ঢাকা, শুক্রবার 17 May 2019, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১১ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রকৃতির মধুমাস- বাতাসে রসালো ফলের ম-ম গন্ধ

মুহাম্মদ নূরে আলম: চারদিকে মধুফলের ম-ম গন্ধ। ফলের গন্ধে সহজে অনুমান করা যায় জ্যৈষ্ঠ মাস এসে গেছে। আজ জ্যৈষ্ঠ মাসের তৃতীয় দিন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ ব্যবস্থা ও গাছপালার কারণে মধুমাসে বিভিন্ন রকমের ফল পাওয়া যায়। গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে দোল খায় সিঁদুর রাঙা আম। দাবদাহের তৃষ্ণার্ত প্রাণকে শীতলতার পরশ বুলিয়ে দেয় গ্রীষ্মের ফুটি, বাঙ্গি, তরমুজ। পাওয়া যায় জাতীয় ফল কাঁঠাল। এছাড়া লিচু, কালো জাম, ক্ষুদিজামে বাজার এখন সরগরম। বাজারে আরও পাওয়া যাচ্ছে রসে ভরা আনারস, আমলকি, আতা, করমচা, জামরুল, বেল, গাব ইত্যাদি ফল। পাকা তাল না পাওয়া গেলেও বাজার এখন ভরে গেছে কাঁচা তালে। অনেকেরই প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে কাঁচা তালের শাঁস। বিভিন্ন প্রজাতির এসব ফলের স্বাদে রয়েছে ভিন্নতা। কোনোটা টক, কোনোটা মিষ্টি, কোনোটা নোনতা আবার কোনোটা পানসে। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, মধুবিষে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বিষ মিশ্রিত ফল খেলে সহজে হজম হয় না। সরকারের একাধিক সংস্থার সূত্রে জানা যায়, মধুফলে মধুবিষ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনওদের প্রয়োজনীয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুষ্টিগুণ বিবেচনা করলে আম একটি আদর্শ ফল যার মধ্যে রয়েছে ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট, সুগার, প্রোটিন, ক্যারোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, থায়ামিন, রিবোফ্লোবিন, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি। একসঙ্গে এত ভিটামিন, মিনারেল ও শরীরের প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপাদানের জোগান খুব কম ফলেই আছে। মোটকথা আমে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি একত্রে পাওয়া যায়। তাই আমকে বলা যায় সব রোগের জন্য শক্তিশালী প্রতিরোধক। তাই নিজের শরীর গঠনের স্বার্থে আমাদের পরিমাণ মতো আম খেতে হবে।

আম : এ বছর থেকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আম রফতানির মাধ্যমে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশের আম প্রথমবারের মতো বিদেশে রফতানি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ল্যাংড়া ও আ¤্রপলি দুই দফায় ২ হাজার ১৬০ কেজি আম রফতানি হবে। বাংলাদেশের আমের ক্রেতা বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রাথমিকভাবে সাতক্ষীরার আম রফতানি শুরুর পর প্রতিসপ্তাহে ৪ মণ করে অন্য জেলার আম যুক্তরাজ্যের বাজারে রফতানি হয়। ইতোমধ্যে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের কাছে দেশের সাত জেলার নয়টি উপজেলার ১৮০ আম চাষির নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও আম পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে আম রফতানির ব্যাপারে বিশ্বের শীর্ষ পণ্য ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল প্রকিউরমেন্ট লজিস্টিকসের সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, হর্টেক্স ফাউন্ডেশন ও এফএওর একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে।

জামের পুষ্টিগুণ: জামের পুষ্টিগুণাগুণের ধরন। জামে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-এ, জিঙ্ক, গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ ও ডেক্সটোজ। ভিটামিন-সি জ্বর, কাশি, টনসিল, ত্বক ও দাঁতের সমস্যায় কার্যকর। ভিটামিন-এ চোখের নানা রোগ প্রতিরোধ করে। মা ও শিশুর জন্য জিঙ্ক বেশ উপকারী। এ ছাড়াও উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ও রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে জাম। জামের বাইরের আবরণে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ। আঁশজাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে টিউমার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জাম কোলনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তবে জামে খুব বেশি জৈব এসিড থাকার কারণে বেশি খেলে পেটে গ্যাস হতে পারে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঁঠাল: মৌসুমি ফলের অন্যতম ফল হচ্ছে কাঁঠাল। কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। বাংলাদেশের সব জেলাতেই মোটামুটি কাঁঠালের গাছ দেখতে পাওয়া যায়। কাঁঠাল দারুণ সুস্বাদু ফল। পুষ্টিগুণে অতুলনীয় এ ফল খেতে দারুণ মজা। পরিবারের সবার পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে একটি কাঁঠালই যথেষ্ট। শরীরে শক্তি জোগাতে কাঁঠালের জুড়ি নেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ডা: মহসীন কবিরের মতে কাঁঠালে রয়েছে ৯৪ কিলোক্যালরি শক্তি।

ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন, লুটেইন- কী নেই কাঁঠালে? এ ছাড়াও কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে উচ্চতর প্রোটিন। ভিটামিন-এ চোখের পুষ্টি জোগায় ও চোখের নানা সমস্যা দূর করে এবং দেহে ক্ষতিকারক রোগজীবাণু প্রবেশে বাধা দেয়। দেহের ক্ষতস্থান সারিয়ে তুলতে এবং গরমে যে সর্দি, হাঁচি, কাশি হয় কাঁঠালের ভিটামিনসি তা দূর করতে সাহায্য করে। কাঁঠাল আঁশজাতীয় ফল, তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও দেহের রক্তনালির দেয়ালে চর্বি জমতে দেয় না। কাঁঠালে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। কাঁঠালের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, লুটেইন যা প্রোস্টেট, পাকস্থলী ও ফুসফুসের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

পটাশিয়াম দেহের কোষগুলোর বৃদ্ধি পেতে ও দেহের পানির সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম দেহের হাড়, দাঁতের পুষ্টি জোগায়। জিঙ্ক শরীরের ইনসুলিন হরমোনের সরবরাহ নিশ্চিত করে আর ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়াম দেহের লবণ এবং ক্ষারের সাম্যাবস্থা বজায় রাখে। ভিটামিন-বি কমপ্লেক্সের মধ্যে কাঁঠালে রয়েছে ফোলেট, নিয়াসিন, থায়ামিন, রিবোফ্লভিন। এগুলো দেহে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে ও নানা রোগ থেকে আমাদের প্রতিরোধ করে। কাঁঠাল কোলেস্টেরলমুক্ত এবং এ ফলে নেই কোনো ক্ষতিকারক চর্বি। তাই ডায়াবেটিস ও হার্টের অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিসহ সবাই নির্দ্বিধায় কাঁঠাল খেতে পারেন।

পুষ্টিগুণে ভরপুর লিচু: গ্রীষ্মের অন্যতম সুস্বাদু ফল লিচু। খুব অল্প সময় থাকে বলে এর চাহিদাও ব্যাপক। দানাযুক্ত গোলগাল ফলটি ঝোঁটা বেঁধে গাছে পাকলে দারুণ সুন্দর দেখায়। খেতেও অতুলনীয়। বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগীয় প্রধান ফারাহ মাসুদা জানান, লিচুর পুষ্টি ও গুণের কথা। মৌসুমি ফল লিচু ভিটামিন ও খাদ্যশক্তির অন্যতম উৎস। এতে রয়েছে মানব শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। শ্বেতসার এবং ভিটামিন সি’র ভালো উৎস। ছোট বড় সব বয়সের মানুষই এই সুস্বাদু ফল খেতে পারে।

তিনি জানান, লিচুতে রয়েছে সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও ফ্যাট যা মানবদেহের জন্য প্রয়োজন। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে রয়েছে ১.১ গ্রাম প্রোটিন এবং ০.২ গ্রাম ফ্যাট। লিচুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্বেতসার পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ১৩.৬ গ্রাম শ্বেতসার থাকে। এ ছাড়া লিচুতে ০.০২ গ্রাম ভিটামিন বি১ এবং ০.০৬ গ্রাম বি২ রয়েছে। এ ছাড়াও এতে কিছু পরিমাণে খনিজ লবণ থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ পাওয়া যায় বলে জানান মাসুদা। লিচুতে রয়েছে ভিটামিন সি যা ত্বক, দাঁত ও হাড়ের জন্য ভালো। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ৩১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। নানারকম চর্মরোগ ও স্কার্ভি দূর করতে সাহায্য করে ভিটামিন সি। তা ছাড়া এটি ত্বক উজ্জ্বল করতে ও বলিরেখা কমাতেও সাহায্য করে। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম রয়েছে। 

ক্যালসিয়াম দেহের হাড় গঠন করে ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। লিচুতে অল্প পরিমাণে লৌহ পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রামে ০.৭ মিলিগ্রাম লৌহ। এ ছাড়াও লিচুতে রয়েছে থিয়ামিন, নিয়াসিন ইত্যাদি, যা লিচুর পুষ্টিগুণ আরও বৃদ্ধি করে। এসব ভিটামিন শরীরের বিপাক ক্ষমতা বাড়ায়। শক্তির ভালো উৎস লিচু। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচু থেকে ৬১ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এটি শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। পাশাপাশি চর্বি কমাতে সাহায্য করে। 

পুষ্টিগুণে ভরপুর আনারস: মৌসুমি ফলের অন্যতম ফল আনারস। ফলটি মিষ্টি, রসালো ও তৃপ্তিকর। অসংখ্য গুণে গুণান্বিত এই ফলের জুড়ি মেলা ভার। ফলটিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালোরি ও আঁশ রয়েছে। এটি কোলেস্টেরল ও চর্বিমুক্ত। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ফলের জুড়ি নেই। শুনতে ভালো লাগবে যে আনারস আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার এবং অনেক কম ফ্যাট রয়েছে। আনারসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ থাকার ফলে তা আমাদের হাড়ের গঠন ও হাড়কে বেশ মজবুত করে। চুলকে করে শক্তিশালী। এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি, যা আমাদের শক্তি জোগায়। এ ফলটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, ত্বককে কুঁচকে যাওয়া থেকে বাঁচায়। আনারস জ্বর ও জন্ডিস রোগের জন্য বেশ উপকারী। দেহের তৈলাক্ত ত্বক, ব্রণসহ সব রূপলাবণ্যে আনারসের যথেষ্ট কদর রয়েছে। আনারসের অপকারিতাও কম নয়। যেমন- আনারস খাওয়ার ফলে অনেক নারী ও পুরুষের দেহে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। আনারসে আছে অনেক বেশি পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি। আনারসের ২টি চিনি উপাদান সুক্রোজ এবং ফ্রুক্টোজ যা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কাঁচা আনারসে আছে অনেক বেশি পরিমাণে এসিডিটি যা আমাদের মুখের ভেতর ও গলায় শ্লেষ্মা তৈরি করে এবং ফলটি খাওয়ার পর মাঝে মাঝে অনেকের পেটে ব্যথাও হতে পারে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর বাঙ্গি: মৌসুমি ফলের অন্যতম এক দেশী ফল বাঙ্গি। অনেকটা প্রচারবিমুখ এই ফলটি দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমন চমৎকার। গ্রীষ্মের এই চরম গরমে আরামদায়ক ফল হিসেবে বাঙ্গির তুলনা হয় না। পুষ্টিতে ভরপুর এই ফলটি সব বয়সের মানবদেহের জন্যই উপকারী।

বাঙ্গিতে প্রচুর ভিটামিন এ ও সি রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম বাঙ্গিতে ৩৪ কিলোক্যালোরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। ফলিক এসিডে পূর্ণ এই ফলটি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। ফলিক এসিড রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে। বাঙ্গি একেবারে চর্বি বা কোলেস্টেরলমুক্ত। তাই কোনোভাবেই মুটিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। বাঙ্গির ভিটামিন-এ দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বাঙ্গিতে আছে ০.৯ গ্রাম খাদ্য আঁশ। তাই যাদের কোষ্ঠকাষ্ঠিন্যের সমস্যা আছে তারা নির্দ্বিধায় বাঙ্গি খেতে পারেন। ছোট বাচ্চাদের মেধা বিকাশের দায়িত্বটা বাঙ্গিকে দিয়ে রাখতে পারেন। শরীরে কাটাছেঁড়া থাকলে বাঙ্গিতে থাকা ভিটামিন-সি তা দ্রুত শুকাতে সহায়তা করবে। বাঙ্গির রস শরীরের সঠিক তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায়। রাখে ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখে। সুতরাং নির্দ্বিধায় বাঙ্গি আমাদের জন্য এক উপকারী ফল। এ ছাড়া তরমুজ, পেয়ারা, কদবেল, শসা, আমড়া, চালতা ইত্যাদিও মৌসুমি ফলের অন্তর্গত। এসব ফল খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। সুতরাং এসব ফল খেতে মোটেও অবহেলা নয়। নিজের দেহ মন আর মেধা বিকাশের লক্ষ্যে আমাদের এসব ফল খাওয়া উচিত। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে কোন অবস্থাতেই যেন পরিমাণের অধিক খাওয়া না পড়ে। তাই আমাদের নিচের ছড়াটার প্রতি অবশ্যই আমল করতে হবে।

তবে হতাশাও যুক্ত রয়েছে এখানে! একশ্রেণীর অসাধু ফল ব্যবসায়ীর হাতে নষ্ট হচ্ছে তাজা ফলের ঘ্রাণ আর সতেজতা। ঘৃণ্য ওইসব ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে ফলপ্রেমী মানুষ। মৌসুমী ফলের ক্ষেত্রেও না পচার জন্য মেশানো হয় ক্ষতিকর তরল পদার্থ। ফলে এসব মৌসুমী ফল কিনতে গিয়ে অনেকেই সিদ্ধান্তহীনতার ভোগেন। এভাবেই চলে মধুমাসকে বিপন্ন করার অপচেষ্টা।

বাংলাদেশের মৌসুমী ফল ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ওমানে রফতানি হচ্ছে। রফতানিকৃত ফলগুলোর মধ্যে আছে কাঁঠাল, বাতাবি লেবু, কুল, সাতকরা, আম, আমড়া, সুপারি, জলপাই ও পেয়ারা। দিনের পর দিন বিদেশে এগুলোর চাহিদা বাড়ছে। আগামী দিনে, চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী ফল রফতানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৩০টি নিবন্ধীকৃত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প রয়েছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রতিষ্ঠান ফল থেকে জ্যাম, জেলি, স্কোয়াশ, ফলের রস, আচার, চাটনি, সস, ক্যান্ড আনারস, সøাইসড ও ক্যান্ড আমের পাল্প ইত্যাদি উৎপাদন করছে। এদের কিছু পণ্য বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। এ ধরনের শিল্পের সম্প্রসারণ প্রয়োজন। অধিকন্তু কৃষকের উৎপাদিত ফল অভ্যন্তরীণভাবে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবহন ও হিমায়িত সংরক্ষণের ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করতে হবে। তাছাড়া গাছ থেকে ফল সংগ্রহ ও প্যাকিং-এর ক্ষেত্রেও অনেক সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১.৪৪ লাখ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২২ লাখ টন ফল উৎপাদন হয়। অথচ দরকার প্রায় ৬৭.০ লাখ মেঃটন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফলের প্রাপ্তির পরিমাণ ও উৎপাদন বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে যে সব ফল উৎপাদন হয় তার মধ্যে কলা, আম, কাঁঠাল, নারিকেল, পেঁয়ারা, আনারস ও তরমুজ সাতটি ফলের উৎপাদন ১৭.৫ লাখ মেঃটন, যা মোট উৎপাদনের শতকরা ৮০ ভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ