ঢাকা, রোববার 19 May 2019, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কোনো টুর্নামেন্টে প্রথম শিরোপা জয় টাইগারদের

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। এর আগে ছয়টি ফাইনালে খেললেও বার বার ব্যর্থ হয়েছে শিরোপা জয় করতে। অবশেষে সপ্তম ফাইনালে এসে সেই কাক্সিক্ষত শিরোপা জয়ের দেখা পেল টাইগাররা। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে যে কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে না জেতার আক্ষেপের অবসান হলো অধিনায়ক মাশরাফির হাত ধরেই। ওপেনার সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেক হোসেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কোনও টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল। ফাইনাল ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টাইগাররা দাপুটে জয়ে হারিয়েছে ৫ উইকেটে। ফলে ২১ বছর আগে যে দিনে প্রথম ওয়ানডে জয়ের দেখা পেয়েছিল টাইগাররা টিক ২১ বছর পর ঠিক সেই ১৭ মে’তেই প্রথম শিরোপা জয় হল টাইগারদের।
ফাইনাল ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের লক্ষটা কিন্তু সহজ ছিল না মোটেই। ওভারপ্রতি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮.৭৫ রান। সবার আগে প্রয়োজন ছিল উড়ন্ত সূচনার। সৌম্যর ঝড়ে প্রথম ৫.৩ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে শুরু ৫৯ রান পায় বাংলাদেশ। তবে শুরুর ঝড় বইয়ে ক্যারিবীয় বোলিংকে লন্ডভন্ড করার কাজটি ছেড়েছেন সৌম্য। তার ৪১ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংসটি তাই বাংলাদেশকে আশা জাগিয়েছে। জয়ের পথে অনেকদূর এগিয়েও দিয়েছে। ফলে শেষ ২৪ বলে যখন ৩৯ রান দরকার, ঠিক তখনই চমক জাগানো খেললো মোসাদ্দেকের ব্যাট। ২১ নম্বর ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাস্টবোলার কেমার রোচকে এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে তুলে মেরে ছক্কা হাঁকানোটাই প্রথম আক্রমনাত্মক শট। সে ওভারে ১২ রান আসার পর রীতিমত আগ্রাসী মূর্তি মোসাদ্দেকের। ২২ নম্বর ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি বোলার ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের ওপর প্রবল বেগে আক্রমণ। তিন ছক্কা আর এক বাউন্ডারি হাঁকানোসহ ২৫ রান তুলে একদম হিসেব সহজ করে ফেলেন মোসাদ্দেক। আর তখনই জয় হাতের মুঠোয় এসে যায় টাইগারদের। অথচ এই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগটা ব্যাটিং না করেই বৃষ্টির বাগড়ায় পেতে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। আর এটা হলে তাতে না খেলে ফাইনাল জেতার অতৃপ্তিটা হয়তো কাঁটা হয়ে থাকতো মাশরাফিদের মনে। কিন্তু প্রকৃতির সহায় হওয়ায় তা আর হয়নি। যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিজেদের দাপুটে পারফরম্যান্সে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। শুরুটা করেছিল সৌম্য সরকার আর শেষটা করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। জয়ের জন্য বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের টার্গেট ছিল ২৪ ওভারে ২১০ রান। তবে এটা সম্ভব হয়েছে ওপেনার সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেকের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই।  সৌম্যর শুরুর ব্যাটিংয়েই জয়ের ভিত গড়ে বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন সৌম্য সরকার। তবে ধীর-স্থির হয়ে খেলছিলেন তামিম। শুরুতে সৌম্যর সঙ্গী হয়ে তৃতীয় ওভারে ক্যাচের সুযোগ দিয়েও শুরুতে বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে ষষ্ঠ ওভারে কোনও সুযোগ দেননি হোল্ডার। গ্যাব্রিয়েলের বলে ১৮ রানে ব্যাট করতে থাকা তামিমকে তালুবন্দী করেন তিনি। ব্যাট করতে নেমে সাব্বির রহমানও ছিলেন ব্যর্থ। তবে সৌম্য ৪১ বলে ৬৬ রান করে ফিরলেও গড়ে দিয়ে যান জয়ের ভিত। এরপর অভিজ্ঞ মুশফিকের ব্যাটে চলছিলো রানের চাকা। সেই মুশফিককে বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দিয়েছেন রেইফার। মুশফিক বিদায় নেন ২২ বলে ৩৬ রান করে। সেই বিপদ আরও বেড়ে যায় মোহাম্মদ মিঠুন দারুণ কিছু শট  খেলে ১৭ রানে ফিরলে। তাকে এলবি আউটের ফাঁদে ফেলেন ফাবিয়ান অ্যালেন। এরপর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সৌম্যর গড়ে দেওয়া মঞ্চে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে প্রথমবার কোনও টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন করিয়ে মাঠ ছাড়েন মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ। মোসাদ্দেকই মূলত বিধ্বংসী রূপ দেখিয়ে জয়টাকে নিয়ে আসেন মুঠোয়। ২৪ বলে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন। মাহমুদউল্লাহ ছিলেন শান্ত ভঙ্গিতে। ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ দু’জনের দৃঢ়তায় ২২.৫ ওভারে অনায়াসে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। বৃষ্টির আগে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। জবাবে দুই ওপেনার শাই  হোপ ও সুনিল আমব্রিসের দারুণ ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পায় তারা। বিনা উইকেটে বৃষ্টির বাধার আগে স্কোর বোর্ডে উঠে আসে ২০.১ ওভারে ১৩১ রান। ততক্ষণে ক্রিজে ছিলেন শাই  হোপ ৬৮ রানে আর আমব্রিস ৫৯ রানে। এরপর বৃষ্টির বাগড়ায় এক পর্যায়ে ম্যাচ বাতিলের আভাসই পাওয়া যাচ্ছিলো। তেমনটি হলে হলে লিগ পর্বে ভালো ফলের কারণে চ্যাম্পিয়ন হতো বাংলাদেশই। অবশেষে দীর্ঘ বিরতির পর ডাবলিনে মাঠ খেলার উপযুক্ত হলে ম্যাচের পরিধি কমে দাঁড়ায় ২৪ ওভারে। নতুন করে ব্যাটিংয়ে নামার পর ক্যারিবীয়রা আগের দারুণ সূচনা পুঁজি করতে চেয়েছে শেষ পর্যন্ত। ২৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে করতে পেরেছে ১৫২ রান। তাতে ডি/এল মেথডে হয়ে দাঁড়ায় ২১০ রানের লক্ষ্যে। উইকেট বাঁচিয়ে রেখে ডি/এল ম্যাথডে ভালো পুঁজির অপেক্ষায় সেভাবে মেরে খেলেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুধু ওপেনার শাই হোপের উইকেটটি তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ৭৪ রানে ফেরেন এই ওপেনার। অপরপ্রান্তে অপরাজিত ছিলেন আমব্রিস ৬৯ রানে।  ম্যাচ সেরা হয়েছেন মোসাদ্দেক  হোসেন আর সিরিজ সেরা শাই হোপ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪ ওভারে ১৫২/১ (হোপ ৭৪, আমব্রিস ৬৯*, ব্রাভো ৩*; মাশরাফি ৬-০-২৮-০, সাইফ ৫-০-২৯-০,  মোস্তাফিজ ৫-০-৫০-০, মোসাদ্দেক ২-০-৯-০, মিরাজ ৪-০-২২-১, সাব্বির ২-০-১২-০)।
বাংলাদেশ: ২২.৫ ওভারে ২১৩/৪ (তামিম ১৮, সৌম্য ৬৬, সাব্বির ০, মুশফিকুর ৩৬, মিঠুন ১৭, মাহমুদউল্লাহ ১৯*, মোসাদ্দেক ৫২*; নার্স ৩-০-৩৫-০, হোল্ডার ৪-০-৩১-০, রোচ ৫-০-৫৭-০, গ্যাব্রিয়েল ৩-০-৩০-২, রিফার ৩.৫-০-২৩-২, অ্যালেন ৪-০-৩৭-১)।
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মোসাদ্দেক হোসেন
ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: শেই হোপ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ