ঢাকা, মঙ্গলবার 11 June 2019, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৭ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ফের জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো 

১০ জুন, রয়টার্স : বিশ্ববাজারে ফের বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক এবং রাশিয়ার উচিত উৎপাদন বর্তমান মাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা; সৌদি আরবের এমন ঘোষণার পরই সোমবার বাজারে দরবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

ইরান ও ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে এমনিতেই তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরব কর্তৃক ওপেকভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি তেল উত্তোলন বর্তমান মাত্রায় সীমাবদ্ধ রাখার ঘোষণায় দুনিয়াজুড়ে তেল সরবরাহের সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইরানের সবচেয়ে বড় ও লাভজনক পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ ‘পার্সিয়ান গালফ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি (পিজিপিআইসি)’ এর ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রিভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এ নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

৭ জুন এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’কে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার দায়ে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পকে নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় একইসঙ্গে আরো ৩৯টি সহযোগী কোম্পানিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনে এগুলোকে ইরানের ‘বিদেশ-ভিত্তিক বিক্রয় এজেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পিজিপিআইসি বা এর সহযোগী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন বলেছেন, আইআরজিসি’কে আর্থিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দানকারী সব কোম্পানি ও হোল্ডিং গ্রুপকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। পার্সিয়ান গালফ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজে ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যালের ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয়ে থাকে। দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল রফতানির ৫০ ভাগই এখান থেকে হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে সংঘাত শুরু হলে প্রথম আঘাতেই তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা তা সহ্য করতে পারবে না। এজন্য আমেরিকা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ