ঢাকা, মঙ্গলবার 11 June 2019, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৭ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

গতকাল সোমবার জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে মিডিয়া ব্রিফিং করেন জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বৃহত্তর ঐক্যের লক্ষ্যে ফ্রন্টের পরিধি বাড়াবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল সোমবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব সাংবাদিকদের একথা জানান। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য আমরা আগামী সভাটা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে করব। এই আন্দোলনের রূপ হবে ঐক্যবদ্ধ, বৃহত্তর ঐক্য। এজন্য ঐক্যফ্রন্টকে আরো বৃহত্তর ও ব্যাপক করতে হবে। এই লক্ষ্যে আমরা সুস্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি, স্বাধীনতার পক্ষে সরকার বিরোধী যত রাজনৈতিক দল আছে সবাইকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ আমরা এই স্বৈরাচারীর হাত থেকে জনগণের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।
রব বলেন, আমাদের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন অসুস্থ থাকার কারনে আমরা এই বৈঠক মূলতবি করেছি। উনার উপস্থিতিতে যে বৈঠক হবে সেই বৈঠকে পরবর্তি করণীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
সংসদে যাওয়া নিয়ে মতভিন্নতার কারনে ফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দিলেও কাদের সিদ্দিকী আরো সময় দিয়েছেন ফ্রন্টকে। বৈঠকে অংশ নেয়ার পর সাংবাদিকদের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, আমরা ৮ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম, কোনো উত্তর পাইনি। আজকে দীর্ঘসময় আলোচনা হয়েছে, সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এটার সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নাই যেহেতু আমাদের প্রবীণ নেতা(ড. কামাল হোসেন) অসুস্থ, সেহেতু বৈঠকটি মূলতবি রাখা হয়েছে। এজন্য আমি আমার দলের সভায় আলোচনা করে আরো অপেক্ষা করবো। যদি সুরাহা হয় আমরা আামাদের জান-প্রাণ লড়িয়ে দিয়ে লড়াই করবো, আমরাও চাই জাতীয় বৃহত্তর ঐক্য। এখন পর্যন্ত সেই জাতীয় ঐক্যের ভিত শক্তিশালী হয় নাই, এখন অবধি জাতির প্রত্যাশা আমাদের ঐক্যফ্রন্ট করতে পারেনি।
আপনি তো বলেছিলেন ৮ তারিখ সমাধান না হলে থাকবেন না- এরকম প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলেছি। এ ব্যাপারে সমাধান করার জন্যই আলোচনা। আমি গত ৪ তারিখ ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছি। তারপরে আজকে সব দলের সঙ্গে নেতাদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড. কামাল হোসেন অসুস্থ থাকায় এই বিষয়টা সম্পূর্ণ হতে পারে নাই। সেজন্য কিছু সময় আমাকে ধরয্য ধরতেই হবে, আমাদেরকে ধৈয্য ধরতে হবে।
আপনি আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন এরকম প্রশ্নের জবাব নাকচ করে দিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি কোনো দিন আল্টিমেটাম দেইনি। আমি প্রশ্ন রেখেছিলাম। অনেকে অনেকের মতো করে ইয়ে করেন। আল্টিমেটাম অন্য জিনিস। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান ও পুনঃনির্বাচনের প্রত্যাশা আমাদের মনে হয়েছে-এটা জাতীয় আকাংখা, এটা জাতির কথা। পরবর্তিতে সংসদে ছিঁটে ফোটা ৬/৭ সদস্য ভাত খেতে গেলে যেমন ভাত পড়ে, এরকম ছিঁটে ফোটা কয়েকজন শপথ নেয়ায় জাতি মর্মাহত হয়েছে। সেই প্রশ্নগুলোই আমরা ঐক্যফ্রন্টের প্রবীন নেতা ও ঐক্যফ্রন্টের কাছে করেছি। আমরা বিশ্বাস করি মানুষের নিরাপত্তা নাই, প্রতিদিন মানুষ মরছে, এই যে অব্যবস্থাপনা- এর থেকে বাঁচতে হলে বৃহত্তর ঐক্য দরকার।
রব বলেন, আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ, আমরা ওয়াদাবদ্ধ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রবর্তনের মাধ্যমে জনগনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আনা। এটা এখনো আদায় করতে পারি। এটা না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, ঐক্য অব্যাহত থাকবে। কৃষক ধানের মূল্য না পাওয়া, নারী নির্যাতন বৃদ্ধি, দুর্নীতির ব্যাপকতাসহ নানা বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রব।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আসম রব বলেন, আপনাদের একটা প্রশ্ন হতে পারে। সেটা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী যে চিঠি ড. কামাল হোসেন ও ঐক্যফ্রন্টের কাছে দিয়েছেন তার জবাব কি হবে। যদি সংসদ অবৈধ হয় তাহলে আপনাদের দলের লোকেরা সংসদে গেলো কেনো? আমি বলতে চাই, আজকে আপনারা একজন মহিলা সদস্য(সংরক্ষিত আসনে)এর বক্তব্য দেখেছেন, তিনি বলেছেন সংসদ অবৈধ। আমি বলছি প্রথম দিনও বলেছি, আজকেও বলছি এই সংসদ অবৈধ। কারাবন্দি খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির দাবিতে মুক্তির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
উত্তরায় আসম আবদুর রবের বাসভবনে এই বৈঠক শুরু হয়েছে বিকেল ৪টায়, শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক জেএসডির আসম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন, শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল মঈন খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, হাবিবুর রহমান তালুকদার, ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের ড. জাহিদ-উর রহমান, মোমিনুল ইসলাম, বিকল্পধারা‘র নুরুল আমিন ব্যাপারী, শাহ আহমেদ বাদল উপস্থিত ছিলেন। গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও ছিলেন বৈঠকে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সর্বশেষ বৈঠক হয় গত ২৪ এপ্রিল।
গণফোরাম ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংসদে যোগদান, বগড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ও জোটের অন্যতম শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর জোট ছাড়ার ঘোষণায় জোটের টানাপোড়নের মধ্যে এই বৈঠকে অনুষ্ঠিত হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ