ঢাকা, শনিবার 18 May 2019, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১২ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অস্ট্রিয়ায় স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ

১৭ মে, ডয়চে ভেলে : স্কুলে মুসলিম মেয়েদের হিজাব বা মাথায় যেকোন ধরনের কাপড় পরা নিষিদ্ধ করে সম্প্রতি একটি আইন পাশ করেছে অস্ট্রিয়া সরকার। তবে এ আইনকে বৈষম্যমূলক বিবেচনা করে দেশটির সাংবিধানিক আদালতে সেটি চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। সংসদে দেশটির ক্ষমতাসীন মধ্য ডানপন্থি দল পিপল'স পার্টি এবং উগ্র ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টির সদস্যরা বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তবে বিরোধী দলের প্রায় সব সদস্য বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

আইনটির লক্ষ্য শুধু মুসলমানরা নয়– এমন ধারণা দিতে সেটিতে লেখা হয়েছে, ‘যেকোন আদর্শগত বা ধর্মীয় প্রভাবান্বিত পোশাক, যা মাথা ঢেকে রাখার লক্ষ্যে ব্যবহার করা হয়, তা নিষিদ্ধ।’

গত ১৫ মে বুধবার রাতে অস্ট্রিয়া সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিখদের পাগড়ি বা ইহুদিদের টুপি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। কারণ এ আইনে এমন মাথার কাপড়ের কথা বলা হয়েছে, যেটি সব চুল বা মাথার অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে। তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে কিংবা বৃষ্টি ও তুষারপাত থেকে বাঁচতে মাথা ঢেকে রাখা যাবে।

দেশটির ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা ইতোমধ্যে স্বীকার করেছেন যে, মূলত মুসলমান মেয়েদের জন্যই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। পিপল'স পার্টির আইনপ্রণেতা রুডলফ টাশনার বলেন, মেয়েদেরকে নতিস্বীকার করা থেকে মুক্ত করতে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

ফ্রিডম পার্টির শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র ভেন্ডিল্যান ম্যোলৎসার বলেন, নতুন এ আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সমাজের মূলধারায় সবাইকে সম্পৃক্ত করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

তবে সাবেক সামাজিক গণতন্ত্রী দলের শিক্ষামন্ত্রী সোনিয়া হামার্স্মিড্থ অস্ট্রিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ইন্টিগ্রেশন বা শিক্ষাবিষয়ক প্রকৃত সমস্যা সমাধানের বদলে সংবাদ শিরোনামে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। অস্ট্রিয়ার মুসলিম কমিউনিটি অর্গানাইজেশন নতুন এই আইনটিকে ‘ধ্বংসাত্মক’ এবং শুধুমাত্র ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে সেটির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ