ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 June 2019, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়

অস্ট্রেলিয়া-৩০৭/১০ (৪৯ ওভার)

পাকিস্তান- ২৬৬/১০ (৪৫.৪ ওভার)

 

অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জয়ী

রফিকুল ইসলাম মিঞা : পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় জয় পেল চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। গতকাল অস্ট্রেলিয়া ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে ৪১ রানে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৩০৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। টার্গেটটা আরো বড় দিতে পারত দলটি। শুরুটা সে ভাবেই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু আমিরের বোলিং আক্রমনে শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির পরও অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ৩০৭ রানে। জয়ের জন্য ৩০৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬ রানে অলআউট হলে অস্ট্রেলিয়া জয় পায় ৪১ রানে। 

অবশ্য ম্যাচে জয়ের সুযোগ ছিল পাকিস্তানের সামনেও। কিন্তু লড়াই করেই শেষ পর্যন্ত হারল পাকিস্তান।  সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নার ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।  অস্ট্রেলিয়ার চার ম্যাচে এটা তৃতীয় জয়। আর পাকিস্তানের চার ম্যাচে দ্বিতীয় পরাজয়।  

জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ৩০৮ রানের টার্গেটটা চ্যালেঞ্জিংই ছিল। তারপরও এক সময় জয়ের পথেই ছিল দলটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারেনি পাকিস্তান। এই বড় টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা বিপদে পড়ে পাকিস্তান। কারণ দলীয়  মাত্র ২ রানে প্রথম উইকেট হারায় দলটি। ফাখর জামানের বিদায়ে ভাংগে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি। রানের থাতা খোলার আগেই বিদায় নেন এই ওপেনার। প্যাট কামিন্সের করা বল থার্ড ম্যানে উড়ে এসে দারুণভাবে তালুবন্দী করেন রিচার্ডসন। ২ রানে প্রথম উইকেট হারলেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমাম উল হক আর বাবর আজজ জুটি করে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেন। এই জুটি ভাংগার আগে পাকিস্তান পৌছে যায় ৫৬ রানে। বাবরের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। দারুণ খেলতে থাকা বাবর ৩০ রান করার পর ধরা পড়েন নাথান কল্টার নাইলের শর্ট বলে। ৫৬ রানে ২ উইকেট হারালেও দলকে দারুণভাবে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ইমাম-হাফিজ জুটি। এই জুটির উপর ভরসা করেই পাকিস্তান ভালো কিছুর আশা করেছিল। তৃতীয় উইকেটে তারা শতরান পার করে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টাও করেছিলেন। কিন্তু দলীয় ১৩৬ রানে গিয়ে আর টিকতে পারেননি। ওপেনার ইমামেম বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। প্যাট কমিন্স এর বলে ক্যারিকে ক্যাচ দেয়ার আগে ইমাম ৭৫ বরে ৭ চারে করেন ৫৩ রান। ইমামেম বিদায়ে বেশি সময় টিকতে পারেননি মোহাম্মদ হাফিজও। দলীয় ১৪৬ রানে মাঠ ছাড়েন হাফিজও। ফিঞ্চ এর বলে মিচেল স্ট্রার্ক এর হাতে ক্যাচ হওয়ার আগে হাফিজ ৪৯ বলে করেন ৪৬ রান। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার একটি ছয়ের মার। ব্যাট করতে নেমে আসিফ আলী ৫ রান করলেও রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয়েছে শোয়েব মালিককে। ফলে ১৬০ রানে প্রথম ছয় উইকেটে হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। তবে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ আর হাসান আলী মিলে সপ্তম উইকেট জুটিতে দলকে দু-শত রানের স্কোরে নিয়ে যায়। আউট হওয়ার আগে দ্রুত ব্যাট চালিয়ে হাসান আলী ১৫ বলে তিন চার আর তিন ছক্কায় ৩২ রান করে মাঠ ছাড়েন। দলীয় ২০০ রানে রিচার্ডসনের বলে খাজাকে ক্যাচ দিয়ে হাসান আলী মাঠ ছাড়লেও ব্যাট করতে নেমে ওয়াহাব রিয়াজ অধিনায়ক সরফরাজ এর সাথে জুটি করে দলকে টার্গেট রানের দিতে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেন। এই জুটিতে পাকিস্তান আবার ম্যাচে ফিরে দারুন ভাবে। ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন দেখে দলটি। কারণ এই জুটি দলকে জয়ের পথেই নিয়ে যাচ্ছিলেন। দলীয় ২৬৪ রানে স্টার্ক এর বলে ওয়াহাব রিয়াজের বিদায়ে ভাংগে এই সফল জুটি। আউট হওয়ার আগে ৪৫ রান করেন ওয়াহাব রিয়াজ। তার ৪৫ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩৯ বলে ২ চার আর ৩ ছক্কায়। রিয়াজের বিদায়ে আবার পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান। ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ আমির শুন্য রানে বিদায় নিলে সব আশা শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের। কারণ অধিনায়ক সরফরাজ আহমদের রান আউটে শেষ পর্যন্ত ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। সরফরাজ আহমেদ ৪৮ রানে এক চারে করেন ৪০ রান। ফলে ৪১ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিযার পক্ষে প্যাট কামিন্স তিনটি আর মিচেল স্টার্ক ও রিসার্ডসন নেন দুটি করে উইকেট। এরআগে, অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করতে নেমে ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে এক ওভার বাকি থাকতে অলআউট হয় ৩০৭ রানে। আমিরের বোলিং আক্রমনে ৩০৭ রানেই থেমে যায় দলটির ইনিংস। মূলত অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন-আপ গুঁড়িয়ে বড় সংগ্রহ করতে দেননি মোহাম্মদ আমির। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে তিনি ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। চলতি আসরে বিশ্বকাপে তৃতীয় বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নেন আমির। এর ফলে ৩ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১০ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী এখন তিনি। শাহীণ শাহ আফ্রিদি নেন দুই উইকেট। গতকাল টনটনে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই রানের গতি বাড়িয়ে নেয়ার চেস্টা করেন দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ফলে ওপেনিং জুটি থেকে অস্ট্রেলিয়ার আসে ১৪৬ রান। উদ্বোধণী জুটিতে নতুন রেকর্ড গড়েন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও এ্যারন ফিঞ্চ। কারণ চলতি বিশ্বকাপে উদ্বোধনী জুটিতে এটাই সর্বোচ্চ রানের জুটি। পেসার মোহাম্মদ আমির ৮২ রান করা ফিঞ্চকে আউট করে ভাংগেন এই ওপেনিং জুটি। মোহাম্মদ হাফিজের ক্যাচ বানিয়ে এই ভয়ঙ্কর জুটি ভাঙেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ বলে ৮২ রান করেন ফিঞ্চ। দলীয় ১৮৯ রানে স্মিথের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়া হারায় দ্বিতীয় উইকেট। মাহাম্মদ হাফিজের বলে আসিফ আলীর হাতে ক্যাচ হওয়ার আগে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ করেন ১০ রান। ব্যাট করতে নেমে বড় স্কোর গড়তে পারেনি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১০ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২০ রান করে দ্রুত বিদায় নেন তিনি। তবে দলের পক্ষে সেঞ্চুরি করেই মাঠ ছাড়েন ওপেনার  ওয়ার্নার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম এবং ২০১৯ বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি পান তিনি। ১০২ বলে ১০১ রান করে সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়ার্নার। সেঞ্চুরি করতে তিনি হাঁকিয়েছেন ১১ চার ও ১ ছক্কা।  তবে সেঞ্চুরি পর বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি ওয়ার্নার। দলীয় ২৪২ রানের মাথায় ১১১ বলে ১০৭ রান করে তিনি ফেরত যান শাহীন আফ্রিদির বলে ইমাম-উল-হককে ক্যাচ দিয়ে। ওয়ার্নারের বিদায়ের পর রানের গতি কমতে থাতে অস্ট্রেলিয়ার। পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত সাজঘরে ফিরতে থাকেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। তবে শন মার্শ ২৩ রান ও উসমান খাজা ১৮ রান করে কিছুট প্রতিরোধ গড়েছিলেন। আর উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারির ২০ রানের উপর ভর করে তিনশ’ রানের ঘরে পৌছে যায় অস্ট্রেলিয়া। তবে ক্যারির বিদায়ের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে চ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত এক ওভার বাকি থাকতে দলটি অলআউট হয় ৩০৭ রানে।  নাথান কোল্টার নাইন ও পেট কামিন্সে ব্যাট থেকে আসে ২ রান করে।। ৩ রান করেন মিচেল স্টার্ক। কেন রিচার্ডসন অপরাজিত থাকেন ১ রানে। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছেন মোহাম্মদ আমির। নতুন এক কীর্তিও গড়ে ফেললেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ওয়ানডে ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দলটির বিপক্ষে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নেয়ার  রেকর্ড গড়েছেন তিনি। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ