ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 October 2019, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

এবার জার্মানির মসজিদে দুর্বৃত্তদের হামলা

হামলার শিকার হ্যাগেন শহরের গ্রেট মস্ক অব হ্যাগেন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: জার্মানির হ্যাগেন শহরে একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে মসজিদে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুনও ধরিয়ে দেয় তারা ।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার শিকার নর্থ রাইন-ওয়েস্টফ্যালিয়া প্রদেশে অবস্থিত মসজিদটি ‘গ্রেট মস্ক অব হ্যাগেন’ নামে পরিচিত।  জার্মানির সর্ববৃহৎ তুর্কি-মুসলিম সংগঠন ‘ইসলামিক কমিউনিটি ন্যাশনাল ভিউ’ মসজিদটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ হামলায় কেউ হতাহত না হলেও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানে সম্প্রতি জার্মানির মসজিদগুলি মাঝে মাঝেই হামলার শিকার হচ্ছে৷ ইদানীং এই প্রবণতাটা আরো বেড়ে গিয়েছে৷ মসজিদের সামনে শুয়োরের মাথা কেটে ফেলে রাখা হচ্ছে৷ দেওয়ালে আঁকাজোকা, দরজা ভাঙা এমনকি রাতে আগুন জ্বালানোর ঘটনাও ঘটছে৷ ২০১৩ সালে মুসলিমদের লক্ষ্য করে দেশটিতে ৮০০ এর বেশি হামলার ঘটনা ঘটে।এরপর গত ৬ বছরে এ ঘটনা আরো বৃদ্ধি পায়।

বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, রাজনীতিবিদ ও গবেষকরা তাই এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার কথা বলছেন৷

জার্মান সরকারের নতুন পরিসংখ্যানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, মসজিদগুলির ওপর হামলা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বছরে ২২টি হামলা হয়েছে মসজিদের ওপর৷ ২০১২ থেকে ২০১৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫/৩৬টি৷ মুসলিম সংগঠনগুলির পরিসংখ্যানেও এই রকম চিত্রই উঠে আসে৷

মুসলিম বিদ্বেষ বৃদ্ধির লক্ষণ

মুসলিম কেন্দ্রীয় পরিষদের প্রধান আইমান মাজিয়েক এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এটা মুসলিম বিদ্বেষ বৃদ্ধি পাওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ৷'' মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ও হিজাবপরা নারীদের ওপর সহিংসতার হার যে ভাবে বাড়ছে তা উদ্বেগজনক বলে মনে করেন মাজিয়েক৷

মুসলিমবিরোধী অপরাধকে আলাদাভাবে তালিকাবদ্ধ করা ও মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানান মাজিয়েক৷ বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে সহযোগিতার সংকেত আশা করেন তিনি৷ জার্মানিতে চার মিলিয়ন মুসলমান এই সমাজেই সম্পৃক্ত হয়ে বসবাস করছেন৷ পরিস্থিতি এখনও আয়ত্তের মধ্যে রয়েছে৷ কিন্তু কতদিন চলবে এইভাবে? এই প্রশ্ন আইমান মাজিয়েকের৷

জার্মানিতে বিদেশি বিদ্বেষকে রাজনৈতিক অপরাধের আওতায় ধরা হয়৷ কিন্তু ইসলাম বা মুসলমান বিদ্বেষ বলে আলাদা কোনো ক্যাটাগরি নেই৷

২০০১ সাল থেকে প্রতি আড়াই সপ্তাহ পর পর কোনো মসজিদ বা ইসলামি সংগঠন আক্রমণের শিকার হচ্ছে৷ এই তথ্য উঠে আসে মুসলিমদের সমন্বয় পরিষদের এক ওয়েব সাইটে৷ পরিসংখ্যানের বাইরে থাকা সংখ্যাটা আরো বেশি হবে বলে উল্লেখ করা হয় এই সাইটে৷

সমাজের কেন্দ্রে পৌঁছেছে

লাইপসিগ শহরের গবেষক ও চিকিত্সা মনস্তত্ত্ববিদ এলমার ব্র্যালারও জার্মানিতে মুসলিম বিদ্বেষ বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন৷ ইতোমধ্যে তা সমাজের বিস্তৃত অংশ তথা মধ্যবিত্ত শ্রেণিতেও এসে পৌঁছেছে৷ তবে ইসলাম বৈরিতা ইহুদি বিদ্বেষের মতো প্রকট হয়নি এখনও৷ ইহুদি বিদ্বেষ সমাজের গভীরে প্রোথিত৷ জার্মানিতে চরম ডানপন্থি মনোভাব নিয়ে একটি সমীক্ষা সহকর্মীদের সহযোগিতায় লাইপসিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপিত করেছেন ব্র্যালার৷ এর সারমর্ম: বর্ণ বৈষম্যের নতুন রূপ হলো ইসলাম বৈরিতা৷ ‘‘প্রতি তিন জনে একজন জার্মান মনে করেন, জার্মানিতে মুসলমানদের অভিবাসন নিষিদ্ধ করা উচিত৷'' জানান সমীক্ষার লেখকরা৷

মুসলিম বিদ্বেষ নতুন কোনো বিষয় নয়

বাম দলের রাজনীতিবিদ উলা ইয়েল্পকে মুসলিম বিদ্বেষ নতুন কোনো বিষয় নয় বলে মনে করেন৷ তাঁর দাবি, ইহুদি বিদ্বেষের মতো মুসলিম বিদ্বেষকেও নিষিদ্ধ করা উচিত৷ জার্মান সরকার বিষয়টিকে ছোট করে দেখছে বলে দোষারোপ করেন তিনি৷ মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দুরবস্থার জন্য বলির পাঠা করা উচিত নয়৷ বিষয়টি পারস্পরিক সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর৷

 

ইসলাম আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী জার্মানিতে মিনারসহ মসজিদের সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০৷ এছাড়া রয়েছে প্রায় ৩০০০-এর মতো দালান, যেখানে মুসলমানরা নামাজ পড়ে থাকেন৷

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ