ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 June 2019, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

যে কোনো উপায়ে জুন মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার নির্দেশনা

স্টাফ রিপোর্টার : খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে জরুরি বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণ কমানোর কৌশল নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ কেন বাড়ছে এবং তা কমানোর উপায় নিয়ে সুপারিশসহ দ্রুততম সময়ে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮টি বিভাগ এই প্রতিবেদন তৈরিতে কাজ করবে। যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দুই অঙ্কের বেশি, তাদের এক অঙ্কে নামাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে কোনো উপায়ে জুন মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নির্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত মঙ্গলবার খেলাপি ঋণ বেশি বেড়েছে এমন সাত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের ডেকে এই বৈঠক করেছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান ও আহমেদ জামালসহ নির্বাহী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ খুঁজতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।
যে সাত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠকটি হয়েছে, তার চারটি সরকারি ব্যাংক, এগুলো হচ্ছে সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক। বাকি তিনটি বেসরকারি ব্যাংক, সেগুলো হচ্ছে  আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
 বৈঠক প্রসঙ্গে সিরাজুল ইসলাম খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে সাত  ব্যাংকের এমডিকে ডাকা হয়েছিল। তারা বলেছেন, অনেকে ঋণ পুনঃতফসিল করেও এখন কিস্তি পরিশোধ করছেন না। এ জন্য খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। বৈঠকে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ জানতে ও কমিয়ে আনতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকটি বিভাগ এ কমিটিতে থাকবে। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ ও ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বিভাগের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ আর ‘এক টাকাও বাড়বে না’। সেজন্য ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলসহ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর সে কথা বাস্তবের সাথে মিলেনি, খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়,  গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক  লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। তিন মাসে বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। এর আগে এক প্রান্তিকে এতো বেশি খেলাপি ঋণ কখনই বাড়েনি। বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে এ বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের (রাইট অফ) স্থিতি ছিল ৩৯ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ যোগ করলে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৫০ হাজার ১২২ কোটি টাকা। বছরের পর বছর ধরে ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ মানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালেন্স শিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন-রাইট অফ বলে। যদিও এধরনের ঋণ গ্রহীতা পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন।
খেলাপি ঋণ বাড়ার এই খবর প্রকাশের পর বেশ চাপের মধ্যে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালও নাখোশ হন। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশেই জরুরি বৈঠকে আয়োজন করা হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে যে কোনো উপায়ে চলতি জুন মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়েছে। এ কারণে সাত ব্যাংকের এমডিকে ডাকা হয়েছিল। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কেন বেড়েছে তার কারণ এবং পরবর্তীতে কীভাবে কমানো যায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকটি বিভাগের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ