ঢাকা, রোববার 7 July 2019, ২৩ আষাঢ় ১৪২৬, ৩ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রকৃতিঘেরা বোটানিক্যাল গার্ডেন একটু সবুজের ছোঁয়া

মুহাম্মদ নূরে আলম : ঢাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ঐতিহ্যবাহী ও আকর্ষণীয় স্থান এবং পুরাকীর্তি। এসব স্থান পর্যটকদের আকর্ষণ করে দারুণভাবে। এর একটি হচ্ছে বোটানিক্যাল গার্ডেন। আপনিও অবসরে সপরিবারে যেতে পারেন সেখানে। ঘুরে বেড়াতে কে না ভালোবাসে- আর এই বেড়ানোটা যদি হয় ছুটির দিনে তাহলে তো কথাই নেই। পরীক্ষা, ল্যাব ও নানান কাজের টেনশন থেকে মুক্তি পেতে এবং নতুনবোটানিক্যাল্যমে পরবর্তী সপ্তাহের জন্য কান্ত মনকে পুনরায় উজ্জীবিত করতে একটি সুন্দর ও মনোরম স্থানে বেড়ানো সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। ঠিক তেমনি একটি বেড়ানোর স্থান হলো জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেন।
বোটানিক্যাল গার্ডেন বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার্য দুর্লভ, বিদেশী ও প্রয়ােজনীয় গাছগাছালির বাগান। ইতিহাসে প্রথা বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রতিষ্ঠা ৩৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অ্যারিস্টটলের হাতে। ১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে ইতালিতে প্রথম সর্বজনীন বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠিত হলে প্রত্যেকটি ইউরোপীয় শহরে এই ধরনের একটি উদ্যান প্রতিষ্ঠা রেওয়াজে পরিণত হয়। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বোটানিক্যাল গার্ডেন রয়েল বোটানিক্যাল গার্ডেনস প্রতিষ্ঠিত হয় লন্ডনের শহরতলি কিউ-তে ১৭৫৯ সালে, যদিও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ১৮৪১ সালে। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন জ্যাকসন হুকার (১৭৮৫-১৮৬৫)। অতঃপর তাঁর পুত্র বিশ্বখ্যাত উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড্যাল্টন হুকারের (১৮১৭-১৯১১) হাতে এটি পরিপূর্ণ বোটানিক্যাল গার্ডেন হয়ে ওঠে। এই উদ্যান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বোটানিক্যাল গার্ডেন নির্মাণ, উদ্ভিদ সংগ্রহ ও গবেষণায় প্রভূত সাহায্য যুগিয়েছে এবং এখনও যোগাচ্ছে। ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ জাতীয় হার্বেরিয়াম প্রতিষ্ঠায় কিউ মূল্যবান টেকনিক্যাল সহায়তা দিয়েছে। সবুজ প্রকৃতি কিংবা গভীর অরণ্য জাহবা পাখি ডাকা ছায়াঘেরা নির্মল পরিবেশ বলতে যা বুঝায়, তার সব কিছুই রয়েছে রাজধানী ঢাকার মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে। কোথাও ঘন বনজঙ্গল কোথাও গভীর অরণ্যে, আবার কোথাও গ্রামীণ জীবনের মনোমুগ্ধকর আবেশে একটু হলেও স্বস্তি এনে দেয়। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন ঢাকার মাঝে এক বিশাল প্রাকৃতিক উদ্যান। জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান । বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম (ইংরেজি: National Botanical Garden of Bangladesh) বাংলাদেশে উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। কেন্দ্রটি ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেন নামেও পরিচিত। সাধারণ মানুষের কাছে মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন নামে পরিচিত। ১৯৬১ সালে প্রায় ২০৮ একর (৮৪ হেক্টর) জায়গা জুড়ে উদ্যানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকার আরেকটি উদ্যান বলধা গার্ডেন প্রশাসনিক দিক দিয়ে এই উদ্যানেরই অংশ। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্ভিদ উদ্যান। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন যেটি জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান নামেও পরিচিত। রাজধানী ঢাকার মিরপুরে চিড়িয়াখানার পাশেই অবস্থিত নয়নাভিরাম উদ্যানটি ১৯৬১ সালে ২০৮ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রকৃতিপ্রেমীদের আস্থার ঠিকানা এ উদ্যান। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী-বিদেশী উদ্ভিদ সংরক্ষণ, শিক্ষার্থী ও গবেষণাকারীদের জন্য কাজের সৃষ্টি এবং দর্শনার্থীদের বিরল সংগ্রহ, বৈচিত্র্য ও শোভাবর্ধনই যার মূল উদ্দেশ্য। উদ্যানের উদ্ভিদ বাগানগুলো ৫৭টি সেকশন সংবলিত। বোটানিক্যাল গার্ডেনে কি কি দেখবেন: ঢাকা শহরে বিশাল আকারে প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব বেশি নেই। অল্প যে কটি আছে, তার মাঝে একটি হল মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন। ২০৮ একর আয়তনের এই উদ্যানটিতে রয়েছে ১১টি জলাশয়, অনেক গুলো ছোট বড় পায়ে হাঁটা পথ। কোনটা পিচ ঢালা, কোনটা হয়ত ইটের, আবার একদম মেঠোপথ ও আছে। হাঁটতে হাঁটতে চারপাশে চোখে পড়বে বিভিন্ন প্রকৃতির গাছ। উঁচু টিলা আর নিচু জলাশয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে ভালই লাগবে সবার। জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে বর্তমানে ১১৭টি গোত্রভুক্ত ৯৫২ প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৬টি প্রজাতির ৩৫ হাজার বৃক্ষ, ৩১০ প্রজাতির ১০ হাজার গুল্ম , ৩৭৮ প্রজাতির ১২ হাজার বিরুৎ ও লতা জাতীয় উদ্ভিদ। ২০৮ একর উদ্যানটি মোট ৫৭টি সেকশনে বিভক্ত। রয়েছে শাপলা পুকুর ও গোলাকৃতির পদ্ম-পুকুর। শাপলা পুকুরে বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে শাপলা ফোটে। একসময় শীতকালে বড় জলাশয়গুলোতে হাঁসজাতীয় পরিযায়ী পাখিরা আসত। এখন আর আসে না। জাতীয় উদ্যানের ১.৫ একর জুড়ে রয়েছে মৌসুমি ফুলের বাগান। সালভিয়া, মর্নিংগ্লোরি, মেরি-গোল্ড, ডালিয়াসহ প্রায় ৫২ জাতের বিদেশি মৌসুমি ফুলের চাষ করা হয় এ বাগানে। বাগান ঘিরে রয়েছে একটি আঁকাবাঁকা কৃত্রিম লেক। ১৯৮০ সালে প্রায় ৩.৫ একর জায়গার উপর নির্মিত হয় উদ্যানের গোলাপ বাগান। দু’টি পৃথক বাগানে প্রায় ২০০ প্রজাতির গোলাপ সংগ্রহে রয়েছে। একটি গোলাপ বাগানের মাঝে রয়েছে গোলাকৃতির একটি জলাশয়। এই জলাশয়ে সংরক্ষিত রয়েছে ব্রাজিলের আমাজন লিলি। ১৯৮০-৮১ সালে নির্মাণ করা হয় উদ্যানের দেবদারু-ইউক্যালিপটাস বাগান। ইউক্যালিপটাসগুলো অস্ট্রেলিয়া থেকে সংগ্রহ করা। ১৬ প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি রয়েছে এখানে। বাঁশ-বাগানে রয়েছে প্রায় ২২ প্রজাতির বাঁশ। গর্জন বাগানের উত্তর পাশে সৃষ্টি করা হয়েছে ভেষজ উদ্ভিদের বাগান। এই বাগানে রয়েছে কালমেঘ, তুলসী, আতমোরা, শতমূলী, পুনর্নভা, থানকুনি, আদা, বোতল ব্রাশ, তেলাকুচা, কুমারী লতা, বাসক, বচসহ হরেক ভেষজ উদ্ভিদের সংগ্রহ। উদ্ভিদ উদ্যানের প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে একটি নার্সারি রয়েছে। এ নার্সারিতে ফুল, ফল, লতা, গুল্ম ইত্যাদি উদ্ভিদের চারা চাষ করা হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এই নার্সারি থেকে চারা কেনা যায়। প্রবেশমূল্য: বোটানিক্যাল গার্ডেন সপ্তাহে সাত দিনই ভােলা থাকে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে । বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশ ফি জপ্রতি ২০ টাকা। ১০ বছরের নিচের শিশুদের প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষ শিক্ষা সফরে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৩ টাকা। সতর্কতা: প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং একটু নির্জন হবার কারণে সন্ধ্যার পরে এই এলাকাটি নিরাপদ থাকে না। তাই একটু হাতে সময় নিয়েই বের হয়ে আসা উচিত। ভেতরে খাবারের ফেরিওয়ালা পাবেন, তবে তারা উচ্চমূল্য নিয়ে থাকে। তাই খাবার সাথে নেয়া ভাল হবে।
তথ্য মতে, প্রতি বছর এই উদ্যানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বৃক্ষপ্রেমী ও গাছ বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ২২ লাখ মানুষ পরিদর্শন করে থাকে। এটিই দেশের বৃহত্তম উদ্ভিদ উদ্যান। এই উদ্যানের উল্লেখযোগ্য বাগানগুলোর মধ্যে রয়েছে গোলাপ, পাইন, ফল বাগান, বাঁশ বাগান, পাম, ঔষধি, বেত, মুর্তা, শাল ও জবা বাগান।
এ ছাড়া পদ্মা পুকুর, শাপলা পুকুর, ক্যাকটাস হাউজ, অর্কিড হাউজ, ইন্ডাের গাছের জন্য নেট হাউজ, কৃত্রিম লেক, অচিন বৃক্ষ ও শক্তিসাগর প্রভৃতি রয়েছে। সব ঋতুতেই বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রকৃতি মানুষকে কাছে টানে। সবুজ পলস্নবে, কৃষ্ণচূড়া, হিজল-জারুলে যেন চারদিকে শুধু সুন্দরের পসরা সাজিয়েছে নির্মল প্রকৃতি। চোখে পড়বে কৃত্রিম লেকে সাদা ও লাল শাপলার মায়াবী প্রতিযোগিতা। উদ্যানের প্রবেশের সময় চোখে পড়বে ফুল বাগানে নানা প্রজাতির ফুল, যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। বর্তমানে ১৩৪ উদ্ভিদ পরিবারভুক্ত এক হাজার ১০ প্রজাতির গাছপালা রয়েছে এ উদ্যানে। এগুলোর মধ্যে ৩০৬ প্রজাতির ৩৩ হাজার ৪১৩টি বৃক্ষ, ২০১ প্রজাতির ১৩ হাজার ৯২টি গুল্ম, ৪৪১ প্রজাতির ২০ হাজার ৭৪৬ বিরুৎ ও ৬২ প্রজাতির এক হাজার ১৯০টি লতাজাতীয় গাছ আছে। বৃক্ষ শনাক্ত করার জন্য প্রতিটি গাছের গায়ে নামফলক লাগানো রয়েছে, যাতে সহজেই দর্শনার্থীরা ফলক দেখে বৃক্ষের সাথে পরিচিত হতে পারেন। দেশী-বিদেশী অনেক গাছের নাম। জানা যাবে এ জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান থেকে। জানা যাবে গাছের বৈজ্ঞানিক নামও।
প্রধান ফটক থেকে একটু সামনের দিকে দেখা যায় সারি সারি দেবদারু আর ঝাউবন। আর অস্ট্রেলিয়ার সিলভার ওক, জাকারান্ডা ও ট্যাবে বুইয়া, জাপানের কপূর, মালয়েশিয়ার ওয়েল পাম, থাইল্যান্ডের রামবুতাম। চৌরাস্তা থেকে উত্তরের রাস্তা ধরে এগোলে আছে কপূর, আগর,
ম্যাগনোলিয়া, শ্বেত চন্দন, গিলরিসিডিয়া, ফার্ন কড়ই, তুন, কেশিয়া নডুসা, ট্যাবেবুইয়া ও চেরি প্রভৃতি গাছ। এখানে ক্যাকটাসের এক বিশাল সংগ্রহ চোখে পড়বে। আরো দেখা যায় ওল্ডম্যান, ফিশহুক ক্যাকটাস, ম্যামিলারিয়া, ক্ষেপালিয়া, মেলো ক্যাকটাস, গোল্ডেন ব্যারেল, সিরিয়াম হেক্সোজেনাস, র্যাটস টেইল, আপাংসিয়া সিডাম, হাওয়ার্থিয়া, পিকটোরিয়া রাখা হয়েছে স্বচ্ছ কাচঘরে। উদ্যানের গোলাপ বাগানের ভেতর শান বাঁধানো জলাধারে আছে ব্রাজিলের জলজ উদ্ভিদ আমাজন লিলি। অফিস আঙিনা ঘেঁষে আছে নেট হাউজ ও নার্সারি। উদ্যানের অফিস এলাকার পশ্চিম পাশে অর্কিড হাউজ। সাথেই রয়েছে অ্যামহাসটিয়া অ্যাভোকাডো, বেগুনি এলামান্ডা, থাইল্যান্ডের গন্ধরাজ। গর্জন বাগানের উত্তর পাশে ভেষজ উদ্ভিদ বাগান। কালো মেঘ, তুলসী, আতমোরা, শতমূলী, পুনর্নভা, থানকুনি, কুমারি লতা, বাসক, বচসহ আছে হরেক ভেষজ উদ্ভিদের সংগ্রহ। বোটানিক্যাল গার্ডেনের মাঝ বরাবর রয়েছে একটি বিশাল বাঁশ বাগান। এখানে রয়েছে দেশী-বিদেশী ২২ প্রজাতির বাঁশ ও ঘন বেত গাছ। বাঁশ বাগানে একটু দাঁড়িয়ে অনেকেই গ্রামীণ আবহ খুঁজে পাবেন। মন-প্রাণ শীতল হবে বাঁশ বাগানের স্নিগ্ধ হাওয়ায়। কোনো কোনো জায়গায় ঘন জঙ্গল আর উঁচু উঁচু গাছের কারণে সূর্যের আলো দেখা যায় না। এমন দৃশ্য দেখে মনে হতে পারে পৃথিবীর কোনো বিখ্যাত ম্যানগ্রোব এলাকায় অবস্থান করছেন। বোটানিক্যাল গার্ডেনে কৃত্রিম লেকে রয়েছে শাপলা পুকুর। বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা বোটানিক্যাল গার্ডেনের শোভা যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি দর্শনার্থীদের জন্য এ যেন হারিয়ে ফেলা গ্রামীণ জীবন। এখানে রয়েছে একটি সুবিশাল গোলাপ বাগান। এখানে রয়েছে প্রায় ২০০ প্রজাতির গোলাপ। গোলাপের সৌরভ ও সৌন্দর্য আপনার সৌন্দর্যপিপাসু মনকে ভরিয়ে রাখবে। পাশেই রয়েছে সুবিশাল বিনোদন কেন্দ্র। ছেলেমেয়েদের উদ্ভিদ চেনানোর পাশাপাশি প্রকৃতির ভেতরে একটু পরিচিত বিনোদনও দিতে পারবেন। রয়েছে উঁচু-নিচু রাস্তা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন বোটানিক্যাল গার্ডেনের সৌন্দর্য উপভােগ করার জন্য। কেউ সহপাঠী আবার কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে আসেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য পূর্বানুমতি নেয়া লাগে। জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা বোটানিক্যাল গার্ডেন একদিকে যেমন একটি নির্মল বিনোদন কেন্দ্র, অন্য দিকে ছোটদের বিভিন্ন গাছের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এখানে যেতে পারেন। বর্তমানে গ্রামেও সব গাছের দেখা মেলা ভার। এখানে যেহেতু গাছ সংরক্ষণ করা হয়, তাই সব ধরনের গাছের দেখা মেলে। আর এসব গাছের সাথে পরিচিত হলে ছেলেমেয়েদের প্রকৃতি বিষয়ক জ্ঞানের পরিধি বেড়ে যাবে। এ ছাড়াও এখানে দেখা মিলবে একেবারে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা নানা ধরনের পাখপাখালি ও জীবজন্তুর। বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিচালক মোল্যা রেজাউল করিম জানান, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানটি আমাদের দেশের জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়েছে। এই উদ্যানের সমৃদ্ধির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে বুঝতে পারেন শহরের বুকে এ ধরনের উদ্যান পরিবেশের জন্য কতটা নিরাপদ। ঢাকার ভেতরে যে গভীর অরণ্য রয়েছে, তা দেশবাসীকে জানতে হবে; জানাতে হবে।
কিভাবে যাবেন: গুলিস্তান থেকে বিআরটিসি বাসসহ আরো অনেক বাস পাবেন। মতিঝিল থেকে ও বিআরটিসি, আজমেরী, পাঞ্জেরীসহ বেশ কয়েকটি বাস আছে মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন যাবার জন্য। গাবতলি বাসস্ট্যান্ড থেকে ছোট লেগুনায় করে ১০-১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে সরাসরি বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাওয়া যায়। সদরঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে মিরপুর-১ এ যে সব গাড়ী গুলো যায় তাতে উঠলে ২৫-৩৫ টাকা ভাড়া দিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাওয়া যায়। এছাড়াও ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে বাসে করে মিরপুর দশ অথবা মিরপুর এক এ গিয়ে এর পরে সেখান থেকে রিকশা করে যাওয়া যাবে বোটানিক্যাল গার্ডেন। পুরো বোটানিক্যাল গার্ডেন জুড়েই আছে বিভিন্ন আকারের পায়ে হাঁটা পথ। জানেন কী ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশেই হলো জাতীয় চিড়িয়াখানা।
ইচ্ছে হলে প্রকৃতির উদ্ভিদের সঙ্গে বন্যপ্রাণীও দেখে আসতে পারেন। বলতে পারেন, কলা বিক্রি এবং রথ দেখা-একই সঙ্গে হলো, এই আর কি। মিরপুরে উত্তর দিকে বেড়িবাঁধ এর কাছাকাছি রয়েছে ঢাকা চিড়িয়াখানা, ঠিক তার পাশেই করা হয়েছে এই উদ্যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ