ঢাকা, শুক্রবার 14 June 2019, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরের গোপালপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ 

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ গোপালপুর বাঁধ পুনঃনির্মাণে অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, বালু ও মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের পর নিম্নমানের পাটের বস্তা দিয়ে বালু ও যৎ সামান্য সিমেন্ট ব্যবহার করে সি সি ব্লক এর  পরিবর্তে বস্তা বসানো  হচ্ছে। এসব বস্তা এখনই ভেঙ্গে বালু বের হয়ে যাচ্ছে।  গোপালপুর মোড় থেকে হাঁট পাচিল পর্যন্ত প্রায়  দেড় কিলোমিটার এই বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ থাকলেও  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিজের পছন্দমত বাঁধ নির্মাণ করছে। এ ব্যাপারে কথা বলতে সরে জমিনে কয়েকদিন ঘুরেও ঠিকাদারের সাথে সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারের ম্যানেজারকে অনেক কষ্ট করে খুঁজে পেলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঠিকাদার এখানে খুব কম আসে,  উনি বেশ ব্যস্ত মানুষ। ঠিকাদারের ফোন নম্বর চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার সব সময় ব্যস্ত থাকেন তাই ফোন রিসিভ করার সময়টাও তার নাই বলে জানান ম্যানেজার। ম্যানেজার আরও জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী চুন্নু মেম্বর সব দেখভাল করেন। পরে চুন্নু মেম্বরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিসি ব্লকের পরিবর্তে সেখানে পাটের বস্তা দেয়ার সিডিউল আছে। তিনি অরও বলেন, দেশে কত দুর্ণীতি হচ্ছে সেটা লিখতে পারেননা। বাঁধের খবর নিতে আসছেন বলে সাংবাদিকদের তিরষ্কার করেন।  পাটের বস্তা পচে বালু বের হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে তীর সংরক্ষণ ও বণ্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে। স্থানীয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত পুরাতন এই বাঁধটি ইতিপূর্বে কয়েকবার ভেঙ্গে গেছে। গত জানুয়ারি মাস থেকে আবারো নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু নির্মাণ কাজে সি সি ব্লকের পরিবর্তে  পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। বাধের পাড়ের মাটি কেটে সমান করা হচ্ছে না। উঁচু নিচু রেখেই পাড়ের উপর ব্লক বসানো হচ্ছে। এলাকাবাসী বলেন, বাধ নির্মাণ কাজ দেখার জন্য একজন উপসহকারী প্রকৌশলী দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি মাঝে মধ্যে আসেন। আর এই সুযোগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রভাবশালী চুন্নু মেম্বরের সহায়াতায় ব্লক তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম করে আসছে। এতে কেউ সরাসরি মুখ খুলতে পারেনি। অনিয়ম দূর করে সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ না করা হলে সরকারের কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প শুধু বিফলেই যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ