ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় বাদুড়ের অভয়ারণ্য

খুলনা অফিস : তীব্র গরমে পা দিয়ে গাছের ডাল আঁকড়ে মাথা নিচে দিয়ে ঝুলে ঘুমিয়ে থাকে। ডানা ছেড়ে হাতপাখার মতো বাতাস করে, আর কিছুক্ষণ কিচিরমিচির শব্দ করে আবার স্থির হয়ে যায়। পাখির মতো উড়লেও আকৃতির কারণে এদের কদর নেই। নানা কল্প-কাহিনী আর আতঙ্ক সৃষ্টিকারী এ বাদুড় শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নগরীতে আবাস গেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক’র সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে রয়েছে লম্বা লম্বা দেবদারু গাছ। এতো গাছের মধ্যে আহসান আহমেদ রোড ও লোয়ার যশোর রোডের সংযোগস্থল অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক’র এর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের চারটি গাছ যেন বাদুড়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রচ- তাপদাহের মধ্যে তাদের হুকের মতো পা দু’টো আটকিয়ে নিস্তব্ধতায় ঝুলছে অসংখ্য বাদুড়। মাথায় সামান্য হলুদ রঙ থাকলেও পুরো দেহটি কালো। একটু শব্দ হলেই দল বেঁধে পালকহীন চামড়া মোড়ানো ডানায় কয়েকটা ঝাপটা দিয়ে আবার নীরব। রাতের অক্লান্ত শ্রমে যেন তারা শুধু একটু প্রশান্তির ঘুমই খুঁজছে। সন্ধ্যায় অন্যান্য পাখি আর বাদুড়ের ছোটাছুটিতে এলাকাটিতে সৃষ্টি হয় সৌন্দর্যের অবর্ণনীয় এক পরিবেশ। সকালে এর আশপাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালে এদিক-সেদিক দেখা যায় উড়ন্ত বাদুড়ের দল। দিরভর থাকে এখানে। কাঠফাটা রোদ আর তীব্র গরমের মধ্যে বাদুড়ের ডানামেলা দৃশ্যে এলাকাটিকে মনে হয় প্রকৃতির এক অপার সৌর্ন্দযের বেলাভূমি। আবার খাদ্যের সন্ধানে পড়ন্ত বিকেলে উড়ে চলা বাদুড়গুলো দেখে মনে হয় আকাশ যেন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সেকেন্দার আলী পাটোয়ারি জানান, ভোর আর সন্ধ্যায় শালিক, চড়ই, বাদুড়সহ অসংখ্য পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকে এ এলাকা। একটু বেলা হলে, অন্য সব পাখি চলে যায়। আর তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পশ্চিম কোনার চার-পাঁচটি দেবদারু গাছে শতশত বাদুড় ঝুলে থাকে। মাঝেমধ্যে কিছুক্ষণ কিচিরমিচির শব্দ করে পা গাছের ডালে আঁকড়ে মাথা নিচে দিয়ে ঘুমিয়ে থাকে। এরা যেন পোষা প্রাণীদের মতোই বসবাস করছে। বহুকাল ধরে এরা রয়েছে। সন্ধ্যায় আবার চলে যায়। ইট-পাথরের শহরে এ এক অন্যরকম পরিবেশ। এ এলাকায় কর্মরত মো. ফাহিম জানান বইএ পড়েছি, বাদুড় গুহায় কিংবা অন্ধকার জায়গায় থাকে। সচোখে দেখা মেলা অনেকটা ব্যতিক্রম। তবে এখানের গাছগুলোতে শতশত বাদুড়ের বসবাস। এযেন তাদের নিজেদের আবাস। এলাকার আরেক ব্যবসায়ী মো. সুমন শেখ জানান, ব্যাংকের কোণার গাছগুলো বাদুড়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বসবাস করে অগণিত বাদুড়। এদের বসবাস, বিচরণ আর কিচিরমিচির শব্দে দিনরাত মুখরিত থাকে এলাকাটি। তবে সন্ধ্যা আর ভোরে এখানে অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার সমন্বয়কারী এডভোকেট বাবুল হাওলাদার জানান, বাদুড় নিয়ে কল্প-কাহিনী আর কুসংস্কারের যুগ কেটে গেছে। এরা মানুষের উপকারই করে। প্রায় ৩শ’ রকমের গাছের বীজ ছড়াতে সাহায্য করে। আবার কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে। পরাগায়ণ সৃষ্টি করে। তাই মানবকল্যাণকারী ও পরিবেশবান্ধব এ স্তন্যপায়ী প্রাণীটি রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় গাছের ডালে ডালে প্রকৃতির বন্ধু বাদুড় ঝুলে থাকতে দেখে বেশ ভাল লাগে। খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরুণ কান্তি ম-ল জানান, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে বাদুড় বিশেষ ভূমিকা রাখে। এরা সারাদিন ঘুমায়। সন্ধ্যায় বেরিয়ে যায় আহারের সন্ধানে। আবার তাদের নিড়ে ফিরে আসে ভোররাতে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারী প্রাণী বাদুড়ের নিরাপদ আবাসস্থলগুলো ধরে রাখতে স্থানীয়দেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ