ঢাকা, বুধবার 24 July 2019, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইরানের ওপর নতুন করে ‘কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল আমেরিকা

ক্যামেরা অন করে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞায় সই করছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ও।

ট্রাম্প এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘কঠোর’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সে লক্ষ্যে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

ইরানের গণমাধ্যম পার্স টুডে দাবী করছে, ট্রাম্প এমন সময় এ হাস্যকর দাবি করলেন যখন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা গত প্রায় চার বছরে ১৫টি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এ কথার সত্যতা নিশ্চিত করেছে যে, ইরান সামরিক কাজে তার পরমাণু কর্মসূচিকে ব্যবহার করছে না এবং দেশটি পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে।

গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা এবং আরো কিছু কারণে অতিরিক্ত এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তকে ‘ঘৃণ্য কূটনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ।

এক টুইট বার্তায় জারিফ ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘যুদ্ধে ইচ্ছুক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটির মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর দপ্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেইসঙ্গে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র আট শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। ওই আট কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন আইআরজিসি’র নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলীরেজা তাংসিরি, আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরআলী হাজিযাদে এবং আইআরজিসি’র  স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ পাকপুর।

হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী

মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরো জানান, আগামী সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনবে আমেরিকা।  মানুচিন দাবি করেন, নতুন করে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হবে। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, ইরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।

২০১৮ সালের মে মাসে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়।

এর পর দুদেশের সম্পর্ক তিক্ততার দিকে যেতে থাকে।

পরে ইরানের ওপর আরো চাপ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইরানের কাছ থেকে যারা তেল কেনে, তাদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

পরে ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাঙ্কারে কয়েকটি হামলার ঘটনাও ঘটে।

এরপর ইরানি কর্মকর্তারা তাঁদের ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন।

এর কয়েক দিনের মাথায় ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

ইরানের দাবি, মার্কিন গুপ্তচর ড্রোনটি তাদের ভূখণ্ডে এসেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল।

‘ইরানের সীমান্ত আমাদের কাছে রেডলাইন’— ড্রোন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন বার্তা দিয়েছে বলে জানায় ইরানের বিপ্লবী রেভল্যুশনারি গার্ড। 

রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, ড্রোনের কাছ দিয়েই ৩৫ যাত্রীসহ একটি সামরিক এয়ারক্রাফট উড়ে যাচ্ছিল।

ওই কর্মকর্তা জানান, ওই প্লেনটিও রেভল্যুশনারি গার্ড ভূপাতিত করতে পারত, কিন্তু করেনি।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ