ঢাকা, শুক্রবার 17 May 2019, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১১ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অসম উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে গরিবের লাশের ছড়াছড়ি দেখা যাবে - নজরুল ইসলাম খান

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এই দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছেন, জীবন দিয়েছেন, কিন্তু আজ স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র নেই। তিনি বলেন, আজ গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বারবার নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী হওয়া সেনাপতি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, জামাল উদ্দীন খান মিলন, সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে আনন্দ করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আনন্দ করুক। বিএনপিও আনন্দ করবে যেদিন সব মানুষ নিয়ে রাস্তায় নেমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার উন্নয়ন উন্নয়ন বলে গলা ফাটাচ্ছে। দেশে উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু তা অসম উন্নয়ন। যারা ধনী তারা আরো ধনী হচ্ছেন। তিনি বলেন, এদেশে বর্তমানে ধনীরা যে হারে আরো ধনী হচ্ছেন সে হারে চীন ও আমেরিকার ধনীরাও ধনী হচ্ছে না। এরকম অসম উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে একসময় দেশে বিলাসবহুল পণ্যের ছাড়াছাড়ির সঙ্গে গরিবের লাশের ছড়াছড়ি দেখা যাবে।

বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, খুবই অন্যায়ভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে সরকার খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মামলার শুনানির সময় আমরা সারা দিন আদালতে যেয়ে বসে থাকতাম। সেখানে সরকার দলীয় কোনো আইনজীবী বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। তারা ধারণা করছেন, বেগম জিয়া এসব অভিযোগের সাথে জড়িত। আদালত কি ধারণা দিয়ে পরিচালনা হয়? আদালত প্রমাণ চায়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দরকারি কাজের কথা ও প্রয়োজনীয় কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু সেই প্রয়োজনীয় কাজ সবাই করেন না। তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী প্রয়োজনীয় কথা বলতেন এবং সেই প্রয়োজনীয় কাজটি করতেন। তিনি বলেন, এই দেশে যতগুলো আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত মওলানা ভাসানী সেসব আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যানে কাজ করেছেন।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বাংলাদেশ ভারতের বন্ধুপ্রতীম দেশ কিন্তু আমাদের সাথে তাদের যেসকল চুক্তি হয়েছে আমরা সেই চুক্তি অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাচ্ছি না। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে এত যুদ্ধ এত বৈরিতা কিন্তু তাদের মধ্যেও তো পানি চুক্তি আছে এবং তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ফারাক্কা চুক্তির কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যারা এখানে বসে আছি, তারা সবাই বলছি- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কী করা দরকার,- এ নিয়ে বহু আলোচনা করেছি। কিন্তু আসলে কিছুই করছি না। কী করা দরকার, এ বিষয়ে কারও বুদ্ধির অভাব নেই। তবে সেই বুদ্ধির কাজটা করার মতো কোনো উদ্যোগ নাই।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখানে একজন বলেছেন, আত্মাহুতি দেয়া দরকার। আত্মাহুতি দেয়ার জন্য কারও অনুমতি লাগে নাকি? আমি যদি আত্মাহুতি দিতে চাই, তাহলে একা একাই আত্মাহুতি দিতে পারি। কিন্তু আপনার মৃত্যু তো আমার চাওয়া না। আমার চাওয়া হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। আর বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আপনার মরার দরকার নেই, সাহস করে রাস্তায় আসেন। চলেন এক সঙ্গে রাস্তায় নেমে মিছিল করি। তাহলেই বেগম জিয়ার মুক্তি হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ