ঢাকা, মঙ্গলবার 11 June 2019, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৭ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে -ড. মুহা. রেজাউল করিম

গতকাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর শহর শাখার ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম -সংগ্রাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম বলেছেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাযাতের মহিমান্বিত মাস পবিত্র মাহে রমযান বিদায় নিয়েছে। এই বরকতময় মাসেই বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হয়েছে। তাই এই মাসকে কুরআনের মাসও বলা হয়। মূলত পবিত্র রমজান মাসের সবচেয়ে বড় উপহার হলো মহাগ্রন্থ আল কুরআন।  তিনি মাহে রমজানের প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে আত্মগঠন ও কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বেগবান করতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
গতকাল সোমবার লক্ষ্মীপুরে জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর শহর শাখা আয়োজিত ‘ঈদ পূনর্মিলনী ও প্রীতিসমাবেশ’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহর আমীর শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও নায়েবে আমীর মাওলানা জহিরুল ইসলামের পরিচালনায় প্রীতিসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইডব্লিউএফ-এর জেনারেল সেক্রেটারি ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল আযীম। উপস্থিত জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজউল্লাহ, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী, লক্ষ্মীপুর শহর সেক্রেটারি আবুল ফারাহ নিশান, কর্মপরিষদ সদস্য আ হ ম মুস্তাকুর রহমান ও জামায়াত নেতা মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
ড. এম আর করিম বলেন, ঈদ মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। ঈদের দিনে মুসলমানরা ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে জমায়েত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন; জামায়াতবদ্ধ হন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপনের জন্য। ঈদের অনাবিল আনন্দে মুসলিম উম্মাহ  শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত শান্তির সমাজ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরাচারি মনোবৃত্তির কারণেই এবারের ঈদ উৎসব মুখর ও আনন্দঘন হতে পারেনি। সিয়াম সাধনা ও ঈদ পালন নির্বিঘœ এবং উৎসব মুখর করার দায়িত্ব সরকারের হলেও সরকার সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি বরং সরকারের দায়িত্বহীনতার কারণেই রমযান মাসে দ্রব্যমূল্য ছিল আকাশচুম্বী। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি না পেলেও লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সিয়াম পালন ছিল রীতিমত কষ্টসাধ্য। রমজান মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক ছিল না। তাই এবারের ঈদের আনন্দ ছিল অনেকটাই ম্লান।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষে এবারের ঈদকে অধিকতর স্বস্তিদায়ক ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন বলে দাবি করা হলেও তা ছিল সত্যের অপলাপ মাত্র। ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা মোটেই স্বস্তিদায়ক ছিল না বরং তারা পথে পথে নানাভাবে হয়রানি ও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। এবারের চাঁদাবাজীও অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রয়োজনের তুলনায় যানবাহনও ছিল অপ্রতুল। তাই যাত্রীদেরকে অধিক ভাড়াও গুণতে হয়েছে। নিম্নমানের পরিবহণ ও রাস্তাঘাটের কারণে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানীও ঘটেছে। মূলত সরকার জনগণের ম্যান্ডেটের পরিবর্তে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে বলেই  দেশ ও জনগণের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। তাই দেশ ও জাতিকে অপশাসন ও দুঃশাসন থেকে বাঁচাতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। তিনি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ