ঢাকা, বুধবার 22 May 2019, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ফসলের উপর উশর ফরজ

এস. এম. মাসুদুল ইসলাম : উশর শব্দের আভিধানিক অর্থ এক-দশমাংশ। কিন্তু পরিভাষায় উশর হচ্ছে উৎপন্ন ফসলের যাকাত যা কোন জমির উৎপাদিত ফসলের দশ ভাগের একভাগ অথবা বিশ ভাগের একভাগ। অর্থাৎ যাকাত হলো সম্পদের উপর এবং উশর হলো শস্য/ফসল/ফলের উপর। যাকাত দানে যাকাতদাতার সম্পদ কমে না বরং বৃদ্ধি পায় এবং তার অন্তর কৃপণতার কলুষতা থেকে পবিত্রতা লাভ করে। তাই এর নাম করা হয়েছে যাকাত। ইসলামের পরিভাষায় শরীয়তের নির্দেশ এবং নির্ধারণ অনুযায়ী নিজের মালের একটি নির্দিষ্ট অংশের স্বত্বাধিকার কোন অভাবী লোকের প্রতি অর্পণ করাকে উশর বা যাকাতবলা হয়।
যাকাত ফরজ হয় মক্কাতেই কিন্তু তখন কি কি মালের উপর কি পরিমাণ দিতে হবে তার বিস্তারিত বিবরণ নাযিল হয় নাই। যার কারণে সাহাবীগণ নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা থাকতো তার সবই দান করে দিতেন (তাফসীরে মাজহারী)। অতঃপর দ্বিতীয় হিজরীতে মদীনায় এর বিস্তারিত বিবরণ নাযিল হয়। এ কারণে বলা হয় যে, মদীনাতেই যাকাত ফরজ হয়েছে।
আমাদের এ উপ-মহাদেশে আমরা যারা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে দাবি করি তাদের অধিকাংশের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়; তারা মনে করে যে, ‘নামাজ, রোজা, যাদের সামর্থ আছে তাদের জন্য হজ্জ্ব এবং বড়জোর Optional হিসেবে যাকাত’ এটাই হলো ইসলাম বা মুসলমানের কাজ। অথচ যে কলেমার জন্য, দ্বীনের জন্য, আল্লাহর হুকুম আল্লাহর যমীনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাসূল (সাঃ) সারাটা জীবন পরিশ্রম করেছেন তা বেমালুম ভুলে যাই। আমাদের এই বুঝের অভাবের কারণে একদিকে  যৈমন আমরা জঘন্য জঘন্য অন্যায় কাজ, ঘুষ, সুদ, অবিচার, মিথ্যার সাথে সম্পৃক্ত,ঠিক সাথে সাথে নামাজ, রোজা, হজ্জ্বও সমান গতিতে চালিয়ে যাচ্ছি, অর্থাৎ মনে করছি নামাজ-রোজা-হজ্জ্ব এক বিষয় এবং ঘুষ-সুদ/অন্যায় কাজ আরেক বিষয়। যা নবী-রাসূল, সাহাবী এবং তাঁদের অনুসারীদের জীবদ্দশায় কোথাও দেখা যায় নাই। অর্থাৎ অন্যায় এবং ন্যায় একই সাথে চলতে পারে না। ঠিক একইভাবে আমরা যারা যাকাতকে আবশ্যকিয়/ফরজ মনে করি তাদের অধিকাংশ বেমালুম ভুলেই গিয়েছি যে, যমীন থেকে উৎপাদিত ফসল বা ফলের উপর যাকাতও একইভাবে ফরজ। বাংলাদেশে প্রায় ৯০% মুসলমান এবং আমরা অধিকাংশই গ্রামে বসবাস করি যেখানে হাজার হাজার টন খাদ্যশষ্য উৎপাদন হয় কিন্তু হিসাব করে ঊশর কত জনে প্রদান করি! অথচ এটি একটি আবশ্যকিয় ফরজ ইবাদত। এমনকি গ্রাম-গঞ্জের মসজিদসমূহে এবিষয়ের উপর আলোচনাই লক্ষ্য করা যায় না।
উশরের শরয়ী হুকুম ঃ
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন মজীদে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা নিজেরা যা অর্জন করেছো, সে পবিত্র (সম্পদ) এবং যা আমি যমীনের ভিতর থেকে তোমাদের জন্য বের করে এনেছি, তার থেকে (একটি) উৎকৃষ্ট অংশ (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর’। সূরা আল-বাকারঃ আয়াত নং-২৬৭, অনুবাদ: আল-কোরআন একাডেমি পাবলিকেশন্স
মহান আল্লাহ্ আরও বলেন, ‘(তিনি আরও সৃষ্টি করেছেন) খেজুর গাছ এবং বিভিন্ন (স্বাদ ও) প্রকার বিশিষ্ট খাদ্যশস্য ও আনার (এগুলো স্বাদে গন্ধে এক রকমও হতে পারে), আবার তা ভিন্ন ধরনেরও হতে পারে, যখন তা ফলবান হয় তখন তোমরা তার ফল খাও, তোমরা ফসল তোলার দিনে  (যে বঞ্চিত) তার হক আদায় কর, কখনও অপচয় করিও না; কেননা, আল্লাহ তা‘য়ালা অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না’। সূরা আল-আনয়াম, আয়াত নং-১৪১, অনুবাদ: আল-কোরআন একাডেমি পাবলিকেশন্স
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেন, ‘পাঁচ ওসাকের কম পরিমাণ শস্যের মধ্যে কোন যাকাত নেই, পাঁচ উটের কম সংখ্যায় যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কমে (রৌপ্য দ্রব্যের জন্য) যাকাত নেই’। মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২১৩৫, অনুবাদ: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার এবং বোখারী শরীফ, হাদীস নং-১৩২৩, অনুবাদ: আধুনিক প্রকাশনী
এক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ)’র আরও একটি হাদিস উল্লেখ করা যেতে পারে। আমর ইবনে হারিস থেকে বর্ণিত, আবু যুবায়ের তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে আলোচনা করতে শুনেছেন, তিনি নবী (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন, ‘যে জমি নদী-নালা ও পানিতে সিক্ত হয় তাতে উশর (উৎপাদিত শষ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত) ধার্য হয়। আর যে জমিতে উটের সাহায্যে পানি সরবরাহ করা হয় তাতে অর্ধেক উশর (বিশ ভাগের এক ভাগ) ধার্য হয়’। মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২১৪৪, অনুবাদ: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার
এখানে পাঁচ ওসাক বলতে এদেশীয় ওজনে প্রায় সাড়ে সাতাশ মন।www.123muslims.com/zakat/13576-rules-zakat.html’র তথ্য মতে ১১০০ কেজি’র বেশী ফসলকে বুঝানো হয়েছে।কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (র:) এবং পরবর্তীযুগের হানাফী আলেমগণের মতে ‘ভূমি থেকে যাই উৎপন্ন হোক, কম হোক বা বেশী হোক তার উপর যাকাত দিতে হবে’।
এ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদন হলে ১০% এবং সেচের মাধ্যমে উৎপাদন হলে ৫% উশর দিতে হবে। কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে ১ বৎসর গচ্ছিত থাকার বিষয়টি বিবেচিত হবে না। উৎপাদিত পণ্যকেই হিসাবে আনতে হবে।
 কোন কোন ফসল/শস্য/ফলের উপর উশর ফরজ ঃ জমি থেকে উৎপাদিত প্রত্যেক ফসলের উপর উশর ফরজ। যেমন খাদ্যশস্য, সরিষা, তিল, বাদাম, আখ, খেজুর, শুকনো ফল, শাকসবজি, শশা, খিরাই, গাজর, মূলা, সালগম, তরমুজ, লেবু, পেয়ারা, আম, মালটা প্রভৃতি। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করা হলে বনজ বৃক্ষ, ঘাস, নলখাগড়া, ঔষধি বৃক্ষ, চা বাগান, রাবার চাষ, তুলা, আগর, ফুল, অর্কিড, বীজ, চারা, কলম ইত্যাদি যাকাতের আওতাভুক্ত হবে।
অনেক ধরনের ফল/ফসল আছে যা একই সাথে উত্তোলন করা যায় না, পরিপক্কতা বুঝে কিছু কিছু করে কয়েকদিন পর পর পুরো কৃষি মৌসুমে বার বার উত্তোলন করা হয়। ফসলের মালিক যদি উত্তোলনের শুরুতেই ফসলের পরিমা নিরূপণ করতে সমর্থ হন এবং তা যদি নিসাব পরিমান হয় তাহলে প্রথম থেকেই প্রতি উত্তোলনের সাথে সাথে উশর পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু শুরুতেই যদি নিসাব পরিমান না হয় তাহলে প্রথম উত্তোলন থেকেই হিসাব রাখতে হবে এবং যখন নিসাব পরিমানে পৌছে যাবে তখন থেকেই উশর পরিশোধ করা শুরু করতে হবে।
ফসল পাকার পর মালিক মারা গেলেও তার উপরই উশর ধার্য হবে, কিন্তু ফসল পাকার আগে যদি মালিক মারা যায় তাহলে তার উত্তরাধিকারীকে উশর পরিশোধ করতে হবে।
এক বছরে ব্যক্তির ভোগ ব্যয়ের পর যে পরিমান সম্পদ সঞ্চিত থাকে তার উপর যাকাত ধার্য হয়, কিন্তু উশরের ক্ষেত্রে যখন ফসল কাটা হয় তখনই ভোগ ব্যয়ের পূর্বেই বের/গণনা করতে হবে।
ফসল যখনই ব্যবহারযোগ্য হবে তখনই তার উপর উশর হবে। যেমন-ছোলা, মটর, আম প্রভৃতির পাকার পূর্বেই তা ব্যবহার হয়ে থাকে। অতএব তখন যে পরিমান ফসল কাটা হবে তার উপর উশর বের করতে হবে। উশর বের করার পূর্বে তা ব্যবহার করা দূরস্তঃ নয়।
জমির খাজনা দিলে উশর মাফ হয় না।
উশর মোট উৎপাদিত ফসলের উপর আদায় করতে হবে। উশর আদায়ের পর অবশিষ্ট ফসল থেকে কৃষির যাবতীয় খরচ বহন করতে হবে। 
এখানে উল্লেখ্য যে, উশর/যাকাতঅবশ্যই সঠিকভাবে হিসাব এবং সহী নিয়তের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। অনুমানের উপর ভিত্তি করে (হিসাব ছাড়া) উশর/যাকাত দেওয়া যাবে না। যদি কেউ অনুমানের উপর ভিত্তি করে উশর/যাকাত প্রদান করে তাহলে সেটা উশর/যাকাত আদায় হবে না, সাদকা হিসেবে বিবেচিত হবে। সুতারাং আমাদেরকে অবশ্যই আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পন্থায় উশর/যাকাত‘র হিসাব করে পরিশোধ করতে হবে।
ফসল/শস্য/ফল‘র যেই অংশের উপর উশর ফরজ হবে না:
ফল বা ফসলের যে অংশ চাষ কাজে ব্যবহৃত গবাদি পশু ভক্ষণ করে ফেলে তার উপর।
পথচারীগণ কর্তৃক ভক্ষণ করে ফেলা অংশের উপর।
জনহিতকর কাজে দান করে দেওয়া অংশের উপর। 
উশর/যাকাত না দেওয়ার পরিণাম
যাকাত না দেওয়ার পরিণাম সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য সঞ্চিত করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদেরকে কঠিন শাস্তির সুসংবাদ প্রদান করুন। যে দিন সেসব দোযখের আগুনে উত্তপ্ত এবং তদ্দারা তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠাদেশে দাগ দেওয়া হবে এবং বলা হবে, এ সবকিছু তাই যা তোমরা দুনিয়াতে নিজেদের জন্য সঞ্চয় করে রেখেছিলে, সুতারাং যা তোমরা সঞ্চয় করে রেখেছিলে এখন তার স্বাদ গ্রহণ কর’। সূরা তওবা ঃ আয়াত ৩৪-৩৫
সুতারাং এখানে স্পষ্ট যে কেয়ামতের সেই কঠিন দিনে উশর/যাকাত না দেওয়ার কারণে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। অতএব এখন থেকে দৃড় প্রতিজ্ঞাবদ্ব হব যে, আমাদের উপর ধার্যকৃত উশর/যাকাত সঠিকভাবে হিসাব করে পরিশোধ করব।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী উশর/যাকাত মূলত ৮ ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে যা সংক্ষিপ্তাকারে নি¤েœ তুলে ধরা হলো-
গরীব বা ফকীরঃ যাদের কাছে কিছু না কিছু ধন-সম্পদ আছে কিন্তু তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য যতেষ্ট নয়, খুবই টানাটানির ভেতর দিয়ে যাদের জীবন অতিবাহিত হয়, তদুপরি কারও কাছে কিছু চাইতে পারে না, এরা গরীব।
মিসকীনঃ যে সব লোকের অবস্থা আরও খারাপ, পরের কাছে হাত পাততে বাদ্য হয়, নিজের পেটের অন্নও যারা যোগাড় করতে পারে না তারা মিসকীন।
যাকাত আদায় ও বন্টন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গঃ ইসলামী রাষ্ট্র যাকাত আদায়ের জন্য যাদের কর্মচারী নিয়োগ করবে তাদেরকেও যাকাতের অর্থ থেকে বেতন দেওয়া হবে।
যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন বা আল্লাহ্র দ্বীনের জন্য যে সব লোকের মন জয় করা প্রয়োজনঃ ইসলামের সহায়তার জন্য কিংবা ইসলামের বিরোধিতা বন্ধ করার জন্য যাদেরকে টাকা দেওযার প্রয়োজন তারা এর অর্ন্তভুক্ত। সেই সকল নও-মুসলিমও এর অর্ন্তভুক্ত যাদেরকে সমস্যা মুক্ত করা একান্ত অপরিহার্য।
গোলাম ও কয়েদীদের মুক্তি বিধান বা দাসমুক্তকরণঃ যে ব্যক্তি দাসত্ব শৃংখলে বন্দী হযে আছে এবং যে মুক্তি পেতে চায় তাকেও যাকাতের অর্থ দিয়ে মুক্ত করা যাবে।
ঋণগ্রস্ত লোকঃ যে সব লোক ঋণী অথবা ঋণ আদায় করার সস্বলও যাদের নেই, তাদেরকেও যাকাতের টাকা দ্বারা ঋণ ভার থেকে মুক্তি দেওয়া যাবে। কিন্তু তাই বলে কারও কাছে হাজার টাকা থাকলেও সে যদি একশ টাকার ঋণ হয় তাহলে তাকে কোন অবস্থাতে যাকাত দেওয়া যাবে না।
আল্লাহ্র পথেঃ আল্লাহর পথে শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক। মুসলমানদের সমস্ত নেক কাজেই যাকাতের টাকা ব্যয় করা যেতে পারে। কিন্তু বিশেষ করে এর অর্থ হচ্ছে-আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের সাহায্য করা। নবী করীম (সাঃ) বলেছেন যে, ধনী ব্যক্তির পক্ষে যাকাত গ্রহণ জায়েয নয় কিন্তু ধনী ব্যক্তিই যদি জিহাদের জন্য সাহায্য গ্রহণ করতে বাদ্য হয, তবে তাকেও যাকাত দিতে হবেঃ কারণ এই যে, এক ব্যক্তি ধনী হতে পারে; কিন্তু জিহাদের জন্য যে বিরাট ব্যয় আবশ্যক, তা শুধু নিজের অর্থ দ্বারা পূরণ করতে পারে না। তার এ কাজের জন্য যাকাতের টাকা সাহায্য করা যাবে। এবং
নিঃস্ব^ পথিক বা মুসাফিরদেরকেঃ পথিক বা প্রবাসীর নিজ বাড়িতে যত ধন-সম্পদ থাকুক না কেন, কিন্তু পথে বা প্রবাসে সে যদি অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে তবে তাকে যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, আমরা সকলে যদি উশর/যাকাত প্রদান করতে পারি তাহলে দেশে আর দারিদ্রতা থাকবে না। আসুন আমাদের যাদের উপর উশর/যাকাত ফরজ তারা সবাই মিলে উশর/যাকাত প্রদান করি, ধনীদের সম্পদে গরীবের হক প্রতিষ্ঠিত করে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমাই, ব্যক্তি, সমাজ তথা কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে অবদান রাখি। আল্লাহ্ আমাদের তৌফিক দান করুন!­

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ