ঢাকা, সোমবার 10 June 2019, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কুয়াকাটা সৈকত ও পায়রা বন্দর পর্যটক সমাগমে মুখরিত

এইচ,এম, হুমায়ুনকবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : ঈদুল-ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটক-দর্শনার্থীর সমাগমকে ঘিরে অপরুপ সৌন্দর্যের বেলাভুমি কুয়াকাটা মুখরিত হয়ে উঠেছে। যেখানে দাঁড়িয়ে সুর্যোদয় সুর্যাস্তের অপরুপ ও নয়নাভিরাম এবং মনভোলানো দৃশ্য ও সৈকতের দাঁড়ালে চোখে পড়বে দিগন্ত জোড়া আকাশ আর সমুদ্রর রাশি রাশি নীল জল আর সমুদ্রের নীল জলের তরঙ্গায়িত ঢেউ কাঁচ ভাঙ্গা ঝন ঝন শব্দের মত আছরে পড়ছে কিনারায় ও উড়ে যাচ্ছে সাদা গাংচিলের দল এদিক ওদিক -মাছ শিকারের জন্য লড়াকু জেলেরা ট্রলারে ও নৌকায় ছুটে যাচ্ছে গভীর সমুদ্রে তা উপভোগ করা যায়।
বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে ও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী পরিবার পরিজন নিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এসেছেন। পবিত্র রমজান মাসের পর্যটক শূন্যতা কাটাতে এখন মুখিয়ে আছেন সকল ব্যবসায়ীরা। কলাপাড়া-কুয়াকাটা নদীতে বর্তমানে তিনটি ব্রিজ হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ভাল থাকায় এ বছর সবার্ধীক পর্যটকের আগমনে কুয়াকাটা উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ঈদের দিন পটুয়াখালী ও পার্শ্ববর্তী বরগুনা জেলার আমতলী. তালতলী দর্শনার্থীরা কুয়াকাটায় পৌঁছবেন। ঈদের পরের দিন ঢাকা, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার থেকে সপ্তাহে জুড়ে পর্যটক এসে কুয়াকাটা অবস্থান করবেন। শুত্রবার সকাল কুয়াকাটা সৈকতে গিয়ে চোখ পড়ে সর্বত্রই পর্যটকদের বিচরণ। গতকাল শনিবার সকাল থেকে আবহাওয়া ভাল থাকায় কুয়াকাটাগামী দর্শনার্থী সমগম ছিল চোখে পড়ার মত। আগত দর্শনার্থীর পথভারে মুখরিত ছিল সৈকতের-জিরো-পয়েন্ট, ইকোপার্ক, গঙ্গামতি লাল কাকড়ার চর,  লেম্বুরচর, শুটকিপল্লী, মিশ্রিপাড়া, ইলিশপার্ক. রাখাইন মহিলা মার্কেট পর্যটনমুখী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গুলোয় কেনাকাটার ভিড় লক্ষ করা গেছে। আগত পর্যকেরা নিজেদের ভ্রমনকে আনন্দদায়ক করতে ছুটে চলছেন বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। হৈ হুল্লোড়, ছুটোছুটি আর সাগরের পানিতে আনন্দ গোসল, নাগরিক জীবনের চাপ ঝেড়ে প্রকৃতির সাথে মিতালির। পর্যটন সংশ্লিষ্ট মনে করছেন, দেশের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রে চেয়ে কুয়াকাটা প্রচুর পর্যটন স্পট রয়েছে। আবাসিক হোটেল মোটেলসহ পর্যটনমুখী ব্যবসা প্রতিষ্টান গুলোয় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। হোটেল মোটেলসহ সৈকতের কোথাও তিল দরনের ঠাঁই নেই। বর্তমানে কুয়াকাটার সাথে সারা দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় কোন ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে কুয়াকাটা আসতে পারে বেশি পর্যটকরা। তবে হোটেল মোটেলসহ সব ধরনের ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে পর্যটকদের অভিযোগ। শুক্রবার কুয়াকাটা সৈকতে গিয়ে কথা হয় কয়েক জন পর্যটকের সাথে। পটুয়াখালী (দুমকি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল কৃষি বিভাগের প্রথম বর্ষেও ছাত্রী নওসিন জাহান বলেন, ঈদের ছুটি উপভোগ করতে তারা সপরিবারে এখানে এসেছেন। থাকার জন্য হোটেলে ভালো মানের রুম পাওয়া যায়নি। খাওয়ার হোটেলও তেমন ভালো না। যা আছে সে গুলোর মালিকরা খাবারের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। এখানে সব কিছুতেই বেশি দাম নেয়া হচ্ছে তবুও সৈকতের অপরুপ দৃশ্য দেখে অসাধ্রাণ লাগছে। ফরিদপুর ভাঙ্গা থেকে আসা মুহিন বলেন কুয়াকাটা আমার একটি প্রিয় স্থান। তাই বিশেষ দিন গুলো উদযাপন করতে এখানে আসি।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সদস্য ও কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক রিসোর্ট সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, কুয়াকাটা ভ্রমন পিপাসুদের জন্য আনন্দময় স্থান। কিন্তু এ স্থানটির উন্ন্য়নের জন্য সরকার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। পর্যটকরা ইতোমধ্যে কেউ কেউ আগাম বুকিং দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ঈদের জন্য তাঁদের সাতদিনের প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু পর্যটক সমাগম-থাকবে-অন্তত-১৫দিন।
কুয়াকাটা গেস্ট হাউস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও বিপুল পর্যটদের আগমনে তারা খুবই খুশি তার এসোসিয়েশনভুক্ত অধিকাংশ হোটেলে পর্যটকের আগাম বুকিং রয়েছে। ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকের জন্য কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের রয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। ইতোমধ্যে হোটেল মোটেল মালিক ছাড়াও বীচে ছাতা ও বেঞ্চির ব্যবসায়ীদের রয়েছে বর্ণিল  সাজে সজ্জিত। বীচের বিনোদনে সংযোজন হয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাইডারসহ বিশেষ দ্রুতগামী বিভিন্ন জলযান। কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রমনে একাধিক ট্যুরিস্ট গাইড সংস্থা সক্রিয় রয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, কুয়াকাটায় আসা পর্যটক-দর্শনার্থীর ভ্রমনকে নিরাপদ করতে কুয়াকাটা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বেশ সচেষ্ট রয়েছে। সমুদ্র সৈকত এলাকা আলোকিত রাখতে বিদ্যুত ব্যবস্থা সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মহিপুর পুলিশী থানার ওসি মো. সাঈদুর রহমান বলন, পর্যটকদের নিরাপক্তা দিতে দ্বিগুন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং কোন অপ্রতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কুয়াকাটায় আসা পর্যটকের জন্য আকর্ষণীয় স্পট শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার ও মিশ্রিপাড়ার সীমা বৌদ্ধবিহার এলাকা দর্শন পথে নিরাপত্তা বিধানে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছেন।
এ দিকে কলাপাড়া রাবনা বাঁধ নদীর মোহনায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রায় ঈদের দিন বিকেল থেকে দর্শনার্থীদের পদভারে গোটা বন্দর এলাকায় মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিদিন শত শত লোক পায়রা সমুদ্র বন্দরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন। এটি ও এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় ভাবে হয়ে উঠছে। রাবনাবাঁধ নদীর মোহনায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রায় ঈদের দিনে ঘুরতে আসা পটুয়াখালী করিম মৃধা কলেজের ছাত্র শাহিন বলেন, দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রায় বন্দর কলাপাড়ায় হওয়ায় দক্ষ্ণি অঞ্চলের মানুষ হিসেবে আমরা গর্বিত। এখানে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসে খুবই ভালোই লেগেছে। ভবিষ্যতে এখানে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় স্থান হয়ে দাঁড়াবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি অনুপ দাশ জানান, কুয়াকাটায় পর্যটক দর্শনার্থীর ভ্রমন শতভাগ নির্বিঘ্ন এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া হোটেল- মোটেল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে, যেন হোটেল ভাড়াসহ সবকিছুর ব্যয়ভার পর্যটকের কাছে সহনশীল পর্যায়ে থাকে। মোট কথা ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ব্যাপক সমাগমকে ঘিরে সরকারের সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ