ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 May 2019, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৭ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডায়াবেটিস ও হার্ট এ্যাটাক

ডায়াবেটিস মেলাইটাস হলো রক্তে গ্লুকোজের অধিক উপস্থিতি। ইনসুলিন হরমোন যা প্যানক্রিয়াস থেকে উৎপন্ন হয় এর অভাবে ডায়াবেটিস হয়। ডাক্তাররা ডায়াবেটিসকে বলেন নিঃশব্দ আততায়ী। কারণ, কোন রকম শারীরিক উপসর্গ ছাড়াই একজন মানুষের ভেতর ডায়াবেটিস লুকিয়ে থাকতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে সারা জীবনই এতে ভুগতে হয়। কেননা, এর নির্মূল সম্ভব হয়না। ডায়াবেটিস রোগটি জটিল হলেও এর চিকিৎসা জটিল নয়। সময়মতো এ রোগের চিকিৎসা না করালে হার্টের রোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা এবং স্নায়ুর বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। কিন্তু প্রথম থেকেই যদি এরোগের চিকিৎসা করা হয় তবে ডায়াবেটিস নিয়েও একজন মানুষ স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন-যাপন করতে পারে। ডায়াবেটিসের সাথে হার্ট অ্যাটাকের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ডাক্তারি ভাষায় হার্ট অ্যাটাককে বলা হয় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। হার্ট এ্যাটাকে হূদপিন্ডের মাংসপেশী সম্পূর্ণ মারা যায় বা অকেজো হয়ে যায়। হার্ট অ্যাটাকের প্রধান উপসর্গ বুকে ব্যথা। তীব্র বুক ব্যথা ছাড়াও মানুষের হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন অনেক সময় ব্যথা ছাড়া শুরু হয়। যদি কোন ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ করেই অত্যধিক ঘেমে যায়, তার যদি শ্বাসকষ্ট হয় অথবা ব্লাড প্রেসার কমে যায় তবে ইসিজি করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। কারণ হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা শুরু হতে যত দেরী হবে তত বেশী হৃদপিন্ডের ক্ষতি হবে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা অধিক হারে হার্ট অ্যাটাক আক্রান্ত হন। হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান একটি কারণ ডায়াবেটিস। বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিসের রোগীরা হার্ট এ্যাটাকের শিকার হন। ডায়াবেটিস রোগে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেশী থাকে এবং ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল কম থাকে। ফলে কোলেস্টেরল হৃদপিন্ডের নালীতে জমে জমে নালীর ভেতর বন্ধ করে দেয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়। আরো দেখা গেছে যাদের রক্তে সুগারের পরিমাণ বেশী তাদের রক্তের অনুচক্রিকা খুব তাড়াতাড়ি রক্ত জমাট বাঁধাতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের হার্ট অ্যাটাক বেশী হয়। ডায়াবেটিস রোগীর হার্ট অ্যাটাক খুব বিপজ্জনক। কারণ প্রায় শতকরা পঁচিশ ভাগ ডায়াবেটিস রোগীর হার্ট এ্যাটাক হয় ব্যথাহীন। রোগী সহজে বুঝতে পারেনা এবং হঠাৎ মৃত্যু ঘটে। তবে কিছু কিছু উপসর্গ থেকে ব্যথাহীন হার্ট অ্যাটাক বোঝা যায়। ডায়াবেটিস নতুন কোন রোগ নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে হার্ট এ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। যেসব খাবারে সুগার বেশী থাকে তা না খাওয়াই ভালো। গরুর মাংস, খাসির মাংস, ডিমের কুসুম, তেলজাতীয় খাদ্য কম খাওয়া উচিত। মাছের তেল উপকারী সুতরাং তা খাওয়া যাবে। মুরগির মাংস, ডাল, মাছ, সবজি ও ফলমূল খেলে সমস্যা হবেনা। তবে চিনি, মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য, কোমল পানীয়, মদ, চকোলেট, জ্যাম-জেলী ও মধু এড়িয়ে চলা উচিত। দেখা গেছে যে সমস্ত রোগী নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের হৃদরোগ কম হয়। প্রতিদিন আধা ঘন্টা দৌড়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়। সপ্তাহে অন্ততঃ পাঁচদিন ব্যায়াম করা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ে এবং মন্দ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রিত হয়। ডায়াবেটিস রোগী যদি নিয়মিত ব্যায়াম করে তবে তাদের ওষুধের মাত্রাও কমিয়ে আনা যায়। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করা উচিত। যাদের চল্লিশের বেশী বয়স তাদের নিয়মিত চেক-আপ করানো উচিত। কঠোরভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করলে হার্ট অ্যাটাক বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুশ্চিন্তামুক্ত সুন্দর ও সাধারণ জীবন যাপন করা উচিত। এতে হার্ট এ্যাটাকের হাতে মৃত্যু অনেকাংশে কমে যাবে।
-ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল
মেডিসিন বিভাগ
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ