ঢাকা, সোমবার 3 June 2019, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৮ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মোদি সরকারের নতুন শিক্ষানীতিতে হিন্দি শিক্ষা বাধ্যতামূলক

২ জুন, ইন্ডিয়া টুডে : দুই দিন আগেই শপথ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা। দপ্তর বণ্টনের পর মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক। তাঁর ডেপুটি সঞ্জয় শ্যামরাও ধোতারে। শুক্রবার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের কাছে খসড়া শিক্ষানীতি উপস্থাপন করেন। 

জাতীয় অ্যাডুকেশন পলিসি-র চেয়ারম্যান তথা ইসরোর প্রাক্তন প্রধান ড. কৃষ্ণস্বামী কস্তুরেরঙ। মোটামুটি ১৯ টি গুরুত্বপূর্ণ বদল সুপারিশ করেছে খসড়া কমিটি। সেখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শেখার কথ বলা হয়। কিন্তু তারপর হিন্দী চাপিয়ে দেবার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ শুরু হয়। তামিলনাড়ুসহ দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্য।

ভারতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দিভাষা বাধ্যতামূলক করায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরালাতে। 

শুক্রবার ভারতের মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর তার হাতে নতুন শিক্ষানীতির খসড়া জমা পড়ে বল জানা যায়। 

এনডিএ’র শরিক দল এডিএমকে এবং পিএমকে জানিয়েছে, অহিন্দি ভাষাভাষী রাজ্যগুলোতে জোর করে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিলে সেটা ভারতের বহুত্ববাদী চিন্তাধারায় আঘাত করবে। তামিলনাড়–র এডিএমকে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী কেএ সেঙ্গোত্তাইয়ান জানিয়েছেন, তারা কেন্দ্রের এই নীতি মানবেন না। তামিল নাডুর স্কুলগুলোতে তামিল এবং ইংরেজীভাষা শিখানো হয়। এই বিষয়ে তামিল নাডুর মুখ্যমন্ত্রী ই পলানিস্বামী প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। 

এদিকে ডিএমকে নেতারা কেন্দ্রকে আবারও ভাষা যুদ্ধের হুশিয়ারি দিয়েছেন । বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, এটা বিজেপির দীর্ঘ দিনের কৌশল-‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান’ এর প্রতিফলন।

ভারতীয় স্পেস রিচার্স অর্গানাইজেশন (ইসরো) এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান কে কস্তুরীরঙ্গন কমিটি শিক্ষানীতি তৈরি করেন ১৯৮৬ সালে। যা সংশোধন হয় ১৯৯২ সালে। শিক্ষানীতির খসড়ায় বলা হয়, স্কুল শিক্ষায় হিন্দি ভাষাভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য হিন্দি ও ইংরেজী এবং অ-হিন্দী ভাষাভাষী রাজ্যে হিন্দি, ইংরেজি ও আঞ্চলিক ভাষা শিক্ষার প্রয়োজন। এই শিক্ষানীতি অনুযায়ী তামিলনাড়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরালার মতো অহিন্দি ভাষাভাষী রাজ্যগুলোর জন্য হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক।

নতুন শিক্ষানীতিতে অতীতের ১০+২ শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে ৫+৩+৩+৪ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। এই শিক্ষা ব্যবস্থায় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বলে কিছু থাকবে না। পাঠ্যক্রমে সামগ্রিক শিক্ষা, যুক্তিবাদী ভাবনা, সৃজনশীলতা, দলগতভাবে কাজ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, একাধিক ভাষা শিক্ষা ও ডিজিটাল শিক্ষায় জোর দেয়া হবে।

তামিলনাড়ুতে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা এটাই প্রথম নয়। স্বাধীনতার আগেও এই রাজ্যটিতে এ ধরনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। স্বাধীনতার পরে ১৯৬৫ সালে হিন্দি ভাষাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ সাংঘর্ষিক রূপ নিয়েছিলো।

বিজেপির ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে নতুন শিক্ষানীতির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। এবার দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারে এসে বিজেপি একশো দিনের মধ্যে নতুন শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করতে চাইছে। তবে, মানবসম্পদ উন্নয়ণ মন্ত্রী বলছেন, এটা শুধুই খসড়া। মোদি সরকারের উদ্দেশ্য হিন্দিভাষা চাপিয়ে দেয়া নয়, সকল ভারতীয় ভাষার বিকাশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ