ঢাকা, শুক্রবার 14 June 2019, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দাপ্তরিক সফরে ভারত গিয়ে পারিবারিক কাজ সারলেন ওজোপাডিকোর কোম্পানি সচিব

খুলনা অফিস : দাপ্তরিক সফরে ভারত গিয়ে পারিবারিক কাজ সারলেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বা ওজোপাডিকোর কোম্পানি সচিব আবদুল মোতালেব। আবার এটি দাপ্তরিক সফর হিসেবে গণ্য হবে এবং এ ভ্রমণের যাবতীয় ব্যয় লার্সন এন্ড টারবো লিমিটেড (এলএন্ডটি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান বহন করার কথা দপ্তরাদেশে উল্লেখ করা হলেও পরিবারের সদস্যসহ কলকাতা থেকে দিল্লী, দিল্লী থেকে বাদ দুয়ার এবং সেখান থেকে কলকাতা পর্যন্ত সফর করেন গত ১৬ থেকে ২২ মে পর্যন্ত। দপ্তরাদেশে সফরকে শুধুমাত্র কোম্পানি সচিব আবদুল মোতালেবকে দেখানো হলেও সফরে ছিলেন তার স্ত্রী ও মেয়ে। আবার এল এন্ড টি নামের ইন্ডিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আবদুল মোতালেবের সফরের যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের কথা উল্লেখ করা হলেও কলকাতা-দিল্লী-বাদদুয়ার-কলকাতা সফরের বিমান ভাড়া করে দেয় আনিস ইন্ডাষ্ট্রিয়াল কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ একটি পারিবারিক সফরকে কিভাবে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেয়া যায় তার সকল কৌশলই ফুটে ওঠে ওজোপাডিকোর কোম্পানি সচিবের এ সফর থেকে। এভাবে অতীতে আরও কত দুর্নীতি-অনিয়ম হয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে খুলনার সচেতন মহলের পক্ষ থেকে।

ওজোপাডিকোর উপ-মহাব্যবস্থাপক এইচআর এন্ড এডমিন মো. আলমগীর কবীর স্বাক্ষরিত গত ১৪ মে’র দপ্তরাদেশে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের (কোম্পানী এ্যাফেয়ার্স)-এর ২১ মার্চের ২৬৪ নম্বর স্মারক মোতাবেক ওজোপাডিকোর কোম্পানি সচিব আবদুল মোতালেবকে ১৬ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত অথবা ভ্রমণের তারিখ হতে ১০ দিন (যাতায়াত সময় ব্যতীত) ভারত ভ্রমণের জন্য ১৫ মে বিকেল হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। 

তার উক্ত ভারত ভ্রমণকালীন সময়ে ওজোপাডিকোর উপ-মহাব্যবস্থাপক, এইচআর এন্ড এডমিন মো. আলমগীর কবীর নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে, কোম্পানি সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। 

দপ্তরাদেশে পাঁচ দফা শর্ত দিয়ে বলা হয়, এ ভ্রমণ দাপ্তরিক ভ্রমণ হিসেবে গণ্য হবে, এ ভ্রমণের যাবতীয় ব্যয় ইন্ডিয়ার এল এন্ড টি লিমিটেড বহন করবে, তার বেতন-ভাতাদির কোন অংশই বৈদেশিক মুদ্রায় প্রদান করা হবে না এবং বর্ণিত উদ্দেশ্যে বিদেশে অবস্থানের মেয়াদ কোন ক্রমেই বর্ধিত করা যাবে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারী করা হলো বলেও ওই দপ্তরাদেশে উল্লেখ করা হয়।

ওই দপ্তরাদেশের আলোকে আবদুল মোতালেব ১৬ মে ভারত যান এবং ওইদিনই কলকাতা থেকে দিল্লী যান বিমানযোগে। সাথে ছিলেন, স্ত্রী ও মেয়েও। ইন্ডিয়ান আনিস ইন্ডাষ্ট্রিয়াল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কেটে দেয়া বিমান টিকিটে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়। একজন আবদুল মোতালেব, একজন জারিফা তাবাসসুম এবং অপরজন শারমিন আক্তার জাহান। ওই তিনজনই ১৯ মে দিল্লী থেকে বাদ দুয়ার যান এবং ২২ মে তারা কলকাতা ফিরে আসেন। তাদের টিকিটের মূল্য ১৯ হাজার ৬৪১ এবং ৫২ হাজার ১০৭ অর্থাৎ সর্বমোট ৭১ হাজার ৭৪৮ রুপি আনিস ইন্ডাষ্ট্রিয়াল কর্পোরেশন বহন করে বলেও প্রাপ্ত বিমান টিকিটে দেখা যায়। 

এ ব্যাপারে ওজোপাডিকোর একটি সূত্র বলছে, এল এন্ড টি লিমিটেড হচ্ছে একটি সাব স্টেশনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সেখানে একজন নন টেকনিক্যাল পার্সন কিভাবে সফরে যান সেটি যেমন প্রশ্নের বিষয় তেমনি এক প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল খরচ বহন এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আন অফিসিয়াল খরচ নেয়ার বিষয়টিও চরম দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং টিআইবিসহ অন্যান্য সংস্থাকে তৎপর হওয়াও আহবান জানান অনেকে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ওজোপাডিকোতে পুকুর চুরি চলছে। চলছে লুটপাটের রাজত্ব। এগুলো যেন দেখার কেউ নেই। আবার প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ বিলাশবহুল জীবন যাপন করছেন। এর বিরুদ্ধে খুলনার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। দুর্নীতি দমন কমিশন ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এসব দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ