ঢাকা, রোববার 30 June 2019, ১৬ আষাঢ় ১৪২৬, ২৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সংসদে অর্থ বিল পাস

সংসদ রিপোর্টার : বড় ধরনের কোনও সংশোধনী ছাড়াই জাতীয় সংসদে পাস হলো অর্থ বিল ২০১৯। গতকাল শনিবার রাত ৮টা ১২ মিনিটে বিলটি সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিলটি উপস্থাপনের পর ১০ জন সদস্য বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব আনেন। তারা হলেন- ফখরুল ইমাম (ময়মনসিংহ-৮), পীর ফজলুর রহমান (সুনামগঞ্জ-৪), কাজী ফিরোজ রশিদ (ঢাকা-৬), বেগম রওশন আরা মান্নান (মহিলা আসন-৪৭), রুস্তম আলী ফরাজী (পিরোজপুর-৩), হারুনুর রশিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), লিয়াকত হোসেন খোকা (নারায়ণগঞ্জ-৩, মোকাব্বির খান (সিলেট-২), বেগম রুমিন ফারহানা (মহিলা আসন-৫০) ও মোহাম্মদ শামীম হায়দার চৌধুরী (গাইবান্ধা-১)। তাদের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে অর্থবিল ২০১৯ সংসদে পাসের জন্য অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থাপন করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এটি ভোটে দেন এবং কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেটের ওপর সর্বশেষ আলোচনা করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে অর্থবিল জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুমতি দিতে স্পিকারের কাছে আবেদন করেন। স্পিকার তার আবেদন মঞ্জুর এবং প্রধানমন্ত্রীকে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে বিল উপস্থাপনের অনুমতি দেন।
ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পরেও বড় ধরনের কোনও সংশোধন ছাড়া অর্থবিল ২০১৯ সংসদে পাস হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের ওপর ১০ শতাংশ কর বহাল করা হয়েছিল। এটিকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক দাবির পরও তা আমলে নেয়নি সরকার। সঞ্চয়পত্রের ওপর ১০ শতাংশ কর বহাল রাখা হয়েছে। সুতা আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ৪ টাকা হারে করারোপের বিধান রাখা হয়েছে। অর্থবিল ২০১৯ এ শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য স্টক ডিভিডেন্ডের সমপরিমাণ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে শেয়ার বাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। শেয়ার বাজারের রিটেইল আর্নিংয়ের ক্ষেত্রে নিট মুনাফার ৭০ শতাংশ স্থানান্তর করলে ১০ শতাংশ হারে কর পরিশোধের বিধান রাখা হয়েছে।
সকালে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অর্থমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলেও দুপুরের বিরতির পর বিকাল ৩টায় তিনি অধিবেশনে যোগ দেন। পরে তিনি বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা উপস্থাপন করেন। এসময় বাজেট বক্তৃতায় তার অসুস্থতার বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ও অর্থবিল- ২০১৯ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের বেশকিছু বিষয় নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা-সমালোচনা হয়।

এবার সংসদে অর্থবিলও উত্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী : বাজেট বক্তৃতা পড়ে দেয়ার পর এবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অনুরোধে তার পক্ষে অর্থবিলও সংসদে উত্থাপন করলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল শনিবার অসুস্থ অর্থমন্ত্রীর অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন।
বাজেট পাসের আগে বাজেটের রাজস্ব অংশের আলোচিত-সমালোচিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে পরিবর্তন প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী তা সংশোধন করতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। পরে অর্থমন্ত্রী তা সংশোধন করে নিলে অর্থ বিল সংসদে পাস হয়।
এর আগে গত ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অসুস্থতার কারণে জাতীয় সংসদে তার পক্ষে বাজেটের বড় অংশই পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সেদিন বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপনের জন্য ফ্লোর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী খুবই অসুস্থ। তার চোখে অপারেশন হয়েছে, ১৫ মিনিট পরপর চোখে ড্রপ দিতে হয়। আমারও চোখে অপারেশন হয়েছে, ঠা-া লেগেছে, কথা বলতে গেলে কাশি আসে।
তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। তারপরও আপনি (স্পিকার) অনুমতি দিলে বাজেটের বাকিটা আমি উপস্থাপন করব। এরপর তিনি বিকাল ৪ টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অবশিষ্ট বাজেট বক্তব্য শেষ করেন। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনও করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর সংসদে বাজেটের ওপর পুরো আলোচনায় অনুপস্থিত থাকলেও শনিবার অধিবেশনে যোগ দেন অর্থমন্ত্রী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে বসে বাজেট আলোচনায় কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
পরে স্পিকার জানান, অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন অর্থ বিল সংসদে তোলার জন্য। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে বিলটি সংসদে উত্থাপন করার আহ্বান জানান।
বিলের ওপর জনমত যাচাই ও সংশোধনী নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের বিভিন্ন কথার জবাবও দেন শেখ হাসিনা। পরে সংসদে কন্ঠভোটে অর্থ বিল পাস হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ