ঢাকা, মঙ্গলবার 11 June 2019, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৭ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের খোঁজে তিনটি বিশেষ কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে পুনর্গঠন করতে বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তিনটি কমিটি, যারা খুঁজে বের করবে ছাত্রদলের আগামী দিনের কান্ডারি। রোববার মধ্যরাতে  বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আগামী দিনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করতে ও দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুতের জন্য ছাত্রদল পুনর্গঠন শুরু করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে পুরনো কমিটি। নতুন কমিটি গঠনে তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কাউন্সিল-২০১৯ উপলক্ষে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশারফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, নির্বাহী সদস্য রাজিব আহসান।
বাছাই কমিটিতে আছেন- বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান।
বাছাইয়ের পর সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধান করতে কাজ করবে আপিল কমিটি। এতে সদস্য হিসেবে আছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান।
তারেক রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে এ তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে- এমনটিই দাবি একটি দায়িত্বশীল সূত্রের। ছাত্রদলে সাবেক কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, গত দুইমাসে দফায় দফায় বৈঠক করে ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ঠিক করার পন্থা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। এতে কাজ করে শামসুজ্জামান দুদুর নেতৃত্বে একটি সার্চ কমিটি। তবে অনৈক্যের কারণে এই কমিটির কাজ এগোচ্ছিল না। সর্বশেষ ঈদের আগে তারেক রহমান সরাসরি ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ৩১ মে গুলশানের চেয়ারপারসন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্কাইপে লন্ডন থেকে যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। পরে মাত্র তিন দিনের মাথায় পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে কাউন্সিলরদের অভিমতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করতে সংগঠনটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের প্রতি নির্দেশ আসে। ওই নির্দেশনার পর ছাত্রদলের অভিজ্ঞ ও বয়স্ক নেতাদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। বয়স্ক ছাত্রনেতাদের কারও অভিযোগ, খালেদা জিয়াকে অবহিত করে এ নির্দেশনা আসেনি। তারা তারেক রহমানের কাছে বয়স্কদের বাদ দেওয়ার ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করতে আবেদন করেছিলেন। এও সতর্ক করেছিলেন, এ সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে।
কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বয়স্কদের আবেদনে সাড়া দেননি, উল্টো নতুন নেতৃত্ব বাছাই করারই সিদ্ধান্ত পাকা করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি অন্যান্য সংগঠনগুলোতেও হাত দেবেন এবং সরাসরি নির্বাচন করবেন’- এমন আশাবাদ জানালেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা, যিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধান বলছে, ছাত্রদলের কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে কারাবন্দি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সম্মতি নিয়েই দলের ‘ভ্যানগার্ড’কে চাঙ্গা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, গত ১২ বছর টানা ক্ষমতার বাইরে থাকার সময়টিতে ছাত্রদের যে অংশটি রাজনৈতিকভাবে জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছে, তাদেরকে সামনে আনতেই নতুন নেতৃত্বের খোঁজ শুরু করেছে বিএনপির হাইকমান্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ