ঢাকা, সোমবার 24 June 2019, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানের চোখ সেমির দিকে

পাকিস্তান- ৩০৮/৭ (৫০ ওভার)

দক্ষিণ আফ্রিকা- ২৫৯/৯ (৫০ ওভার)

পাকিস্তান ৪৯ রানে জয়ী 

রফিকুল ইসলাম মিঞা : টিকে থাকার ম্যাচে ঠিকই জ্বলে উঠল পাকিস্তান। গতকাল পাকিস্তান নিজেদের গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে ৪৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। আর এই জয়ে বিশ্বকাপের সেমিতে উঠার একটা সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল পাকিস্তান। তবে এই ম্যাচ হেরে সেমিতে উঠার সব পথই বন্ধ হয়ে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকার। গতকাল আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ৭ উইকেটে করে ৩০৮ রানের বিশাল স্কোর। ফলে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে টার্গেট ছিল ৩০৯ রান। ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে ২৫৯ রান করলে পাকিস্তান জয় পায় ৪৯ রানে। গতকাল ব্যাটে-বলে পাকিস্তানের সামনে পাত্তাই পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিন্তানের পক্ষে ব্যাট করতে নেমে হারিস সোহেল আর বাবর আজম অসাধারণ ব্যাটিং করে দলকে নিয়ে গেছে ৩০৮ রানের বিশাল স্কোরে। আবার বল হাতে মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান আর ওয়াহা রিয়াজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে আটকে ফেলেছে ২৫৯ রানে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় পেল পাকিস্তান। আর এই জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে উঠে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখল দলটি। হারিস সোহেল ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।

জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ৩০৯ রানের টার্গেটটা কঠিনই ছিল। এই কঠিন টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। দলীয় মাত্র ৪ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার হারায় ওপেনার হাশিম আমলার উইকেট। মাত্র ২ রানে আমলার উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের বোলিংয়ের চমকটা দেন মোহাম্মদ আমিরই। দলীয় ৪ রানের প্রথম উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নিতে ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামা অধিনায়ককে নিয়ে জুটি করেন  ওপেনার কুইন্টন ডি কক। এই জুটিই দলকে এগিয়ে নেয় সামনের দিকে। এই জুটি ভাংগার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা পৌছে যায় ৯১ রানে। ওপেনার ডি ককের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। এই জুটির সংগ্রহ ৮৭ রান। শাদাব খানের বলে ইমাম উল হককে ক্যাচ দেয়ার আগে ডি কক করেন ৪৭ রান। ৬০ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। তবে ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেননি মার্করাম। মাত্র ৭ রান করে শাদাব খানেব বলে বোল্ড হলে ১০৩ রানে দক্ষিণ আফ্রিকা হারায় তিন উইকেট। দলীয় ১৩৬ রানে দলটি হারায় অধিনায়ক ডু প্লেসিস এর গুরুত্বপূর্ন উইকেট। মোহাম্মদ আমিরের বলেই ফিরতে হয় এই অধিনায়ককে। তবে আউট হওয়ার আগে তিনি খেলেন গুরুত্বপূর্ন ৬৩ রানের ইনিংস। ৭৯ রানের ৫ চারে সাজানো ছিল তার ইনিংটি।  আমির আর শাদব খানের বোলিংয়ে ১৩৬ রানে প্রথম চার উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়ে দলটি। তবে রাসি ভ্যান ডরি ডুসেন আর ডেভিড মিলার মিলে জুটি করে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেন। কিন্তু দলীয় ১৮৯ রানে হয় এই জুটির পতন। হাফিজের হাতে ডুসেনকে ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন শাদাব খানই।  আউট হওয়ার আগে ডুসেন ৪৭ বলে এক চার আর এক ছক্কায় করেন ৩৬ রান। ডুসেনের বিদায়ে বেশি সময় টিকতে পারেননি মিলারও। দলীয় ১৯২ রানে শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে তিনি করেন ৩৭ বলে ৩১ রান। ফলে দলীয় দুইশত রানের কোটা পার করার আগেই ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাট করতে নেমে ক্রিস মরিস, রাবাদা আর এনগিদি ভালো করতে পারেননি। এই তিন জনকেই ফিরতে হয়েছে ওয়াহাব রিয়াজের বলে। মরিস ১৬ রান, রাবাদা ৩ রান আর এনগিদি আউট হন ১ রান করে। ফলে ৯ উইেেকটে ২৫৯ রানেরই আটকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তান জয় পায় ৪৯ রানে। ফেলুকুয়াও চেস্টা করেও দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। তিনি ৩২ বলে ৬ চারে ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে শাদাব খান আর ওয়াহাব রিয়াজ নেন তিনটি করে উইকেট। মোহাম্মদ আমির নেন দুটি উইকেট। এর আগে, লর্ডসে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৭ উইকেটে করে ৩০৮ রান।  হারিস সোহেল আর বাবর আজমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই স্কোরটা বড় করে দলটি। আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের ভালো ভাবেই সামলেছেন দু-ওপেনার ইমাম উল হক-ফখর জামান জুটি। ফলে ওপেনিং জুটিতেই ভালো সংগ্রহ আসে দলটির। এই জুটি ভাংগার আগেই পাকিস্তান পৌছে যায় ৮১ রানে। ফখর জামানের বিদায়ে ভাংগে ওপেনিং জুটি। ইমরান তাহিরের বলে আমলার হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ফখর জামান করেন ৪৪ রান। ৫০ বলে ৬ চার আর এক ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে বাবর আজম প্রথম থেকেই দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেছেন। সফলও হয়েছেন। অবশ্য দলীয় ৯৮ রানে পাকিস্তান হারায় দ্বিতীয় উইকেট। এবার অপর ওপেনার ইমাম উল হককেও বিদায় করেন ইমরান তাহির। ইমরান তাহিরের বলে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। ইমাম ৫০ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ৪৪ রান। ইমামকে বিদায় করতে নিজের বলে নিজেই দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরলেন ইমরান তাহির। নিজের বলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে উইকেটের ওপর এক হাতে বলটি তালুবন্দী করেন এই স্পিনার। ইমামকে ফিরিয়ে একটি রেকর্ড গড়েছেন তাহির। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এখন তিনি। ৩৯ উইকেট নিয়ে পেছনে ফেলেছেন অ্যালান ডোনাল্ডকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ৩৭ উইকেট ছিল তাহিরের। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচ ও ৬ ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে সপ্তম স্থানে আছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার সেবা বোলাররা যখন উইকেট নিতে ব্যর্থ ছিলেন সেখানে ইমরান তাহিরকে দিয়েই প্রথম সফল হন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস। কারণ ইমরান তাহির বল করতে এসেই ফিরালেন দুই ওপেনারকে। দলের শতরানের আগে দুই ওপেনারকে হারালেও মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেন বাবর আজম। অবশ্য হাফিজ তার ইনিংসটি বড় করতে পারেননি। পারেননি বেশি সময় টিকে থেকে দলকে এগিয়ে নিতে। দলীয় ১৪৩ রানে মার্করামের বলে এলবি আউট হন হাফিজ। আউট হওয়ার আগে ৩৩ বলে এক ছক্কায় তিনি করেন ২০ রান। হাফিজের বিদায়ের পর বাবর আজমের সাথে ব্যাট করতে নেমে দলকে ঠিকই এগিয়ে নেন হারিস সোহেল। এই জুটিই পাকিস্তানকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যায়। এই জুটি ভাংগার আগেই পাকিস্তান পৌছে যায় ২২৪ রানে। এই জুটির সংগ্রহ ৮১ রান। বাবর আজমের বিদায়ে ভাংগে দলের এই সেরা জুটি। বাবর আজমকে এনগিদির ক্যাচ বানিয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠা এই জুটি বিচ্ছিন্ন করেন ফেলুকুয়াও। আউট হওয়ার আগে ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন বাবর। ৮০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। বিশ্বকাপে বাবরের এটা দ্বিতীয় ফিফটি। বাবর আজমের বিদায়ে ব্যাট করতে নেমে ইমাদ ওয়াসিম শুরুটা করেছিলেন ঝড়ের বেগেই। কিন্তু টিকতে পারলেননা বেশি সময়। মাত্র ১৫ বলে খেলে ৩ চারে ২৩ রান করার পর এনগিদির বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। ফলে দুইশত রানের আগেই পাকিস্তান হারায় ৫ উইকেট। তবে ওয়াহাব রিয়াজকে নিয়ে দলের স্কোরটা তিনশত রানের কোটায় নিয়ে যান হারিস সোহেল। দলীয় ৩০৪ রানে মাত্র ৪ রান করে এনগিদির বলে বোল্ড হন ওয়াহাব রিয়াজ। আর দলকে ৩০৭ রানে পৌছে আউট হন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা হারিস সোহেল। হারিস সোহেলকেও বিদায় করেন এনগিদি। তবে আউট হওয়ার আগে ৮৯ রানের এক অসাধারন ইনিংস খেলেন হারিস। বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি তুলে নেন প্রথম ফিফটি। মাত্র  ১১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি তিনি।  তার ব্যাটে ভর করে তিনশ পেরোনো সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে লুঙ্গি এনগিদি তিনটি আর ইমরান তাহির নেন দুটি উইকেট। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ