ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 June 2019, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আন্দোলনকারী ও সাবেক নেতাদের সাথে কথা বলেছেন তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার : কমিটি গঠন নিয়ে আন্দোলনরত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতা এবং সাবেক নেতাদের সাথে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সাথে আলোচনা শেষে সাময়িক বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ রেখেছে আন্দোলনকারীরা। গত মঙ্গলবার রাতে তারেক রহমান স্কাইপে নেতৃবৃন্দের সাথে দীর্ঘসময় কথা বলেন। এদিকে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে ছাত্রদলের আন্দোলন সামলানো ও নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপি উভয় সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ছাত্রদলের চলমান আন্দোলন ও কমিটির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এটা নিয়ে আমরা উভয় সংকটে। ছাত্ররা দীর্ঘদিন জেল খাটলো, মামলা এবং পুলিশের হয়রানির শিকার হলো। তাদের অবদানের বিনিময়ে কী পাবে? কী মূল্যায়ন হবে? দোষটা কার? দোষ কারও নয়। কারণ, গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে কোনও রাজনৈতিক দল তার কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল বড় একটি সংগঠন। এই সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক ঐতিহ্য আছে। তবে অতীতের মতো ওদের আন্দোলনের ধারাবাহিক ঐতিহ্যটা নেই। কিন্তু তারপরও তো তারা প্রচেষ্টা করে।
ছাত্ররা কোথায় থাকবে প্রশ্ন রেখে গয়েশ্বর বলেন, তাদের থাকার কথা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তারা ক্যাম্পাসে যেতে পারে না। তাই তাদের কর্মকা-টা ক্যাম্পাসভিত্তিক হচ্ছে না। ছাত্রদের নিয়ে কর্মকা-টা তারা করতে পারছে না।
ছাত্রদলের নিয়মিত কাউন্সিল হওয়া দরকার মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, কিন্তু দেশে কাউন্সিল হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। যার কারণে কাউন্সিলগুলো হতে বিলম্ব হয় এবং অনেকের ছাত্রত্ব থাকে না। কাউন্সিল নিয়মিত হলে ছাত্ররা তাদের অবদান অনুযায়ী পুরস্কৃত হতো।
গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, আমরা তাদের কথাগুলো শুনে তা সমাধান করার চেষ্টা করবো। আমি বিশ্বাস করি, ওরা এটা বুঝবে। সুতরাং ওদের সঙ্গে আলাপ করে এর সমাধান করা হবে।
বিএনপি একটি বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, তাকে বলবো নিজের চরকায় তেল দেন, নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখুন। কারণ, আমার সংগঠনকে তিরস্কার করে তার সংগঠনের দুরবস্থা থেকে তার পরিত্রাণ পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের ঘর গোছানোর কাজটা আগে করুক।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করে বিএনপির কী লাভ হলো জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন কোনও দলের লাভ-ক্ষতির হিসাব করার সময় না। আমি যদি দলীয় লাভের হিসাব করি তাহলো তো ঐক্য হবে না।
বিএনপি কবে থেকে আন্দোলনের জন্য মাঠে নামবে জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, আমরা তো মাঠে আছি। কিন্তু আমাদের মাঠে নামাটা নামার মতো করে কেউ দেখে নাই। সেই দেখানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আর বিএনপির জন্ম বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রশ্নে। যদি ঐক্য নাও হয় তাহলেও বিএনপি ঘরে বসে থাকবে না।
আন্দোলনের জন্য বিএনপি কতটা সংগঠিত- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনও সময় কোনও দল শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে এবং শতভাগ দল গুছিয়ে কেউ আন্দোলন করে না। কারণ, আন্দোলনের মাধ্যমেই দলটা গুছিয়ে আসে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোনও আন্তর্জাতিক চাপ নেই- ক্ষমতাসীন দলের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, আমরা দেশে বাস করি। সুতরাং দেশের সমস্যা দেশেই সমাধান করতে হবে।
খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের যখন ইচ্ছে তখন যেকোনও জেলখানায় নিতে পারে। এটা সরকারের ইচ্ছা। এখানে কোনও প্রতিক্রিয়া নেই।
এদিকে টানা ১১টা ঘন্টা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বন্ধ রাখার পর মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে তা খুলে দেয়া হয়েছে। এসময় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিক্ষুব্ধদের নেতৃত্বদানকারী অন্যতম নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান কর্মসূচি একদিনের জন্য স্থগিত করেছি। আশা করি এর মধ্যে আমাদের দাবিসমূহ বিবেচনায় নিবে দল।
জানা গেছে, গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে কথা বলেন সাবেক ছাত্র দল নেতৃবৃন্দসহ বিক্ষুব্ধ নেতাদের সাথে। দুপুরে প্রথম ছাত্র দলের সাবেক নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশীদ হাবিব প্রমূখের সাথে কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এরপর তারেক রহমান নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়া বিক্ষুব্ধ নেতাদেরও ডেকে পাঠান। দীর্ঘ বৈঠকের পর রাত সাড়ে ১০টায় গুলশানের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন বিক্ষুব্ধ নেতারা।
নয়া পল্টনের কার্যালয়ে তালা খুলে দেয়ার পর নেতা-কর্মীরা তৃতীয় তলায় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কক্ষের সামনে আসে। তারা অসুস্থ নেতাকে দূরে থেকে দেখে চলে যায়। রিজভী আহমেদ ছোট কক্ষে স্যালাইন হাতে শুয়ে আছেন। গত সোমবার থেকে কয়েকবার বমি হওয়ায় তাকে স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা শুরু করে। এখনো তিনি অসুস্থ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ