ঢাকা, শুক্রবার 14 June 2019, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এলাকাবাসীর অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে শরিষাবাড়ীতে বিশাল কাঠেরসেতু নির্মাণ

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত কাঠের সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে এখন বিনোদন পার্কে রূপান্তরিত হয়েছে। গ্রামীণ ও জনপদের ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মানুষ স্বস্তির নিশ^াস ফেলছে। উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চর সরিষাবাড়ী গ্রামের যমুনা নদীর শাখা নদীর উপর এ কাঠের সেতুটি নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের চরসরিষাবাড়ী, কুমারিয়াবাড়ী, মানিকপটল, ছাতারিয়া সহ অন্তত ১০টি চরের মানুষ  সহজেই যাতায়াতের সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার পূর্বাঞ্চল মুনসুর নগর ইউনিয়ন ও চরগিরিস ইউনিয়নের ব্রাহ্মণজানি, মাজনাবাড়ী, ছেন্নারচর, শালদহ, চরগিরিস, নাটুয়ারপাড়া সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ও গ্রামের মানুষ পূর্বাঞ্চল সরিষাবাড়ী হয়ে ঢাকা ও পূর্বাঞ্চলের যাত্রী সাধারণ পশ্চিমাঞ্চলের কাজিপুর উপজেলা সদর ও সিরাজগঞ্জ জেলা হয়ে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের সুবিধা হয়েছে। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১০-১২ হাজার বিভিন্ন পেশার মানুষের যমুনা সেতু হয়ে সড়কপথে যাতায়াতে অন্তত ১৫০ কিলো. অতিরিক্ত পথ যাতায়াত করতে হতো। এই কাঠের নির্মিত সেতুটি এ কষ্টের অবসান ঘটিয়েছে। বর্ষাকালীন সময়ে কয়েকটি গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা সেবা, জনসাধারণ মানুষের যাতায়াত ও উৎপাদিত ফসলাদি পরিবহণ এবং বাজারজাত করণের নিত্যদিনের কষ্ট লাঘব হয়েছে। 

এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে চলতি বছরের ২ এপ্রিল উদ্যোগ নেন একটি সেতু নির্মাণ করার। এ লক্ষে সেতুটি ইউকিলিপটার গাছের পিলার দ্বারা ৩৪০ ফিট দৈর্ঘ্য সাড়ে ৬ ফিট প্রশস্ত একটি কাঠের সেতু ও রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে দুই মাসের মধ্যে কাঠের সেতু ও রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কাঠের সেতুটি পবিত্র ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে সেতু স্থলে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী পুরুষ সমবেত হয়ে কাঠের সেতুতে বৈকালিক অবসর সময় কাটাচ্ছেন। এখানে উৎসুক জনতার উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এলাকাবাসীর নির্মিত কাঠের সেতুটি যেন মিনি বিনোদন পার্কে পরিণত হয়েছে।

চর সরিষাবাড়ীর কাঠের সেতু স্থল থেকে পৌরসভার ঝালুপাড়া ঘাট পর্যন্ত চলাচলের জন্য রাস্তা ও সরকারি অর্থায়নে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর এলাকাবাসী আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। কাঠের সেতু নির্মাণে সাতপোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের, ইউপি সদস্য আলমগীর কবীর আলম, শরিফুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সোহেল রানা সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমাদের এই আদি চর সরিষাবাড়ী দিয়ে নামকরণ আমাদের এই সরিষাবাড়ী। তাই আমাদের চর সরিষাবাড়ী থেকে ঝালুপাড়া ঘাট পর্যন্ত সেতু ও চলাচলের রাস্তা নির্মাণের আশুদৃষ্টি কামনা করছি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ খন্দকার জানান, ব্রিজটি সরকারিভাবে নির্মাণ করার জন্য এলজিইডি ভবনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ব্রিজটি দ্রুত অনুমোদনের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জামালপুর জেলার প্রবীণ সমাজসেবক শিক্ষাবিদ আল্লামা হাকিম আলহাজ¦ জয়নাল আবেদীন ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম এর ভাতিজা জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার এলাকাবাসীর পক্ষে জানান- নিত্যদিনের চলাচলের একমাত্র এই রাস্তাটি সম্প্রসারণ ও পাকা ব্রিজ নির্মিত হলে দেশের চারটি বিভাগের যাত্রী সাধারণের ব্যাপক সুবিধা হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ তোজাম্মেল হক সরকার বকুল, সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি ফজলুল হক মনোয়ার ও কাজিপুর উপজেলার ইতিহাসের লেখক আল মাহমুদ সরকার জুয়েল জানান- সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়রা বাজার থেকে ব্রাহ্মণজানি ও সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজার ঝালুপাড়া থেকে চরসরিষাবাড়ী হয়ে ব্রাহ্মণজানি বাজার পর্যন্ত রাস্তা দুটি ইতিমধ্যে পাকাকরণ করা হয়েছে, ব্রাহ্মণজানি বাজার থেকে চরগিরিস হয়ে নাটুয়ারপাড়া হাট পর্যন্ত রাস্তাটির বেশির ভাগ  পাকাকরণ করা হয়েছে। নাটুয়ারপাড়া বাজারের ৩ কিলো. পূর্বে যমুনার শাখা নদীটির উপর পাকা ব্রিজ নির্মাণসহ রাস্তাগুলোর ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি করে যান চলাচলের ব্যবস্থা করলে দেশের চারটি বিভাগের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ অল্প সময়ে কম খরচে যাতায়াত সুবিধা পাবে। এলাকাবাসী এই পথে সহজে যোগাযোগের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন আন্তঃবিভাগীয় জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করলে এ পথে যাত্রী সাধারণ সহজেই যাতায়াতের সুবর্ণ সুযোগ লাভ করতে পারে। উভয় জেলার জনপ্রতিনিধি ও প্রসাশন এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর জরুরী সহায়তা কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ