ঢাকা, শুক্রবার 21 June 2019, ৭ আষাঢ় ১৪২৬, ১৭ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আজ থেকে সমুদ্রে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:- আজ সোমবার থেকে ৬৫ দিন সমুদ্রের বাংলাদেশ সীমানায় মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার্। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশসহ অন্যান্য বড় বড় মাছের প্রজনন মৌসুম। এসময় মাছ শিকার করলে মৎস্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। তাই ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে যে কোনো প্রকার মৎস্য ও ক্রাস্টশিয়ান্স আহরণ বন্ধ থাকবে।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সাল থেকে সমুদ্রে মাছের এই প্রজনন মৌসুমে (২০ মে থেকে ২৩ জুলাই) মাছ ধরা আইন চালু করা হয়। 

জানা গেছে, মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপকূলীয় জেলার জেলে ও মৎসজীবীদের নিয়ে মৌসুম আসার আগেই সমুদ্রে মাছধরা নিষিদ্ধ সংক্রান্ত সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলে ও মৎস্য আহরণ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সম্যক অবহিত করা হয়েছে।  

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. অলিউর রহমান বলেন, ২০১৫ সাল থেকে ৬৫ দিন সমুদ্রে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় আজকে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, সাগরে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন হলে মাছের পরিমাণ আরো বাড়বে। একইসাথে বছরের ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখলে বাকি তিনশ’ দিন ৩ থেকে ৪ গুণ মাছ বেশি পাওয়া যাবে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে বরিশাল, কক্সবাজার, ভোলা লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রামে নিষিদ্ধকালীন সময়ে মাছ না ধরতে পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট, বিলবোর্ড ও জেলে পল্লীতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে এবং সচেতনতামূলক এই প্রচারণা অব্যাহত থাকবে। 

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজাহারুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ মৌসুমে সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, কোস্টগার্ড, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাগণ, নৌ-পুলিশ জেলার কমৎস্যজীবী সমিতি, জেলে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করেছে। তাদের নিয়ে কর্মশালা করা হয়েছে। লিফলেট, বিলবোর্ড ও জেলে পল্লীতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। 

এদিকে একটানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞায় দেশের উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের মধ্যে অসেন্তাষ দেখা দিয়েছে। জেলেরা এই সময়ে উপার্জনহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা তুলে ধরে সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে।

চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলের মৎসজীবীরা জানান, তারা মহাজন ও আড়তদারের কাছ থেকে দাদন নিয়েছেন। এনজিও থেকে ঋণ এবং চড়া সুদেও টাকা এনেছেন অনেকে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রে মাছ ধরতে না পারলে তাদের পক্ষে ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। হয়তো জাল-ট্রলার বিক্রি করে এসব দেনা শোধ করতে হবে।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লিটন দাস বলেন, আজ ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন সমুদ্রে সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু জেলে পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রামের প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা মাছ ধরে দৈনিক যা আয় করি, তা দিয়েই সংসার চলে। প্রায় আড়াই মাস যদি মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে এতোগুলো পরিবার চলবে কীভাবে? আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, মাছ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা পুনরায় বিবেচনা করুন। জেলেদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিন।- ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ