ঢাকা, বুধবার 22 May 2019, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জীবননগরে কৃষাণীর ১৫ কাঠা জমির ধান কেটে দিলেন জেলা প্রশাসক 

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা: ধান কাটার জন্য দিনমজুর না পাওয়ায় ক্ষেতের পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুঃচিন্তায় ছিলেন কৃষাণী জীবন নেছা (৫৫)। তার সেই দুঃচিন্তার অবসান হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে এসে কৃষাণী জীবন নেছার দুর্দাশার কথা জানতে পেরে তার ১৫ কাঠা জমির ধান কেটে দিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাসসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ। আজ মঙ্গলবার সকালে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর মাঠপাড়ার মাঠে ধান কেটে দেওয়ার দৃষ্টান্তমূলক এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার মনোহরপুর মাঠপাড়ার জলিল ব্যাপারীর মৃত্যুর ছেলে শাহ আলমকে সঙ্গে নিয়ে জীবন যুদ্ধ শুরু করেন জীবন নেছা। তিনি গত ৯ বছর ধরে মাঠে চাষাবাদ করে জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন। মনোহরপুর মাঠপাড়া মাঠে তার ১৫ কাঠা জমিতে বাবু আটাশ ধান ও এক বিধা জমিতে মুগ রয়েছে। উপজেলা জুড়ে বোর ধান কাটা শুরু হলে মজুর সঙ্কটের কারণে জীবননেছা তার ধান কাটার জন্য দিন মজুর পাচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় তিনি ক্ষেতের পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুঃচিন্তার মধ্যে পড়েন। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস কৃষক পর্যায় থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বেধান করার জন্য সকাল ৮টার সময় মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আসেন। এখানে আসার পর তিনি জীবন নেছার দুর্দশার কথা জানতে পারেন। বিষয়টি ইউএনও সিরাজুল ইসলামকে জানিয়ে তিনি ধান কাটার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন। তাৎক্ষণিকভাবে ধান কাটার সরঞ্জামাদির সংগ্রহ করেন উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল খালেক। ডিসি গোপাল চন্দ্র দাস কৃষাণী জীবন নেছা দাসকে সঙ্গে নিয়ে তার ক্ষেতে যান এবং ধান কাটা শুরু করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খন্দকার ফরহাদ আহমেদ, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকি, মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল খালেকসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মুক্ত স্কাউটসের ছেলেরা এসময় ধানকাটায় অংশগ্রহণ করেন। 

কৃষাণী জীবন নেছা জানান, তিনি হতদরিদ্র মানুষ। ধান কাটা নিয়ে খুবই দুঃচিস্তার ছিলেন। সরকারি অফিসাররা তার সেই চিন্তা লাঘŸ করে দেওয়াতে তিনি খুবই খুশি হয়েছেন। চুয়্ডাাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে এবার বোর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। একই সাথে ধানে পাক ধরাতে ধান কাটার দিন মজুর সংকট দেখা দিয়েছে। হতদরিদ্র জীবন নেছার দুর্দাশার কথা জানতে পেরে বিবেকের তাড়নায় তিনি এ কাজে এগিয়ে আসেন বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ