ঢাকা,বুধবার 29 May 2019, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঈদের আগে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ

জিবলু রহমান : যানজট-জলজটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রাজধানীবাসী। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসলেই ঢাকার পথঘাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় জলজটের। প্রতি বছরই মন্ত্রী-মেয়ররা নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না রাজধানীবাসীর।
ঢাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হলেই মূল সড়ক থেকে অলিগলি সর্বত্রই পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। কোনো কোনো সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। দুই-তিন ঘণ্টা পর কিছু সড়কের পানি সরে গেলেও অনেক সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বেশিরভাগ সড়কেই সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজটের। অনেক সড়কে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি চলার কারণে সৃষ্টি হয় কাদাপানির। এছাড়া সড়কগুলো সরু হয়ে যাওয়ার কারণে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টিতে বরাবরের মতোই মিরপুরবাসীকে অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে মেট্রোরেল পথ নির্মাণ কাজ চলার কারণে সংশ্লিষ্ট সবগুলো সড়কেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর পাশাপাশি সড়ক সরু হয়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। গণপরিবহনে চলাচলকারীদের মিরপুর-১০ থেকে আগারগাঁও আসতেই তিন-চার ঘণ্টা লেগে যায়। বৃষ্টি হলেই কালশী সড়কে যেন পদ্মার ঢেউ উঠতে থাকে। অনেক সময় দেখা গেছে, সড়কে স্থানে স্থানে বাস বন্ধ হচ্ছে। সড়কে ঢেউ উঠছে নদীর মতো। নৌকা চলছে ঢেউয়ের তালে তালে। নৌকার মাঝি যাত্রী পারাপার করছে ১৫০ টাকায়। অনেক স্থানে দলে দলে যাত্রীরা পোশাক ভিজিয়ে হেঁটেই চলেছে সড়কনদী পার হয়ে। চলতে চলতে কেউ আবার গর্তে পড়ছে। বৃষ্টিতে যেখানে-সেখানে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে গর্ত।
ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা জনসংখ্যার আধিক্য। বর্তমানে এর লোকসংখ্যা দেড় কোটির মতো। প্রতি বর্গমাইলে সাড়ে ৩ হাজার লোক বসবাস করে। নিউইয়র্কে প্রতিএকরে যেখানে ২৫ থেকে ২৬ জন লোক বসবাস করে, সেখানে ঢাকায় বসবাস করছে ৫০০ থেকে ৬০০। নগরবিদরা মনে করছেন, ঢাকার উপর থেকে জনসংখ্যার চাপ কমাতে হলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণের বিকল্প নেই। স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করা অত্যাবশ্যক। এতে জেলা-উপজেলার মানুষ যদি তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সেখানে পান, তবে তাদের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। ঢাকার ভেতরে শিল্পকারখানা স্থাপনে নিরুৎসাহী এবং বিদ্যমান শিল্পকারখানা ঢাকার বাইরে নিয়ে যেতে উৎসাহী করে তুলতে হবে। ঢাকা বাদ দিয়ে এর আশপাশের জেলায় আলাদা শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থাৎ ঢাকার টাইট অবস্থা শিথিল করতে হবে। পাশাপাশি ঢাকার উন্নয়ন বা উন্নয়ন পরিকল্পনা যেভাবে করা হচ্ছে, জেলা শহরগুলোকেও একইভাবে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ঢাকার মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঢাকার সাথে জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ করা প্রয়োজন। যাতে মানুষ ঢাকা এসে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে দিনে দিনে নিজ অবস্থানে ফিরে যেতে পারে। নিউইয়র্ক শহর থেকে মানুষ ২০০ কিলোমিটার দূরে বসবাস করেও প্রতিদিন অফিস শেষে বাড়ি ফিরে যেতে পারছে। ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও এমন করতে হবে যাতে, দূর দূরান্তের মানুষ ঢাকায় অফিস করে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কোনো এক সংখ্যায় সাংবাদিক জোডি রোজেন লিখেছিলেন, ‘অন্যান্য শহরের রাস্তায় থাকে গাড়ি এবং পথচারীরা, কখনো রাস্তাগুলো আটকে গেলে পথচলা বাধাগ্রস্ত হয়। ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন। ঢাকার ট্রাফিক হচ্ছে চরম। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি এত ব্যাপক ও স্থায়ী যে এটা নগরীর গঠন সূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
জোডি আরও লিখেছেন, ‘উন্নয়নশীল দেশের অন্যান্য মেগাসিটির মতো একটা উঠতি আবাসন খাত, বেড়ে ওঠা মধ্যবিত্ত শ্রেণি, একটা প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমন্ডল নিয়ে ঢাকা যেন যুগপৎভাবে দ্রত বেড়ে ওঠা এক নগরী ও গোরস্থান, যা অবাধ দুর্গতি: দারিদ্র্য, দূষণ, রোগব্যাধি, রাজনৈতিক দুর্নীতি, চরমপন্থী সহিংসতা, জঙ্গি হামলা ইত্যাদির কারণে পর্যুদস্ত। কিন্তু শিক্ষাবিদ এবং উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের কাছে একুশ শতকের নাগরিক অকার্যকারিতার বিশাল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্বের চরম বিধ্বস্ত শহর ঢাকার পরিচিতি দিয়েছে তার ট্রাফিক। এটি ঢাকাকে পরিণত করেছে একাধারে উন্মত্ত ও স্থবির এক নগরে, পরাবাস্তব একটি জায়গায় এবং বদলে দিয়েছে পৌনে দুই কোটিরও বেশি নাগরিকের জীবনের ছন্দকে।’ ‘ঢাকার ট্রাফিক কেবল একটা বিড়ম্বনাই নয়, এটি দারিদ্র্য, এটি অন্যায়, এটি দুর্ভোগ।’
কয়েক বছর আগে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে স্ট্যান্ডার্ড বা বাসযোগ্য নগরীর যে মানদ- তুলে ধরা হয়েছে, ঢাকা তা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। স্থিতিশিলতা, স্বাস্থ্যসেবার মান, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো-এই পাঁচটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ঢাকার স্কোর গড়ে ৪০-এর নিচে। উন্নয়নকামী দেশের রাজধানী হিসেবে এই স্কোর কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এই স্কোরকে ধাপে ধাপে উন্নীত করতে না পারলে ঢাকার বাসযোগ্য হয়ে উঠার স্বপ্ন ধূসর এবং ক্রমেই তা দূস্তর হয়ে পড়বে। নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট বিভাগ, সর্বোপরি সরকারকে এ বিষয়টি উপলদ্ধি করে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের ‘হার্ট’ ঢাকা যদি ভালো না থাকে, তবে দেশের ভালো থাকার কোন কারণ নেই।
দেশের মহাসড়কগুলো সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্ত্রণালয়ের অধীন, কিন্তু সিটি করপোরেশনের রাস্তার অবস্থা দেখার দায়িত্ব তাঁর নয়। তবে তিনি ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) চেয়ারম্যান। সড়কমন্ত্রী এর আগে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ছুটে গেছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন।
২০১৮ সালের ৩০ মে ফেসবুকে তিনি ঢাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা নিয়ে নিজেই লিখেছেন, ‘ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়কে নগর উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। ঈদ সামনে রেখে এসব কাজ জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে। বৃষ্টিবিঘিœত হওয়ায় কাদামাটিতে পথচারীদের চলাচলেও কষ্ট হচ্ছে। সড়কের লেন কমে যাওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। তাই এ সময়ে ডিটিসিএর চেয়ারম্যান হিসেবে আমি ওয়াসা, ডেসাসহ নগরে উন্নয়নকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে ঈদের আগে-পরে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করছি।’ (সূত্র : দৈনিক কালের কন্ঠ ১ জুন ২০১৮)
ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে যানজট, গণপরিবহন সংকটসহ নানা কারণে নগরীর যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ১৮ মে ২০১৯ সংবাদপত্রে প্রেরিত যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ বলছে, পরিবর্তিত অফিস সময় অনুযায়ী বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের প্রায় ৯৭% সিটিং সার্ভিসের নামে দরজা বন্ধ করে যাতায়াত করছে। এতে নগরীর মাঝপথের বিভিন্ন স্টপেজের যাত্রী সাধারণ চরম নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছেন।
এতে বলা হয়, বাসগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এতে করে নিম্ন আয়ের লোকজনের যাতায়াত দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে নগরীতে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সা শতভাগ চুক্তিতে চলাচল করছে। এতে মিটারের প্রায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও যাত্রীদের পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৯৩% অটোরিক্সা। অনেকটা কাকতালীয়ভাবে ড্রাইভারের পছন্দের গন্তব্যে মিলে গেলে রাজি হয় যাত্রীর গন্তব্যে যেতে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কমলাপুর, মগবাজার, শনিরআখড়া, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, শাহবাগ, ফার্মগেইট, মিরপুর-১০, মহাখালী, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, বনানী, বারিধারাসহ নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ট্যাক্সি ক্যাবের দেখা মেলে না।
নৈরাজ্যে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে রাইড শেয়ারিং এর নামে চলাচল করা মোটরবাইকগুলো। বিকাল ৪টার পর থেকে অ্যাপস এর পরিবর্তে খ্যাপে ৩ থেকে ৪ গুণ অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী বহন করার চিত্র নগরজুড়ে দেখা গেছে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রয়োজনীয় সংখ্যক যাত্রী ছাউনি না থাকায় বা যাত্রী ছাউনিগুলো বেদখল হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন নগরীর রোজাদার যাত্রী-সাধারণ। বিশেষত নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা এ পরিস্থিতিতে ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হলেও রাস্তার কোথাও দাঁড়ানো বা বসে বিশ্রামের সুযোগ মেলে না। যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, রমজানে নগরীতে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত পরিস্থিত সরজমিন পর্যবেক্ষণকালে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রীসেবা পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্যরা রমজানের শুরু থেকে যাত্রী সাধারণের কর্মস্থলে যাতায়াত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এই সময় দেখা গেছে, অফিস ছুটি শেষে ইফতারকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী যাত্রীকে টার্গেট করে নগরীতে চলাচলকারী বাসের প্রায় সবক’টি এখন রাতারাতি সিটিং সার্ভিস বনে যায়। এইসব বাসগুলো বিশেষত ইফতারের সময় যাত্রীদের ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দ্রুত গন্তব্যে যাত্রা করে। এই সময়কালে একমাত্র বিআরটিসি ও হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানির বাস লোকাল হিসেবে চলাচল করে।
এইসব বাসে মাঝপথের যাত্রীরা বাদুরঝোলা হয়ে যাতায়াত করছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রীসেবা পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির ৩টি টিম গত ৭ দিন নগরীতে উল্লিখিত স্পটসমূহে যাত্রী ভোগান্তি ও ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ করে। পর্যবেক্ষণে এসব এলাকায় বাস-মিনিবাস, অটোরিক্সা, ট্যাক্সিক্যাব, রাইড শেয়ারিং সার্ভিসসমূহের যাত্রীসেবা পরিস্থিতি, চালক ও যাত্রীসাধারণের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি করে। সমিতি বলছে, পর্যবেক্ষণকালে ৯০% যাত্রী রমজানে গণপরিবহন ব্যবস্থার এ কর্মকা-ের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ৯৫% যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার হন। ৯৮% যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার হয়। ৬৮% যাত্রী চলন্তবাসে উঠানামা করতে বাধ্য হন। সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও ৩৬% যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হন। হয়রানীর শিকার হলেও অভিযোগ কোথায় করতে হয় জানে না ৯৩% যাত্রী। তবে ৯০% যাত্রী মনে করেন অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না বলেই তারা অভিযোগ করেন না। যাত্রী ভোগান্তির এ চিত্র জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্ব পেলেও এসব ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীন গোটা ঢাকা শহর এখন স্থানে স্থানে গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। কোথাও ভেঙেছে, কোথাও বড় হচ্ছে গর্ত, কোথাও বৃষ্টিতে বিটুমিন উঠে গেছে। প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার পথের ৩৫% রাস্তাই দুর্ভোগের কারণ হয়ে পড়েছে। ঈদ সামনে রেখে কেনাকাটা ও বিভিন্ন কারণে গাড়ি চলাচল বেড়েছে। রাজধানীতে নিবন্ধিত গাড়ি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাড়তি গাড়ি ঢুকছে। ভাঙা সড়কে বাড়তি গাড়ির চাপে তাই আরো খারাপ হচ্ছে রাস্তাঘাট, যানজটের স্থায়িত্ব বাড়ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ