ঢাকা, শুক্রবার 17 May 2019, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১১ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ওয়ালটন ছাড়লেন ইলিয়াস কাঞ্চন 

স্টাফ রিপোর্টার:  দেশের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন এর সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই বলে জানালেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।  তিনি বলেন, তার সঙ্গে ওয়ালটন গ্রুপ এবং প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত কোন পণ্যের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। 

২০০৫ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত 'ওয়ালটন' গ্রুপের সাথেই যুক্ত ছিলেন এ নায়ক। ফলে দেশের অনেকেই মনে করতেন ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে ওয়ালটনের মালিকানাগত বিষয় জড়িত। ‘এটা আসলে আমার ভক্তদের ভুল ধারণা। 

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রের তারকা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পথিকৃৎ ইলিয়াস কাঞ্চন এ ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই এর যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ, লায়ন গনি মিয়া বাবুল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, প্রচার সম্পাদক কেএম ওবায়দুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য কামাল হোসেন খান, নজরুল ইসলাম ফয়সাল, আজীবন সদস্য জেবুন্নেসা, সাধারণ সদস্য আনজুমান আরা তন্নি, মোহসিন খান প্রমুখ।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দেশের অনেকেই মনে করেন আমি ওয়ালটনের একজন মালিক। যে কারণে প্রায়ই আমার কাছে বিভিন্ন লোকজন চাকরির তদবিরসহ বিভিন্ন আবদার নিয়ে আসতেন, শুনতে হতো মালিকানার কথাটি। অবশ্য আমি তাদের বুঝিয়ে বলতাম। সে সময় হয়তো কারো কারো ভুল ভাঙতো। আবার অনেকে মনে করতো আমি তাদের এরিয়ে যাচ্ছি।। কথাটি যে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের কানে যায়নি তা নয়, তারা শুনলেও তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে আমার ইমেইজ, আমার বিশ্বাসযোগ্যতাকে জনগণের কাছে কাজে লাগানোর জন্য কিছু বলতেন না।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি ওয়ালটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলাম। মূলত ওয়ালটনের সাথে আমি যুক্ত হয়েছিলাম তাদের একটি কথায়। তারা বলেছিল 'ওয়ালটন মানে নিরাপদ সড়ক চাই', 'নিরাপদ সড়ক চাই মানে ওয়ালটন'। যে কারণে আমি তাদের কথায় অনুপ্রাণিত হই। দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়ালটনের শো রুম উদ্বোধন করতে গিয়ে শুধু শো রুম উদ্বোধন করেছি তা নয়, সেখানে একটি জনসমাবেশের আয়োজন করতো তারা। আমি জনসমাবেশে গিয়ে দেশীয় পণ্য ওয়ালটন ও নিরাপদ সড়ক সম্পর্কে বলতাম। দীর্ঘ পথচলায় মূলত আমার মূল উদ্দেশ্যই ছিল নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকা এবং দেশীয় পণ্য ওয়ালটন ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া। আমার মনে হয় ওয়ালটনকে ঘরে ঘরে পৌছানের জন্য আমি অবদান রাখতে পেরেছি।

সাংবাদিক সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন আরও জানান,  গত ৩/৪ বছর ধরে ওয়ালটন শো রুম উদ্বোধনে তাকে আর ডাকা হচ্ছেনা। যে কারণে জনসমাবেশের মাধ্যমে জনগণকে সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা যেত সেটা যদি বন্ধ হয়ে যায়। এতে তার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া ওয়ালটনের সাথে নিরাপদ সড়ক চাইয়ের একটা যৌথ প্রজেক্ট ছিল। প্রজেক্টটি হলো দরিদ্র এসএসসি পাশ বেকার শ্রেণীকে গাড়িচালক হিসেবে তৈরি করে বিনা ফিতে লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে কর্মক্ষম করা। প্রজেক্টটির উদ্দেশ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা ও নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় শিক্ষিত চালক তৈরি করা। এই প্রজেক্টেই ওয়ালটন ২০১১ সাল থেকে সহায়তা করতো। কিন্তু এসব আয়োজন ওয়ালটন বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি আমাকে মর্মাহত করেছে। ফলে তাদের সঙ্গে আমার আর সম্পর্ক থাকছে না।

ইলিয়াস কাঞ্চনের সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে আজীবন থাকার ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। মাঝপথে হুট করে এভাবে পাশ থেকে চলে যাওয়ায় কষ্ঠ পেয়েছন ইলিয়াস কাঞ্চন। সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। জানান, একটি সামাজিক আন্দোলনের সাথে আজীবন থাকার ঘোষণা দিয়ে ওয়ালটন কি করে সরে আসে তা বোধগম্য নয়। আসলে আমি কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে এভাবে জড়াতাম কিনা সেটা ভাবনার বিষয় ছিল। কিন্তু ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ যখন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকে পৃষ্টপোষকতা করবে বলেছিল এবং প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় পণ্য উৎপাদন করছে তাই দেখে তাতে আমি বিনা বাক্য ব্যয়ে রাজী হয়ে যাই। অথচ তারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিবে তেমন কোন ইঙ্গিত আমায় দেয়নি। একদিন হঠাৎ করেই দেখি তারা সরে গেছে। যা আমি মেনে নিতে  পারছিনা। আমি পরিষ্কার ভাষায় বলছি যতদিন বাঁচি নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করে যাবো। কারও সাথে কেন বিবাদ নয়, পারস্পরিক স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে এগিয়ে যাবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ