ঢাকা, শুক্রবার 21 June 2019, ৭ আষাঢ় ১৪২৬, ১৭ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ওয়াসার সংযোগ লাইনে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি, জনদুর্ভোগ 

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে খুলনা মহানগরীতে সুপেয় পানির সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়িতে খাবার পানি নেই, রান্নার পানি নেই, নেই গোসলের পানি। পানির জন্য মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। বিভিন্ন স্থানে দিন-রাত পাম্প চালিয়েও ভূগর্ভস্থ পানি উঠছে না। এছাড়া অনেক এলাকায় ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পানির এমন সংকটে নগরবাসীর অসন্তোষ বাড়ছে। ওয়াসা বলছে, পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এ সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খুলনা মহানগরীতে সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২০১৩ সালে আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয় খুলনা ওয়াসা। প্রকল্পের আওতায় মধুমতি নদী থেকে পাইপলাইনে পানি এনে পরিশোধন (ট্রিটমেন্ট) করে তা খুলনা শহরে সরবরাহের কথা। প্রকল্পটির কাজ ২০১৭ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দু’দফায় সময় বাড়ানোর পরও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।

সূত্র আরও জানায়, খুলনা মহানগরীতে বর্তমানে প্রতিদিন পানির চাহিদা রয়েছে ১১ কোটি লিটার। চাহিদার মাত্র ৪০ ভাগ পানি খুলনা ওয়াসা সরবরাহ করে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩৩ থেকে ৩৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় তাও সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিন নগরীর সোনাডাঙ্গা, গোবরচাকা, শেখপাড়া, বসুপাড়া, ফারাজিপাড়া, মির্জাপুর রোড, বাইতিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, টুটপাড়া, বসুপাড়া, পশ্চিম বানিয়াখামার, বাবু খান রোড এলাকায় পানির ভয়াবহ সমস্যা রয়েছে। পানির জন্য প্রতিদিনই এসব এলাকার বাসিন্দাদের ছুটতে হচ্ছে এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ জানান, ওয়াসার পুরাতন লাইনের সংযোগ শহরের অনেক স্থানে নেই। সেখানে ব্যক্তিগত নলকূপগুলোতেও পানি পাওয়া যায় না। ফলে নগরীতে পানির সঙ্কট বেড়েছে। তবে ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ আগামী জুন মাসে শেষ হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে।

তবে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতায় ক্ষোভ রয়েছে নগরবাসীর। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, ওয়াসার কাজে সড়কে খোঁড়াখুঁড়িতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত হয়নি, আবার কাঙ্ক্ষিত সুপেয় পানিও সরবরাহ করতে পারেনি। ২০১৭ সাল থেকে ওয়াসা নতুন পাইপলাইনে পানি দেওয়ার কথা বললেও অনেক গ্রাহকের বাড়িতে এখনো সংযোগ পর্যন্ত দিতে পারেনি।

ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এম ডি কামাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, কয়েকটি এলাকায় গ্রাহকরা নতুন করে আবেদন করায় তাদের বাড়িতে পাইপলাইনের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে মধুমতি নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে রূপসা শোধনাগারে পানি আনা হয়েছে। এই শোধনাগার থেকে রূপসা নদীর তলদেশ হয়ে খুলনা শহরের ৭টি রিজার্ভারে পানি আনা হবে। বর্তমানে এলাকাভিত্তিক ওয়াসার পানি সরবরাহ মিটার (ডিএমএ) বসানো হচ্ছে। আগামী মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে গ্রাহককে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, ওয়াসার পুরানো পানির লাইন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘ড্রেন ক্রস’ করে যাওয়ায় ‘স্কেভেটর’ দিয়ে ময়লা পরিষ্কারের সময় অসচেতনতায় তা ফেটে যায়। এতে পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা আসতে পারে। তবে এলাকাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করতে ওয়াসার কর্মীরা কাজ করছেন। নতুন পাইপলাইনে পানি সরবরাহ করা হলে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না।

এদিকে গত কয়েকদিন যাবত নগরীর পিটিআই, মিয়াপাড়া ও মৌলভীপাড়াসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসা-বাড়িতে খুলনা ওয়াসার সংযোগ লাইনে প্রচণ্ড দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি আসছে এমন অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক সেন্টিফিউগালে পানি উঠানো সম্ভব না। ফলে নগরবাসীর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীতে বসবাস করে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর পানির জন্য একমাত্র ভূ-গর্ভস্থ গভীর নলকূপ ও ওয়াসার সাপ্লাই পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। গরম মওসুমের শুরুতেই পিটিআই মোড়, টুটপাড়া ও মৌলভীপাড়া এলাকায় উৎপাদক নলকূপ চালুর পর পানির স্তর অনেক নিচেই নেমে যাচ্ছে। ফলে নগরীতে হাতচাপ টিউবওয়েল ও বাসা-বাড়িতে স্থাপিত সেন্টিফিউগাল পাম্পে চাহিদামতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগীরা জানায়, কয়েকদিন যাবৎ ওই সব এলাকায় বাসা-বাড়িতে খুলনা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির সাথে ময়লা আসছে এবং সেই পানি প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর মৌলভীপাড়া, টুটপাড়ার বাহাদুর লেন, বানিয়াখামার এলাকায় সরবরাহকৃত পানিতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে ওই পানি ব্যবহারে গ্রাহকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

টি বি বাউন্ডারী রোড়ের বাসিন্দা রাহাত রহমান বলেন, কয়েকদিন যাবৎ তাদের বাড়িতে ওয়াসার পানিতে ময়লা আসছে। পানিতে দুর্গন্ধও রয়েছে। ফলে পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দুর্বিষহ হয়ে উঠছে তাদের নিত্যদিনের জীবন।

মৌলভীপাড়া ও মিয়াপাড়ার একাধিক বাসিন্দা জানান, সব মিলিয়ে তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা সাত জন। বেশ কয়েকদিন ধরে পানি পাচ্ছে না তাদের পরিবার। তাই পানির চাহিদা মেটাতে পুরো পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহকৃত পানিতে পঁচা গন্ধ, অবিরাম ময়লা আসছে। ফলে দৈনন্দিন কাজ সারতে ভোগান্তি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওয়াসার সহকারী প্রকৌশলী বিক্রম মজুমদার বলেন, পাইপে কোথাও ছিদ্র হয়েছে। সেটি চেক করে শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা হবে।-ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ