ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 May 2019, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৭ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মোবাইল অ্যাপে ট্রেনের টিকিট কিনতে বিড়ম্বনা

ঈদের ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বুধবার কমলাপুর থেকে তোলা ছবি -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : মোবাইল অ্যাপ এর মাধ্যমে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কেনার পরিবর্তে উল্টো বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন ক্রেতারা। গতকাল বুধবার সকাল থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও কোন ক্রেতাই সম্প্রতি চালু হওয়া মোবাইল অ্যাপ এর মাধ্যমে কোন টিকিটই কিনতে পারছেন না। ফলে অ্যাপ এ ব্যর্থ হয়ে অনেকে নিজেরা এসে কমলাপুরে ভিড় করছেন টিকিট কেনার জন্য। তবে রেল মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন ক্রেতাদের এই দুর্ভোগের জন্য নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেছেন, আমরা পাঁচদিন দেখবো। এরপর মোবাইল অ্যাপ এর অবিক্রিত সব টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি করার উদ্যোগ নেবো।
এদিকে মোবাইল অ্যাপ এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠার সিএনএস এর দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। কমলাপুরে মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন, পাঠাও বা উবার যেখানে একসাথে কয়েক হাজার ইউজার হিট করছে কিন্তু সেখানে রেলসেবার অ্যাপ কোন কাজই করছে না। কেউই এখানে ঢুকতেই পারছেন না। টিকিট বিক্রির ঘরে ‘নিল’ বা ‘বিক্রিত’ দেখানো হচ্ছে। এটা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিএনএস এর কোন কারসাজি কিনা তারও তদন্তের দাবি জানান অনেকে।
উল্লেখ্য রেলের টিকিট বিক্রিতে ডিজিটাল করার পদ্ধতি প্রয়োগের অংশ হিসেবেই রেলের এই মোবাইল অ্যাপ এর উদ্বোধন করা হয় কয়েকদিন আগে। তখন জানানো হয়, ট্রেনের টিকিট কিনতে এখন আর দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হবে না। মুহূর্তে ট্রেনের টিকিট পেতে চালু করা হলো ‘রেলসেবা’ মোবাইল অ্যাপ। সম্প্রতি কমলাপুর রেলস্টেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন নিজে এই অ্যাপ থেকে টিকিট কেটে সেবাটির উদ্বোধন করেন।
অ্যাপটি উদ্বোধন করে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছিলেন, আমি টিকিট কেটে এই অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলাম। এখন থেকে রেলের ৫০ শতাংশ টিকিট এই অ্যাপের মাধ্যমেই কাটতে পারবেন। অ্যাপে জাতীয় কল সেন্টারের (৩৩৩) সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যসমূহ ইন্টিগ্রেইড করা হয়েছে। ফলে জাতীয় কল সেন্টার ৩৩৩ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পাওয়া যাবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বর্তমানে পাঁচশ ব্যক্তি একই সময়ে এই অ্যাপ থেকে টিকিট কাটতে পারবেন। ঘণ্টায় ১৫ হাজার টিকিট বিক্রি করার সক্ষমতা রয়েছে এই অ্যাপের। ভবিষ্যতে অ্যাপ থেকে টিকিট বিক্রির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। অ্যাপটিতে সব আন্ত:নগর ট্রেনের টিকিট ক্রয় করা যাবে, নির্দিষ্ট গন্তেব্যের ভাড়া জানা যাবে, টিকিট প্রাপ্যতা সম্পর্কে জানা যাবে, ট্রেন রুট, সময়সূচি, ট্রেনভিত্তিক বিরতি স্টেশনসমূহের নাম ও সময়সূচি, জার্নি হিস্ট্রি, কোচ ভিউ, সিট চয়েজ করা যাবে। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের নম্বর, খাবারের মেন্যু ও মূল্য তালিকাও জানা যাবে। পরবর্তীতে এ অ্যাপটি থেকে যেকোনো যাত্রী সহজেই তার নিজের অথবা পরিবারের জন্য খাবার কিনতে পারবেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ‘রেলসেবা’ অ্যাপে নিবন্ধন করা যাবে। একই আইডি থেকে একবারে চারটি আসনের জন্য টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। আর দিনে দুই বার চারটি করে আটটি পর্যন্ত আসনের টিকিট কাটতে পারবেন যে কেউ। প্রসঙ্গত, অ্যাপটি প্রাথমিক অবস্থায় শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা যাবে। এদিকে ‘রেলসেবা অ্যাপ’ নিয়ে রেলওয়ের এত প্রচারণার পর টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই দেখা গেল নানা বিপত্তি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেই অভিযোগ আসছে যে এই অ্যাপ দিয়ে টিকিট কেনা যাচ্ছে না। শুধু সময়ই অবচয় হচ্ছে। অবশ্য রেল মন্ত্রী টিকিট প্রত্যাশীদের আশ্বস্থ করে বলেছেন, পাঁচদিন অপেক্ষা করুন। অ্যাপ এর অবিক্রিত সব টিকিট কাউন্টার যাবে। তখন কাউন্টার থেকেই আপনারা টিকিট কাটতে পারবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ