত্তর পাবনা জেলার তাঁতের কাপড়ের বাজার মন্দা থাকায় এদেশের তাঁত শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তাঁতের শাড়ীর যে মন্দাভাব চলছিল এবার ঈদে স্থানীয় তাঁতীদের উৎপাদিত শাড়ী বিক্রি করতে পারলে এ শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তিনি আরো জানান, থ্রি পিচ, টুপিচ দিয়ে সালোয়ার কামিজ বানিয়ে বাঙালী নারীরা তাদের বসন তৈরী করলেও আর যাই হোক তাঁতীদের সুদিন ফিরে আসবে না। তবে তিনি আশা করছেন এবার ঈদকে সামনে রেখে যে পরিমান তাঁতের শাড়ী তৈরী হয়েছে সেগুলো যদি শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটে তাঁতীরা বিক্রি করতে পারে তবে এ হাটে কয়েক হাজার কোটি টাকা লেনদেন হবে। শাহজাদপুরে রবি ও বুধবার দু’দিন কাপড়ের হাট বসলেও ঈদ উপলক্ষে একদিন আগেই শনিবার শাহজাদপুরে কাপড়ের হাট বসেছে। তবে তাঁতীরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে কাপড়ের হাটে কেনা-বেচা জমে উঠবে। দেশিÑবিদেশী ক্রেতাÑবিক্রেতাদেও পদচারণায় মুখর হবে উত্তর বঙ্গেও বৃহত্তম শাহজাদপুর কাপড়ের হাট।  তাই শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটকে কেন্দ্র করে হাজার কোটি টাকার লেনদেন হবে। শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটকে কেন্দ্র করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ