ঢাকা, বৃহস্পতিবার 04 July 2019, ২০ আষাঢ় ১৪২৬, ৩০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এটিএম আজহারের আপিলে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক ৮ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি

স্টাফ রিপোর্টার: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের খালাস চেয়ে আপিল আবেদনের ওপর শুনানিতে তার বিপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আগামী সোমবার তথা ৮ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ট্রাইব্যুনালের রায় থেকে সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাসহ অন্যান্য আসামির মামলায় আপিল বিভাগের রায় থেকে নানা উদ্ধৃতি দেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও জয়নাল আবেদীন তুহিন গত সোম ও মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তাদের সহযোগিতা করেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, আজহারকে রাজনৈতিক কারণে আসামি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছিল। তাদের ক্ষমা করে দিয়ে সহযোগী আসামিদের বিচার করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
এটিএম আজহারের আইনজীবীরা বলেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন ’৭১ সালের গণহত্যা, ধর্ষণ নির্যাতন, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের সাথে এটিএম আজহার জড়িত মর্মে কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আইনজীবীরা আরো বলেন, যে তিনটি চার্জে এটিএম আজহারকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে তার মধ্যে ২নং চার্জে দুজন সাক্ষী বলেছে ৬ কিলোমিটার ও সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনা দেখেছেন। আর ৪নং চার্জের সাক্ষী বলেছেন, তিনি ও এটিএম আজহার একই ক্লাসে পড়তেন। কিন্তু ডকুমেন্ট থেকে দেখা যায় এটিএম আজহার আর্সের ছাত্র এবং সাক্ষী সাইন্সের ছাত্র ছিলেন। আর তাদের দুই জনের সেশন ভিন্ন ছিল। এছাড়া ৫নং চার্জে রাষ্ট্রপক্ষের ১নং সাক্ষী বলেছে, তার কোনো সন্তান ছিল না। কিন্তু ডকুমেন্টে দেখা যাচ্ছে তার ৬ জন সন্তান ছিল। অপর দিকে চার্জ-৬ এর ঘটনা ঘটে ’৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু সাক্ষী বলেছে ঘটনা ঘটে ’৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।
গত ১৮ জুন এটিএম আজহার”ল ইসলামের আপিলের ওপর শুনানি শুর” হয়। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুর” হয়েছিলো। এর আগে গত ১০ এপ্রিল শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন আদালত।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এটিএম আজহারকে মৃত্যুন্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে এটিএম আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ