ঢাকা, মঙ্গলবার 22 October 2019, ৭ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

অ্যাপে মিলছে না রেলের টিকিট

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: রেলপথে ভোগান্তি কমাতে ট্রেনের টিকিট এবারই প্রথম ৫০ শতাংশ অনলাইনে অর্থাৎ অ্যাপের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে।তবে অ্যাপ বিষয়ে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা সুখের নয়। অ্যাপসটি সঠিকভাবে কাজ করছে না জানিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে যাত্রীরা। সকাল থেকে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও রেলের অ্যাপ ‘রেল সেবা’তে প্রবেশ করা যায়নি বলে অভিযোগ জানিয়েছেন অনেকেই। কোনো কোনো বার প্রবেশ করা গেলেও শেষ পর্যন্ত অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটা যাচ্ছে না।

রেলভবন সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে ঈদের সময় একসঙ্গে প্রায় দেড় লাখ হিট পড়ে। তবে সিএনএসবিডির যে সক্ষমতা তাতে মাত্র ২০ হাজার লোড নিতে পারে। যে কারণে সাধারণ মানুষ অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট পেতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছে।

রেলের অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেড বাংলাদেশ (সিএনএসবিডি) সূত্রে জানা গেছে, এবার ৫০ ভাগ টিকিট অনলাইনে তিন পদ্ধতিতে দেয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোনের এসএমএসে, ওয়েবসাইট থেকে এবং রেলের টিকিট কাটার সবশেষ ফিচার অ্যাপের মাধ্যমে। ঢাকা থেকে সবগুলো আন্তঃনগর ট্রেন মিলিয়ে দিনে প্রায় ৩০ হাজার ট্রেনের টিকিট রয়েছে। এর মধ্যে ৫ ভাগ রেলওয়ে কমকর্তা কর্মচারী ও ৫ ভাগ ভিআইপি ছাড়া বাকি সব টিকিটের ৫০ শতাংশ অনলাইন ও এসএমএস ও অ্যাপে পাওয়ার কথা।

ঈদ উপলক্ষে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম পরিদর্শনে বুধবার কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলমন্ত্রী  নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, অ্যাপে টিকিট পেতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব, পাশাপাশি অ্যাপের মাধ্যেমে যে সব টিকিট বিক্রি হবে না, আমরা পরবর্তিতে তা কাউন্টার থেকে বিক্রি করব।তিনি বলেন, রেল সেবা অ্যাপস নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএস যদি তার কাঙ্ক্ষিত সার্ভিস না দিতে পারে সেটা তাদের যেমন ব্যর্থতা, তা আমাদের জন্যও ব্যর্থতা।

অন্যদিকে ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তির অভিযোগ পেয়ে কমলাপুর রেল স্টেশনের সার্ভার রুমসহ অন্যান্য স্থান পরিদর্শনে এসেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টিম।

উল্লেখ্য, বুধবার সকাল ৯টা থেকে কমলাপুরে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে ২৬ মে পর্যন্ত। আজ (২২ মে) বিক্রি হচ্ছে ৩১ মের টিকিট। ২৩ মে যারা টিকিট সংগ্রহ করবেন তারা ১ জুন, যারা ২৪ মে সংগ্রহ করবেন তারা ২ জুন, যারা ২৫ মে সংগ্রহ করবেন তারা ৩ জুন, যারা ২৬ মে সংগ্রহ করবেন তারা পাবেন ৪ জুনের টিকিট।

যাত্রীদের সুবিধার্থে এবার পাঁচটি স্থান থেকে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রির হচ্ছে। যমুনা সেতু দিয়ে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে কমলাপুরে। চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে বিমানবন্দর স্টেশনে। ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করা যাবে তেজগাঁও রেলস্টেশন থেকে। নেত্রকোনোগামী মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে বনানী স্টেশন থেকে।

ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করা যাবে তেজগাঁও রেলস্টেশন থেকে। নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে বনানী স্টেশন থেকে। এছাড়া সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে ফুলবাড়িয়া (পুরনো রেলভবন) থেকে।

একজন যাত্রী চারটির বেশি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন না। ঈদের অগ্রিম বিক্রিত টিকিট ফেরত নেয়া হবে না। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। যাত্রীরা ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে অ্যাপের মাধ্যমে কিনতে পারবেন। স্টেশন কাউন্টার থেকে ৫০ শতাংশ টিকিট অগ্রিম কিনতে পারবেন। অনলাইনে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি না হলে অবিক্রিত টিকিট কাউন্টার থেকে দেয়া হবে। এদিকে রেলের ফিরতি টিকিট বিক্রি ২৯ মে শুরু হয়ে ২ জুন পর্যন্ত চলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ