ঢাকা, বুধবার 12 June 2019, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৮ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আদালত স্থানান্তর নিয়ে খালেদা জিয়ার রিট নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ

গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খারেদা জিয়ার আদালতে স্থানান্তর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে করা রিটের শুনানি শেষে মিডিয়া ব্রিফিং করেন বেগম জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর আদালত স্থানান্তরে জারি করা প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অবকাশকালীন ছুটির পর আগামী ১৬ জুন থেকে হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চ বসবে।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম খান।
আদেশের পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে।’
গত ২৬ মে খালেদা জিয়ার বিচারে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর আদালত স্থানান্তর করার বিষয়ে গত ১২ মের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার ও চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রিটটি দায়ের করেন।
গত ২১ মে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। কিন্তু তার জবাব না পাওয়ায় এ রিটটি দায়ের করা হয় বলে তিনি জানান।
ওই আইনি নোটিশে দাবি করা হয়, গত ১২ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপন অনুসারে খালেদা জিয়ার মামলা শুনানির জন্য পুরাতন ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালত (বিশেষ জজ আদালত-৯) স্থানান্তর করে কেরানীগঞ্জে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই প্রজ্ঞাপন বেআইনি। কারণ, সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেকোনো বিচার হতে হবে উন্মুক্তভাবে। কারাগারের একটি কক্ষে উন্মুক্তভাবে বিচার হতে পারে না। ফলে এই প্রজ্ঞাপন সংবিধানবিরোধী।
কোথায় কোথায় কারাগার স্থানান্তরিত হতে পারে, তা ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে দেয়া আছে। ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে কোথাও উল্লেখ নেই যে কারাগারের মধ্যে আদালত স্থাপন হতে পারে। সুতরাং সংবিধান ও ফৌজদারি আইনের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ