ঢাকা, সোমবার 10 June 2019, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খড়ের পরিবর্তে গো-খাদ্যের বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়ছে গরু পালন

খুলনা অফিস : খুলনার ডুমুরিয়ায় গো-খাদ্যের চাহিদা মেটাতে খড়ের বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে নেপিয়ার ঘাস। কৃষি ও পতিত জমি এবং বাড়ির আশে-পাশে কা- রোপণ করে ব্যাপকহারে এ ঘাসের চাষাবাদ হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে গরু পালন বেড়ে যাওয়ায় আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে শত শত পরিবার।

জানা গেছে, ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ডুমুরিয়া উপজেলা। এ উপজেলার বেশির ভাগ মানুষের পেশা কৃষি। আর এখানে প্রধান ফসল উৎপাদন হয় ধান। উৎপাদিত এ ধান মানুষের খাদ্য এবং খড় গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি এ অঞ্চলে গরু পালন বেড়ে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের। এ সংকট নিরসনে খড়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিদেশী নেপিয়ার ঘাস। এলাকাবাসী জানায়, কৃষি ও পতিত জমি এবং বাড়ির আশে-পাশে এ ঘাসের চাষ হচ্ছে। কান্ড রোপন করে এ ঘাসের চাষাবাদ করা হয়। সার ও কীটনাশক ছাড়াই শুধুমাত্র গোবর ব্যবহার করে মাত্র ১৫ দিন অন্তর এ ঘাস কাটা যায়। ঘাস কাটার পর ওই গোড়া থেকেই ফের ঘাস জন্ম নেয়। ফলে একাধিকবার রোপন করা লাগে না। এছাড়া এ ঘাস তিন বেলা খাওয়ালেও পশুর শরীরে কোন ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে না।

তারা আরও জানায়, বেশিরভাগ লোক সফল হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রতিটি ঘরে গরু পালন করা হচ্ছে। ধনী-গরীব সকল শ্রেণীর মানুষ গরু পালনে ঝুকছে। অনেক পরিবার ব্যাংক ঋণ নিয়ে গরু পালন করছেন। ফার্মও গড়ে তুলেছেন অনেকে। কিছু কিছু ফার্মে ২০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত গরু রয়েছে। তাই এ গরুর জন্য উপজেলা উৎপাদিত খড় যথেষ্ট নেই। ফলে সংকট পূরণে এ ঘাসের কদর বেড়েছে। এছাড়া বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে এ ঘাস হচ্ছে।

বামুন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা সন্দিপন বিশ্বাস বলেন, তার বাড়িতে চারটি বিদেশী গরু আছে। কিন্তু বিলের কোন ধানী জমি নেই। 

তাই খড় কিনে খাদ্যের সংকট মেটাতে হতো। এতে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যেত। কিন্তু এখন বাড়ির পাশে ২০ শতক ডাঙ্গা জমিতে এ ঘাসের চাষাবাদ করা হচ্ছে। এতে কম খরচে চারটি গরুর খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়েছে। ফলে গরু পালনে এখন সফল তিনি।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়ার প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, কান্ড রোপন করে এ ঘাসের চাষাবাদ করা হয়। কোন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করা লাগে না। শুধুমাত্র গোবর সার ব্যবহার করে এর চাষাবাদ করা যাচ্ছে। ফলে এ ঘাস গরুর জন্য খুবই উপযোগী। কোন ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ