ঢাকা, শুক্রবার 31 May 2019, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তিন অদম্য মেধাবী

সাজ্জাদ হোসেন সিয়াম    ফাহিমা ইসলাম সাথী           উম্মে কুলছুম মনিরা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : মেধা যোগ্যতা ও নিষ্ঠা দিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করে এবার এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ভূরুঙ্গামারীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষার্থী। পিতা মাতা কেউ দিনমজুর, কেউ চায়ের দোকানি, কেউ আবার সামান্য হাতের কাজ জানা মিস্ত্রী। দারিদ্র্যকে জয় করে অদম্য মেধাবী তাদের সন্তানেরা স্বপ্ন ওদের আকাশ ছোঁয়া।

 চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে মানুষের সেবা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেও অর্থাভাবে তাদেও আশার তরি কোন ঘাটে ভিরবে তা নিয়ে সংকিত অবিভাবকরা। সাজ্জাদ হোসেন সিয়ামঃ ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে। সাজ্জাদেও বাবা আব্দুল মালেক একজন দিন মজুর। চোখের সামনে বাবার দিন রাত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম দেখে প্রাইভেট পড়ার বায়না ধরেনি সাজ্জাদ। নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা কওে জিপিএ ৫ পেয়েছে। সাজ্জাদরা দুই ভাই বোন। ছোট বোন মোহনা প্রতিবন্ধি। সিয়াম পেশায় প্রকৌশলী অথবা প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে দেশ ও দশের সেবা করতে চায়। ফাহিমা ইসলাম সাথীঃ ভূরুঙ্গামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার বাবা দীন ইসলাম চায়ের দোকানে কাজ করে। পাইকেরছড়া ইউনিয়নে গছিডাঙ্গা গ্রামে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন দীন ইসলাম। বাড়ীর ভিটে ছাড়া অন্য কোন জমি না থাকায় চায়ের দোকানে কাজ করে কোন মতে সংসার চলে তার সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় রাত জেগে লেখা পড়া করে বিজ্ঞান বিভাগ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে। সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। উম্মে কুলসুম মুনিরাঃ ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার পিতার নাম আবুল কালাম, পেশায় সেনিটারী মিস্ত্রী। বাড়ি ছিল সোনাহাট ইউনিয়নের ভরতেরছড়া গ্রামে এক টুকরো সরকারি খাস জমিতে। চাষাবাদ যোগ্য কোনো জমি না থাকায় ২০১৪ সালে ভূরুঙ্গামারী সদরে এসে ভাড়াবাসায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সামান্য আয়ে সংসার চলে না তার।  বাধ্য হয়ে পেশা বদল করে কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যায় মুনিরার বাবা। সংসারে অভাব অনটন সত্যেও হাল ছাড়েনি মুনিরা। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় সে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে। মুনিরার ছোট বোন কানিজ ফাতেমা গত বছর জিএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ও ছোট ভাই সামিউল পিএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে। মুনিরাও ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়। ভালো ফলাফলে দুচোখ ভরা স্বপ্ন আর উচ্ছাস থাকলেও উচ্চ শিক্ষার ব্যয় কিভাবে মিটবে সে দুশ্চিন্তা তারা করে ফিরছে তাদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ