ঢাকা, শনিবার 29 June 2019, ১৫ আষাঢ় ১৪২৬, ২৫ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কার এতো দুঃসাহস?

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় যুদ্ধঘোষণা সত্ত্বেও মাদকব্যবসা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। মহানগরী ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মাদক এখন সহজলভ্য বস্তু। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। দৈনিক অধিকারের রিপোর্টে প্রকাশ, ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার এসআই হেলাল প্রামাণিককে আট হাজার ইয়াবা ও দুই কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয় সম্প্রতি। পরে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই সঙ্গে গত ২৩ জুন রোববার রাতেই পীরগঞ্জ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পরের দিন ২৪ জুন সোমবার  সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান দৈনিক অধিকারকে বলেন, পাঁচ দিন আগে পীরগঞ্জ উপজেলার পীরডাঙ্গী থেকে মাদক কারবারি আকিমুল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা জানান, এসআই হেলাল প্রামাণিক তাঁদের ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা সাপ্লাই দিয়ে থাকেন। সেদিন থেকেই হেলালের ওপর নজরদারি শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পীরগঞ্জ থানার সরকারি কোয়ার্টার থেকে তাঁকে আটক করে। এ সময় তাঁর সহযোগী ঝাড়ুদার মানিককেও আটক করা হয়। পীরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজার রহমান দৈনিক অধিকারকে আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের দলটি অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ উল্লেখিত এসআই এবং ঝাড়ুদারকে আটক করা হয়। আটককৃত এসআই হেলাল প্রামাণিকের বাড়ি নওগাঁ জেলায় ও ঝাড়ুদার মানিকের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার মন্ডলাদাম গ্রামে। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি বজলুর রশিদ পত্রিকাটিকে আরও জানান, এসআই হেলালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পীরগঞ্জ থানায় দায়িত্বরত অন্য কেউ মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত কি না তাও তদন্ত করছে পুলিশ।
ঠাকুরগাঁওয়ের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে হয়। তবে কেবল পীরগঞ্জের এসআই হেলাল প্রামাণিক একাই মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত তা নিশ্চয়ই নন। এর আগেও পুলিশের কেউ কেউ মাদকব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে আশার কথা যে, পুলিশের দায়িত্বশীলরাই অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়েছেন। সব অপরাধীই উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে এমন নয়। তবে কারুর কারুরতো হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, পুলিশ ইচ্ছে করলে যেকোনও অপরাধীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে। আর এটাই পুলিশের অন্যতম কাজ। এজন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও কোনও কোনও পুলিশ সদস্যের পদস্খলন ঘটে। তবে এর হার যতো কমানো যায় ততোই দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ। আর এই পুলিশ কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে কার সাধ্য মাদকব্যবসার মতো বেআইনি ও সমাজবিনাশী কর্মকাণ্ডে জড়াবার দুঃসাহস করে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ