ঢাকা, শুক্রবার 14 June 2019, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সব উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন  কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণা

 

স্টাফ রিপোর্টার: আসছে অর্থবছরে দেশের সব উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনে এ বিষয়ে জানানো হয়। প্রথমে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট বক্তব্য শুরু করলেও তিনি অসুস্থ থাকায় বাজেটের বাকি অংশ পড়ে শোনান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা, যা গেল অর্থবছরের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বেশি। এবারের বরাদ্দের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন নির্মাণ ও গ্যাস অনুসন্ধানে।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে বর্তমান সরকার। বরাদ্দের তালিকায় বরাবরই উপরের দিকে থেকেছে এই খাত। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ মিলেছে ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে তুলে ধরা হয় বাজেট বক্তব্যে। যে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করা যাচ্ছে না, গেল দুই বারের মতো এবারও সেই লাইন নির্মাণের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাজেট বক্তব্যে। বর্তমানের সাড়ে ১১ হাজার সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন ২০৩০ সাল নাগাদ ২৮ হাজার ও পাঁচ লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন একই সময়ে ছয় লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার করারও লক্ষমাত্রা দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নে আগামী এক বছরের লক্ষমাত্রাও দেওয়া হয় বাজেট বক্তৃতায়।

 দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া হয় বাজেট বক্তব্যে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে একক জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি বহুমুখীকরণ, বিশেষ করে কয়লার ওপর জোর দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া সমুদ্র ও স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে অনশোর এবং অফশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন করে নতুন বিডিং রাউন্ড শুরু করা হবে বলে জানানো হয়।

২০২০ সাল নাগাদ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ সৌর বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয় বাজেট বক্তৃতায়।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২৬ হাজার ৫০২ কোটি টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। অনুন্নয়ন ব্যয় তিন লাখ ২০ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেট ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ বড়। ৩০ জুন এই বাজেট পাস হবে।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ নিয়ে বিদ্যুৎকে সমৃদ্ধির সোপান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশকে বিদ্যুতের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ও ৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার ৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ