ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 June 2019, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মাত্র সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়ি নির্মাণ করল আকাশ

তমিজউদ্দিন আহমদ নারায়ণগঞ্জ থেকে : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার আকাশ আহমেদ ইতালির ‘ল্যাম্বোরগিনির’ আদলে মাত্র সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়ি নির্মাণ করেছে। পরিবেশ বান্ধব গাড়ি নির্মাণ করে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন ২০  বছর বয়সী এই যুবক। গাড়িটি দেখতে খুবই সুন্দর এবং চকচকা। প্রথম দেখাতেই চোখ আটকে যাবে যে কোন মানুষে। গাড়িটি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভীড় জমাচ্ছে। গাড়ি বানানোর জন্য আকাশের  প্রশংসা করছেন অনেকে।
আকাশ, ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন নিজে একটি গাড়ি বানিয়ে সে গাড়ি দিয়ে চলাচল করবেন। শিশু বয়সে মাটির মধ্যে গাড়ি আকতেন। আর স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় ২০১৯ সালে। তার দাবি সরকারি ভাবে সহযোগিতা পেলে অল্প খরচে দেশের ভেতরে পরিবেশ বান্ধব টেকসই গাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে ফতুল্লার লামাপাড়ায় নিজেদের অটোরিক্সা ওয়ার্কশপে তৈরী হয়েছে ‘ল্যাম্বোরগিনির’ আদলে গাড়িটি। সম্পূর্ণ দেশীয় যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরী এ গাড়িটি ব্যাটারির মাধ্যমে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে প্রায় ১০ ঘণ্টা রাস্তায় চলাচলে সক্ষম। ৫ ঘন্টা ব্যাটারির চার্জ লাগবে। এজন্য বিদুৎ খরচ পড়বে একশ’ টাকা। ক্যালেন্ডারের পাতায় ইতালির বিখ্যাত গাড়ি প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বোরগিনি গাড়ির মডেল দেখেই সেটিকে অনুসরণ করেই এ গাড়িটির মডেল তৈরী করেন। চাকা আর স্টিয়ারিং হুইলটাই কেবল কিনে আনা হয়েছে। বাকি সকল কিছু নিজের হাতে তৈরী। চাকার সাসপেশন, হেডলাইট ব্যাকলাইট, গিয়ার, এসবও আমার নিজের হাতে তৈরী করেছে। ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার কিশোরের স্বপ্নকে হয়ত অনেকেই গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন স্থনীয় মোহাম্মদ নবী হোসেনের ছেলে বড় ছেলে আকাশ আহমেদ। ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেনীতে পাশ করে একটি আলীয়া মাদ্রাসার নবম শ্রেনী পর্যন্ত পড়া শেষ হয়ে যায়। আকাশ আহমেদ তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। প্রায় দেড় বছরের প্রচেষ্টায় সেটি পূর্নাঙ্গ গাড়িতে পরিণত হয়েছে।
গাড়ি বানানোর খবর জানার পর অনেকেই এমন গাড়ি বানিয়ে নেয়ার জন্য বলছেন। আকাশের দাবী সরকারী সাহায্য সহযোগিতা পেলে আরো কম দামে গাড়িটি বাজারজাত করতে পারবে। সরকারি সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশেই উন্নতমানের গাড়ি বানানো সম্ভব বলে মনে করেন।
পড়ালেখা করিয়ে প্রকৌশলী বানাতে না পারলেও ছেলের তৈরী গাড়ি দেখে এবং মানুষের মাঝে উৎসাহ পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করেন আকাশের বাবা নবী হোসেন।
গ্যারেজে স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি এমন একটি গাড়ি বানাতে আকাশকে রাতদিন সহায়তা করতে পেরে খুশী গ্যারেজ কর্মচারীরাও।
পরিবেশ বান্ধব দেশীয় প্রযুত্তিতে তৈরী এমন গাড়ির উদ্ভাবনে আকাশের  প্রশংসা করে অনেকে সরকারী সহযোগিতাসহ তার সাফল্য কামনা করেন।
সড়ক গুলোতে ধীরগতির গাড়ি বন্ধে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। এ অবস্থায় পরিবেশ বান্ধব দ্রুতগতি সম্পন্ন আকাশের গাড়ি বাজারজাত হলে সহায়তা হবে বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া। গাড়িটি নিজে চালিয়ে এমন মন্তব্য করে আকাশের দাবী মতে কম দামে গাড়িটি বাজারজাত করতে এ  উদ্ভাবনের বিষয়টি সরকারের উর্ধতন কতৃর্পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করবেন বলেও আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ