ঢাকা, শনিবার 6 July 2019, ২২ আষাঢ় ১৪২৬, ২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাগরকন্যা কুয়াকাটার পথে

দিনটি ছিল রোববার। তৈরি আছি আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থীরা। সবার ইচ্ছামতো ঠিক হলো সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের রূপসী কুয়াকাটার নৈসর্গিক রূপ দেখার। ভ্রমণটাকে প্রাণবন্ত করতে সঙ্গে ছিলেন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রুহুল আমিনসহ অত্র বিভাগের মোট ছয়জন সম্মানিত শিক্ষক ও দুজন কর্মচারী।
অধীর আগ্রহে রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা শুরু। বাস ছাড়তেই সবাই উল্লাসে মেতে উঠলাম। হইচই আর গানের তালে নেচে ক্লান্ত হয়ে এক সময় ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ ব্রেক কষার শব্দে ঘুম ভেঙে দেখলাম পায়রা সমুদ্রবন্দর। সাথে সাথে তুলে নিলাম ঘুমন্ত বন্ধুদের কিছু হাস্যকর ঘুমের ছবি। সকালের নাস্তা শেষ করে আবারও উঠে পড়লাম গাড়িতে।
রাস্তার দুই ধারের প্রাকৃতিক শোভা রূপকথার মতো মনে হচ্ছিল। প্রায় এগার ঘণ্টা বাসভ্রমণের পর বাস থেকে নেমেই দেখি সুউচ্চ ঢেউগুলো বিশাল জলরাশির গায়ে আছড়ে পড়ে জানান দিচ্ছে সাগরের চিরযৌনের কথা। সবার আগ্রহ যত দ্রুত সম্ভব সমুদ্রে নিজেকে সঁপে দেওয়ার।
দ্রুত হাত-মুখ ধুয়ে সবাই একসঙ্গে সৈকত পরিদর্শনে বের হলাম। প্রবল মুগ্ধতার মাঝে থেকেও আমি সাগরের বিশালতা দেখে তীব্রভাবে শূন্যতা অনুভব করতে লাগলাম।
দিগন্তে ছুঁয়ে থাকা সাগরকন্যার উত্তাল ঢেউয়ের মাথায় দুলতে থাকা নৌকা, প্রায় হাবুডুবু স্পিডবোটের ছুটে চলা, পাড়ে সারিবদ্ধ বাহারি রঙের ছাতার তলায় পেতে রাখা হেলান চেয়ার। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু হলো বিভিন্ন ধরনের খেলা। তারপর আমরা রৈ তুলে সমুদ্রের বুকে দিলাম ঝাঁপ। ভীতুরাও হঠাৎ সাহসী হয়ে উঠল।
কিছুক্ষণ দাপাদাপি আর ফটোসেশন সেরে ফিরলাম হোটেলে। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর ভ্রমণপিপাসু মানুষ বিকাল সাড়ে চারটার মধ্যে আবার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম।
সূর্যাস্ত দেখেই গেলাম সৈকতের কাছে শুঁটকি পল্লি এবং বার্মিজ ও রাখাইন মার্কেটে। পরে সন্ধ্যা ৭টায় আবার হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। কিছুক্ষণ পরে সবার অংশগ্রহণে শুরু হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণি পর্ব। রাতের সমুদ্রের গর্জন হোটেল থেকে শোনা যাচ্ছিল।
সাগরকন্যার গর্জনের টানে আবার সবাই গেলাম হিমশীতল পানির স্পর্শে শরীরে শিহরণ জাগানোর জন্য। প্রকৃতির সান্নিধ্য পেয়ে নির্মল আনন্দ আর গভীর প্রশান্তি অনুভব করতে লাগলাম। জ্যোৎস্নাবিলাস শেষে ফিরলাম হোটেলে।
স্বপ্নময় ছিল আমাদের কুয়াকাটা ভ্রমণ। তিনদিনের এ প্রাণবন্ত ভ্রমণ স্মৃতিপটে অবিনশ্বর হয়ে থাকবে!
-মো. আশিকুর রহমান

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ