ঢাকা, বুধবার 03 July 2019, ১৯ আষাঢ় ১৪২৬, ২৯ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এটিএম আজহারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ॥ রাষ্ট্রপক্ষের শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদ-াদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের পক্ষে খালাস চেয়ে আপিল আবেদনের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে আসামীপক্ষে প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও জয়নুল আবেদীন তুহিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তাদেরকে সহযোগিতা করেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।
এটিএম আজহারুল ইসলামের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুরু করেন। এরপর আদালত আজ বুধবার আবার যুক্তি উপস্থাপনের জন্য রাখেন।
এটিএম আজহারের পক্ষে যেসব যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে তা উল্লেখ করে আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার জেরায় স্বীকার করেছেন যে, একাত্তর সালের ধর্ষন, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনায় এটিএম আজহার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। আর যে তিনটি অভিযোগে তাকে ফাসিঁর দন্ড দেয়া হয়েছে, সেখানে দুই নাম্বার অভিযোগের দুই জন স্বাক্ষীর মধ্যে একজন বলেছেন, ৬ কিলোমিটার দূরে থেকে দেখেছেন আর অন্যজন বলেছেন ৩ কিলোমিটার দূরে থেকে ঘটনা দেখেছেন।
যুক্তি উপস্থাপনে আরো বলা হয়, মামলার ৪ নাম্বার অভিযোগে একজন স্বাক্ষী বলেছেন, আজহারুল ইসলাম ও তিনি একই ক্লাসে কারমাইকেল কলেজে পড়তেন। অথচ ডকুমেন্টে দেখা যাচ্ছে, তাদের দুজনের সেশন ভিন্ন এবং দু’জন দুই বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ৫ নাম্বার অভিযোগে একজন স্বাক্ষী বলেছেন, একাত্তর সালে তার কোন সন্তান ছিল না, কিন্তু ডকুমেন্টে দেখা যায় তিনি ছয় সন্তানের জননী ছিলেন।
৬ নাম্বার অভিযোগের যুক্তিতে বলা হয়েছে, এ অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে একাত্তর সালের ১ ডিসেম্বর কিন্তু স্বাক্ষী বলেছে একাত্তর সালের সেপ্টেম্বরে ঘটেছে। আর দুই নাম্বার অভিযোগের ঘটনা হলো মোকসেদপুর গ্রামের, আর দু’জন স্বাক্ষী বলেছে, ঘটনা ঘটেছে রামনাথপুর গ্রামে। আর এ দু’ গ্রামের দুরত্ব এক কিলোমিটারেরও বেশি।
যুক্তি উপস্থাপনকালে খন্দকার মাহবুব হোসেন সোমবার আদালতে বলেছেন, ঘটনার প্রধান নায়ক ১৯৫ জন চিহ্নিত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে বাদ দিয়ে সহযোগী হিসেবে বানোয়াট সাক্ষ্য দিয়ে এটিএম আজহারুল ইসলামকে তার রাজনৈতিক কর্মকা-ের জন্য আসামী করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব সাক্ষী দেয়া হয়েছে তা বানোয়াট। সেফ হোমে রেখে এসব সাক্ষী তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ঘটনার প্রধান নায়ক বর্বর পাকিস্তান আর্মি। তাদের মধ্য থেকে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তদন্তের মাধ্যমে সনাক্ত করা হয়েছিল। তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়ে দীর্ঘদিন পর সহযোগী আসামী হিসেবে এই আসামীর বিচার ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
গত ১৮ জুন এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। আসামী পক্ষে এডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু হয়েছিলো।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন আদালত।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে মৃত্যুদ-াদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ