ঢাকা, শুক্রবার 14 June 2019, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাপানে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে লোভনীয় বেতন

১২ জুন, জাপান টুডে : এই বিশ্বে বাবাদের জন্যে বেতনভোগী ছুটির ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে জাপান। কিন্তু খুব কম বাবাই এ সুবিধা নিয়ে থাকেন। ২০১৬ সাল থেকে সংগৃহিত উপাত্তের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইউএন চিলড্রেন্স ফান্ড। 

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ কি পরিবারবান্ধব? গ্রহে এ বিষয়ে দেখা যায় উচ্চ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে। বিভিন্ন শর্তের মধ্যে বাবা ও মায়েদের ভেতনভোগী ছুটির সুবিধাও বিবেচ্য ছিল। 

জাপান একমাত্র দেশ যেখানে নতুন বাবাদের জন্যে সর্বোচ্চ ছয় মাসের বেতনভোগী ছুটি প্রদান করে থাকে। তবে ২০১৭ সালে প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন এমন সুবিধা নিয়ে থাকেন। অবশ্য সুবিধা গ্রহণকারীদের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ২০১৮ সালে তা ৬.১৬ শতাংশ বেড়েছে। গত সপ্তাহেই এ তথ্য জানায় জাপানের মিনিস্ট্রি অব হেলথ, লেবার অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার। 

ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানায়, বাচ্চার বয়স ৩ বছরের নিচে- এমন বাবাদের ৪৫ শতাংশ নিয়মিত কাজে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও তারা পিতৃত্বকালীন ছুটি নিতে ইচ্ছুক থাকেন না। আবার ৩৫ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের ইচ্ছা থাকলেও পেরে ওঠেননি। 

যারা এ সুবিধা নেন না তাদের প্রদত্ত কারণের মধ্যে তৃতীয় সাধারণ কারণটি হলো- কর্মক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি। প্রথম সাধারণ কারণটি হলো কর্মীস্বল্পতা এবং দ্বিতীয় সাধারণ কারণ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব না করা। 

পিতৃত্বকালীন ছুটি সন্তান জন্মের পর পরই মেলে। তবে তা মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো সুপরিচিত নয়। গবেষণায় রাখা ৪১টি দেশের মধ্যে ২৬টি দেশ পিতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা দিয়ে থাকে।

এ প্রতিবেদন যারা প্রস্তুত করেছেন তাদের একজন ইয়েকাতেরিনা চেঝেন। তিনি ইউনিসেফের সোশাল পলিসি স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, এমনকি নর্ডিক দেশগুলোতে নতুন বাবাদের ছুটি প্রদান আরো বেশি স্বাভাবিক বিষয় মনে হলেও তাদের এসব করতে সময় লেগে যাবে। আসলে সন্তান জন্মের পর বাবারা কর্মক্ষেত্র ছেড়ে অন্তত কয়েক সপ্তাহ বাড়িতে অবস্থান করার বিষয়টি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাভাবিক ঘটনা বলে ভাবতে হবে। অনেক সময়ই নতুন সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে নীতিগত পরিবর্তন জরুরি হয়ে ওঠে। এটা হলে জাপানেও হয়তো আসন্ন বছরগুলোতে অধিকাংশ বাবা পিতৃত্বকালীন ছুটি নেবেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ