ঢাকা, বুধবার 12 June 2019, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৮ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জনগণের পকেট নির্ভর বিশাল ব্যয়ের বাজেট আয়োজন

এইচ এম আকতার : জনগণের পকেটের টাকায় বিশাল বাজেটের আয়োজন চলছে। একদিকে টাকার অংকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট, অন্যদিকে টাকাশূন্য ভল্ট। আর এ কারণে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি বাজেট আসছে। যার পুরো দায় চাপবে জনগণের ঘাড়ে। তারল্য সংকট মোকাবেলায় ব্যাংকগুলো যেখানে ধার দেনা করে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাচ্ছে সেখানে সরকার ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করছে।
নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের জন্য এ বাজেট বাস্তবায়ন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি জানিয়েছেন নতুন করে ভ্যাটের পরিমাণ আর বাড়বে না। তবে করের আওতা বাড়বে। এতে করে ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হবে না।
দেশের অর্থনীতি এখন বেসরকারি খাতনির্ভর। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও মূল ভরসা তারা। অথচ ব্যাংক খাতে নগদ অর্থ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। নতুন ঋণ পেতে যেমন সমস্যা হচ্ছে, আবার তা পেলেও সুদহার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আর পুরোনো উদ্যোক্তারাও ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে পারছেন না চাহিদামতো টাকা ও ডলারের অভাবে।
ব্যাংকগুলোর মে মাসভিত্তিক তারল্য পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ছাড়া হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংকের হাতে বিনিয়োগ করার মতো টাকা আছে। এমন পরিস্থিতিতে তারল্য সংগ্রহে রীতিমতো আগ্রাসী আচরণ করছে কোনো কোনো ব্যাংক। যেমন সাড়ে পাঁচ বছরে টাকা দ্বিগুণ করার আশ্বাসে আমানত সংগ্রহ করছে বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক)। যাতে সুদহার পড়ছে ১৪ শতাংশের বেশি। অথচ টাকা দ্বিগুণ করতে নয় বছর সময় নিচ্ছে বেসরকারি খাতের দি সিটি ব্যাংক, যাতে সুদহার পড়ছে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ফলে একই বাজারে কেউ ৭ শতাংশ, আবার কেউ ১৪ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণের সুদহার প্রতিনিয়ত বাড়ছেই, যা ১৬-১৭ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকেছে।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি বলছে, গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংকগুলোর খাতভিত্তিক ঋণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন বছরে নির্মাণশিল্প ও ঠিকাদারদের কাছেই সবচেয়ে বেশি ঋণ গেছে। সরকারের মেগা প্রকল্পে যেসব ঠিকাদার কাজ করছেন, তাঁরাই মূলত ঋণ পাচ্ছেন। ব্যাংকগুলোও এসব ঋণে আগ্রহী, কারণ সহজেই সরকারি বিলের টাকায় এসব ঋণ শোধ হয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে নির্মাণশিল্প ও ঠিকাদারদের কাছে ঋণ ছিল ৪৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে যা বেড়ে হয় ৫৪ হাজার ২২০ কোটি টাকা। ২০১৮ সাল এসব খাতে ঋণ বেড়ে হয়েছে ৬১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।
ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সব ব্যাংকই ঠিকাদারদের ঋণ দিতে আগ্রহী। কারণ, সরকারি প্রচুর কাজ হচ্ছে। সরকারি বিল হলেই ঋণ শোধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ঠিকাদারই এর সঙ্গে যুক্ত।
বেসরকারি ব্যাংকে টাকা নেই, আর সরকারি ব্যাংকের নেই পর্যাপ্ত মূলধন। ফলে সরকারি ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে প্রায় করের বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ২২ হাজার কোটি টাকা। আর এসব ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছরই দেওয়া হচ্ছে জনগণের করে টাকা। গত ছয় বছরে এভাবে দেয়া হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ও বেসিক ব্যাংকই পেয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। যদিও তার আগের ১০ বছরে এ ব্যাংকগুলোকে দিতে হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের মতো আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ও ব্যাংকগুলোর জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংক খাতের তীব্র এই সংকটের সময়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। উপরন্তু ঋণ খেলাপিদের সুবিধা দিতে দফায় দফায় নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে ১১টি শিল্প গ্রুপের ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত করার বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুটি গ্রুপ ছাড়া আর কেউ টাকা পরিশোধ করেনি।
সামগ্রিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থাও। ফলে নানা ধরনের অনিয়ম করেও শাস্তি পাওয়ার উদাহরণও কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্বনর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে অনেক সমস্যা চলছে। এ জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে হলেও একটা ব্যাংক কমিশন করা যেতে পারে। এভাবে ব্যাংক খাতের সমস্যার সমাধান হতে পারে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৩ হাজার ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ইপিবি প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থবছরের (২০১৭-১৮) একই সময়ে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ কম পণ্য রফতানি করেছিল বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে গত এপ্রিলে রফতানি আয় হয়েছে ৩০৩ কোটি ডলার। যদিও এই মাসে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে এপ্রিলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে পাঁচ কোটি ডলার। গত বছরের এপ্রিলে এই আয়ের অঙ্ক ছিল ২৯৫ কোটি ডলার। এ অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে রফতানির আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ১৯০ কোটি ডলার। এই সময়ে আয় হয়েছে তিন হাজার ৩৯৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রফতানি আয় ছিল তিন হাজার ৪০ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।
প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার।
ইপিবির প্রতিবেদন বলছে, এই অর্থবছরের ১০ মাসে মোট রফতানি আয়ে পোশাকের অবদান প্রায় ৮৩ শতাংশ। তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্য রফতানির উপখাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৮ শতাংশের বেশি হবে। এই সময়ে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় এসেছে দুই হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানিতে এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পোশাক খাতে রফতানি আয় ছিল দুই হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার।
ঋণখেলাপিদের জন্য বড় সুবিধা আসছে, এমন ঘোষণায় তিন মাসেই দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এর ফলে প্রথমবারের মতো অবলোপনের হিসাব বাদে খেলাপি ঋণ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১০ জানুয়ারি সব ব্যাংকমালিকের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেছিলেন, খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না। আর জানুয়ারি-মার্চ এ তিন মাসেই খেলাপি ঋণ এত বাড়ল।
গত মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সাল শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বরের চূড়ান্ত হিসাব তৈরির আগে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিভিন্ন নিয়মে ছাড় দিয়ে ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতেও অনেকে ঋণ পুনঃ তফসিল করেছিলেন। ওই সময়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত করা হয়। এসব ঋণ এখন নতুন করে খেলাপি হয়ে পড়েছে। যে কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে।
সূত্র জানায়, মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় ২০০৯ সালের শুরুতে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। আর এখন তা বেড়ে হলো প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ বছর ৩ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪ গুণ।
এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক তথ্য। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারাই বলছেন, প্রকৃত খেলাপি ঋণ আরও অনেক বেশি। অনেক ব্যাংক বড় অঙ্কের ঋণ আদায় করতে পারছে না, আবার তা খেলাপি হিসেবেও চিহ্নিত করছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকও এতে নজর দিচ্ছে না। এ ছাড়া শেয়ারবাজারের অজুহাতে প্রতিবছরই ব্যাংকগুলো নানা ছাড় নিচ্ছে। এতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্যও বেরিয়ে আসছে না। পাওয়া যাচ্ছে না ব্যাংকগুলোর প্রকৃত চিত্র।
নতুন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। বরাবরের মতো ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। তবে সমস্যা মূলত ঘাটতি অর্থায়নের উৎস নিয়ে। যেমন নতুন বাজেটে ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ৬০ হাজার কোটির কিছু বেশি, আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা।
উৎস বৈদেশিক হলে তা অর্থনীতির জন্য ভালো। এতে খরচ কম। বিপদ অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যেই। ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি অর্থ নিলে বেসরকারি খাত বঞ্চিত হবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে অর্থ নিলে বিপদের মাত্রা আরও বেশি। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ঘাটতি অর্থায়নের লক্ষ্য ছিল ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। অথচ মাত্র ৯ মাসেই সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বেশি।
 বিকল্প ও নিরাপদ জায়গা না থাকায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ সঞ্চয়পত্রে বেশি। এর ফলে ব্যাংকের সুদহার যেমন কমছে না, তেমনি বাড়ছে বাজেটের সুদ পরিশোধ ব্যয়। জনপ্রিয়তার মোহে সঞ্চয়পত্র নিয়ে বিপদেই আছে সরকার। ব্যবসায়ীদের খুশি রাখতে ব্যাংকের সুদহার কমাতে হবে, কিন্তু কমবে না সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার। এই দুইয়ের সমন্বয় করার সাধ্য সম্ভবত এখন কারও নেই। এই উভয়সংকটের কারণেই এখন বাজেটের মোট ব্যয়ের ১৮ শতাংশই হচ্ছে সুদ পরিশোধ খাতে। নতুন বাজেটে এটি আরও বাড়বে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের সঙ্গে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির তথ্য-উপাত্তের বেশ অসংগতি আছে। প্রথমত, বলা হচ্ছে উৎপাদন খাতের পারফরম্যান্সের কারণে এবার বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন খাতে বেশি প্রবৃদ্ধি হলে তো কর আহরণ বেশি হওয়ার কথা। রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি মাত্র ৭ শতাংশ। দ্বিতীয়ত, ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে সামগ্রিক অর্থনীতি আরও চাঙা থাকার থাকা। ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কথা নয়। অর্থনীতি চাঙা থাকলে ঋণখেলাপিরা কেন টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না? তৃতীয়ত, ব্যবসা হলো প্রবৃদ্ধির উৎস। ব্যবসা বাড়লে ব্যাংকের আয় বৃদ্ধির কথা। কিন্তু ব্যাংকের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এসব সমস্যা নিয়ে ঘোষিত হতে যাচ্ছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট। এ বাজেট বাস্তবায়ন করা হবে বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এত বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন করতে জনগণের ওপর চলবে ভ্যাটের খরগ। আসলে বাজেট থেকে সাধারণ জনগণ কি পায় সে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ