ঢাকা, মঙ্গলবার 18 June 2019, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বগুড়ায় করতোয়ার বালুচর দখল করে টিএমএসএস’র পার্ক

নদীর তীর দখল করে পার্ক নির্মাণ করেছে এনজিও সংস্থা টিএমএসএস

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বগুড়ায় প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি করতোয়া নদী দখল করে দাঁড়িয়ে আছে এনজিও টিএমএসএসের পার্ক। নদীর বালুচর দখল করে অবৈধভাবে পার্কটির একটি অংশ তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, সড়ক বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভূমি অফিস অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদে একমত হলেও এনজিওটির অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে পেরে উঠতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। বরং বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে অবৈধ স্থাপণাটি রক্ষায় শেষ চেস্টায় রয়েছে টিএমএসএস।

সবর্শেষ গত ১০ এপ্রিল জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানকে বিবাদী করে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন টিএমএসএস। তথ্য মতে, ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ টিএমএসএস একটি ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক এনজিও প্রতিষ্ঠান। ১৯৮০ সালে বগুড়ায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। এটি একটি নারীভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি মোটামুটি সারা দেশে বিস্তৃত হলেও মূল কর্মযজ্ঞ বগুড়াকেন্দ্রিক। টিএমএসএসের উদ্যোগে বগুড়া শহরসহ আশপাশে গড়ে উঠেছে বহু কল্যাণমূলক সংগঠন। এসব সংগঠন করতে বিভিন্ন সময়ে সরকারি খাস জমি দখলসহ স্থানীয়দের জায়গা নামমাত্র মূল্যে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে।

সূত্র মতে, টিএমএসএসের উদ্যোগে বগুড়ার করতোয়া নদীর নওদাপাড়ায় বালুচরে টিএমএসএস মম ইন বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। পার্কটির একটি বড় অংশ করতোয়া নদীর অংশ। যা নিয়ে স্থানীয় সুশীলসমাজসহ প্রশাসনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন টিএমএসএসের সঙ্গে পেরে উঠছেন না।

সূত্র আরও জানায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার আসার পর সারা দেশের নদী দখলমুক্ত করে আপনরূপ ফিরিয়ে আনতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তৎপর হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে ঢাকার পার্শ্ববর্তী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ নদীর তীর দখলমুক্ত করতে দফায় দফায় অভিযান চালানো হয়েছে এবং চলছে। এসব অভিযানে নদীগুলোর বিরাট অংশ ইতোমধ্যে দখলমুক্ত হয়েছে।

সরকার এবং মন্ত্রণালয়ের কড়াকড়ি নির্দেশনার পর করতোয়া নদী দখলমুক্ত করতে তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে গত মাসের ৪ এপ্রিল নওদাপাড়ার বারাকপুর মৌজায় করতোয়া নদীর ডানতীরে ঢালের ওপর নির্মিত পার্কগেটের মালিকানা নির্ধারণের জন্য টিএমএসএসের একজন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে সরেজমিন পরিমাপ করে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত পূর্বক উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

ঐদিনই ৮ এপ্রিল সকাল ১০টায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার সময় নির্ধারণ করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার জন্য টিএমএসএসকে চিঠি দেন বগুড়া পওর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ। ৮ এপ্রিল সওজ, ভূমি সার্ভেয়ার, জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং টিএমএসএসের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বারাকপুর মৌজার ৬৪০৫ নং দাগে সরকারি ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত করতোয়া নদীর সীমানা সিএস নকশা অনুসারে সরেজমিন পরিমাপ করা হয়।

পরিমাপে দেখা যায়- ৬৪০৫ নং খাস খতিয়ানভুক্ত করতোয়া নদীর সিংহভাগ টিএমএসএসের পার্কের স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। অবৈধ অংশের স্থাপনাটির পরিমাণ ০.০৬০৬ একর। অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করার পর তা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় আইন শৃঙ্খলাবাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান পওর নির্বাহী প্রকৌশলী।

উচ্ছেদ অভিযানের তৎপরতা বুঝতে পেরে ৯ এপ্রিল জমির জরিপসংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজিনামা দেয় টিএমএসএস নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম। একইসঙ্গে পওর নির্বাহী প্রকৌশলী অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেন তিনি।

চিঠিতে ড. হোসনে আরা বেগম দাবি করেন- জরিপকালে জেলা প্রশাসনের লোকজন টিএমএসএসের প্রতিনিধির সঙ্গে পরিচিত হন নাই এবং জরিপের কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনাও করেননি। পওর নির্বাহী প্রকৌশলী একতরফাভাবে জরিপ করেন এবং ঐ রাতেই অধিনস্ত জনবলের নিকট থেকে তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করে পরের দিন ৯ এপ্রিল উচ্ছেদ প্রস্তাবনা দাখিল করেন। এর একদিন পরই ১০ এপ্রিল বগুড়া জেলা প্রশাসক, পওর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদি করে আদালতে মামলা দায়ের করে টিএমএসএস। মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৭ জুন শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালক একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। এরপর সংশ্লিষ্টদের ম্যাপসহ সরেজমিন প্রতিবেদন দিতে বলেছি, তারা প্রতিবেদন দিলে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।

এ প্রসঙ্গে টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে নয়, নিজের জায়গাতেই পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জরিপ করেছেন। জরিপকালে আমি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং তার ছবি আছে। নদীর জায়গায় নয়, টিলার উপর পার্ক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা করেছি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতই রায় দেবে টিএমএসএস সঠিক না বেঠিক।

সূত্র: ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ