ঢাকা, বুধবার 23 October 2019, ৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আইলা’ দুর্গত জনপদ পুনর্বাসিত হয়নি ১০ বছরেও

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: আজ ভয়াল ২৫ মে। সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ আঘাত হানার  ১০ বছরেও পূর্নবাসিত হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপকুলীয় জনপদ। এখনও হাজার হাজার পরিবার আশ্রয়হীন। জনপদে চলছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও খাবার পানির তীব্র হাহাকার। সংস্কার হয়নি বেঁড়িবাধও। 

২০০৯ সালের ২৫ মে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট সর্বনাশা ‘আইলা’ আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলীয় জনপদে। মুহূর্তের মধ্যে সাতক্ষীরা  জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও খুলনা জেলার কয়রা ও দাকোপ উপজেলার উপকুলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতায় সমুদ্রের পানি এসে নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ, হাজার হাজার গবাদী পশু আর ঘরবাড়ি।

ক্ষণিকের মধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়ে লাখো পরিবার । লক্ষ লক্ষ হেক্টর চিংড়ি আর ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় উপকুল রক্ষাবাঁধ আর অসংখ্য ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সর্বনাশা ‘আইলা’র আঘাতে শুধু সাতক্ষীরায় নিহত হয় ৭৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। আর আহত হয় দুই শতাধিক মানুষ।

সর্বগ্রাসী আইলা আজও উপকুলীয় অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত হাজার, হাজার মানুষকে কুরে কুরে খাচ্ছে। প্রলংয়করী আইলা আঘাত আনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকুলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর ও আশশুনির প্রতাপনগর এলাকায় মানুষের হাহাকার এতটুকু থামেনি। দু‘মুঠো ভাতের জন্য জীবনের সাথে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।

এছাড়া আইলার পর থেকে এসব এলাকায় সুপেয় পানির সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খাবার পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল।

আইলা কবলিত এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট, উপকুলীয় বেড়িবাঁধ এখনও ঠিকমত সংস্কার হয়নি। ফলে উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্মবিত্ত সবাই বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

আইলা’র ভয়াবহতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে বসবাসরত মানুষের চোখে মুখে এখনও ভয়ংকর সেই স্মৃতি। আইলার আঘাতের পর থেকে গোটা এলাকা উদ্ভীদশূন্য হয়ে পড়ে। কৃষি ফসল ও চিংড়ী উৎপাদন বন্ধ থাকায় গোটা এলাকাজুড়ে তীব্র কর্মসংস্থানের সংকটও দেখা দেয়। যা আজও বিদ্যমান। কর্মহীন মানুষ অনেকেই এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে বাইরে চলে গেছে।

অপরদিকে, বনদস্যুদের অত্যাচারে সুন্দরবন, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর উপর নির্ভরশীল এ এলাকার মানুষের জীবনযাপন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। ফলে বিকল্প তেমন কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছেন না উপকুলীয় এ জনপদের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ।

ভুক্তভোগীরা জানায়, আইলার পরপরই কিছু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাজের বিনিময় খাদ্য প্রকল্পের কাজ হলেও এখন আর তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না।

এদিকে, আইলার ১০ বছর অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকুল রক্ষা বেড়িবাঁধগুলোর ভয়াবহ ফাঁটল দেখা দেয়ায় এবং সংস্কার না করায় সামান্য ঝড় কিম্বা বৃষ্টিতে ঝূঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে জনপদের কয়েক লাখ মানুষকে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, সুপেয় পানি, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেঁড়িবাধসহ উপকুলীয় এলাকার মাসুষের সমস্যা সমাধানে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ.কে.এম এনামুল হক শামীম সাতক্ষীরার উপকুলীয় এলাকা পরিদর্শনে এসে টেকসই বেঁড়িবাধ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিশ্রুতি নয়, তারা দেখতে চায় সরকার অতিদ্রুত এসব সমস্যার সমাধানকল্পে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।- ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ